ধর্ষণ মামলায় নির্দোষ ইমাম, ডিএনএতে ধরা পড়ল ভাই

ভুক্তভোগী ইমাম মোজাফফর আহমদ। ছবি: সংগৃহীত
ফেনীর পরশুরামে ধর্ষণের অভিযোগে এক মাস দুই দিন কারাভোগের পর নির্দোষ প্রমাণিত হয়েছেন এক মসজিদের ইমাম। ডিএনএ পরীক্ষায় দেখা গেছে, কিশোরীর গর্ভজাত সন্তানের পিতা তারই ভাই। এ ঘটনায় এলাকাজুড়ে সৃষ্টি হয়েছে ব্যাপক চাঞ্চল্যের।
নির্দোষ প্রমাণিত ইমাম মোজাফফর আহমদ উপজেলার উত্তর টেটেশ্বর গ্রামের আবুল বাশারের ছেলে। মামলার তদন্ত শেষে তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ থেকে অব্যাহতির আবেদন করেছে পুলিশ। একই সঙ্গে কিশোরীর ভাই মোরশেদের বিরুদ্ধে আদালতে দাখিল করা হয়েছে অভিযোগপত্র।
স্থানীয়দের ভাষ্য, ২০১৯ সালে বক্স মাহমুদ ইউনিয়নের দক্ষিণ টেটেশ্বর গ্রামের একটি মসজিদে আরবি পড়তেন রুবি আক্তার। কয়েক বছর পর তিনি অন্তঃসত্ত্বা হলে ওই মসজিদের ইমাম মোজাফফর আহমদের বিরুদ্ধে আনা হয় ধর্ষণের অভিযোগ। পরে থানায় মামলা হলে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
এক মাস দুই দিন কারাভোগের পর জামিনে মুক্ত হন মোজাফফর। পরে আদালতের অনুমতিতে ডিএনএ পরীক্ষা করা হলে সামনে আসে ভিন্ন চিত্র। তদন্তে জানা যায়, রুবির সন্তান তার ভাই মোরশেদের।
মামলার নথি বলছে, ২০২৪ সালের ২২ ডিসেম্বর রাজধানীর মালিবাগে সিআইডির ফরেনসিক ল্যাবে পাঠানো হয় মোজাফফর আহমদকে। সেখানে পরীক্ষা করা হয় রুবি আক্তারের সংরক্ষিত নমুনাও। ২০২৫ সালের ২৫ জানুয়ারি তদন্ত কর্মকর্তার কাছে পাঠানো প্রতিবেদনে জানানো হয়, ওই নমুনা থেকে প্রকৃত তথ্য নিশ্চিত হওয়া সম্ভব হয়নি।
পরে আদালতের অনুমতিতে মোজাফফর, রুবি ও তার সন্তানের কাছ থেকে সংগ্রহ করা হয় নতুন নমুনা। একই সময়ে পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে রুবি দাবি করেন, তার ভাই মোরশেদের ধর্ষণের ফলেই জন্ম হয়েছে এই সন্তানের এবং তাকে বাঁচাতেই ফাঁসানো হয়েছে মোজাফফরকে।
এরপর গত বছরের ১৯ মে গ্রেপ্তার করা হয় মোরশেদকে। আদালতে ঘটনার দায় স্বীকার করেন তিনি। পরবর্তীতে আদালতের নির্দেশে সংগ্রহ করা হয় রুবি, মোরশেদ ও শিশুর ডিএনএ নমুনা। পরীক্ষার প্রতিবেদনে মোরশেদ ও শিশুর ডিএনএ’র মিল পাওয়া যায় ৯৯ দশমিক ৯৯ শতাংশ।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক শরীফ হোসেন আদালতে জমা দেওয়া প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন, মোজাফফরের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি। তাই করা হয়েছে মামলা থেকে অব্যাহতির আবেদন।
ভুক্তভোগী মোজাফফর আহমদ বলেন, এই ঘটনায় সামাজিকভাবে চরম হেনস্তার শিকার হয়েছেন তিনি। মামলার খরচ চালাতে বিক্রি করতে হয়েছে পাঁচ শতক জমি। হারিয়েছেন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের খণ্ডকালীন চাকরিটিও। এখন অন্তত অপমান থেকে মুক্তি পাওয়ার আশা তার।
মোজাফফরের আইনজীবী আব্দুল আলীম মাকসুদ জানান, কাউকে ফাঁসাতে এমন ঘটনা ঘটানো অত্যন্ত ন্যক্কারজনক।
ডিএনএ পরীক্ষার প্রতিবেদন পাওয়ার পর মোজাফফরকে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন পরশুরাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশরাফুল ইসলাম।



