পতিসরে রবীন্দ্র জন্মোৎসব ৮ মে, দিনব্যাপী কর্মসূচি

ছবি: আগামীর সময়
বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জমিদারি পরগানা ছিল ‘কালিগ্রাম’। পতিসরে তার কাচারি বাড়ি। পাশেই নাগর নদ। ১৮৯১ সালে জমিদারি ভাগ পেয়ে তিনি প্রথম এখানে এসেছিলেন। এরপর বিভিন্ন সময় কখনও পদ্মা বোট নামে বিশেষ বজরায় আবার কখনও পালকিযোগে আসা-যাওয়া করেছেন।
জমিদার হয়েও রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ছিলেন সাধারণ। জমিদারি প্রথা ভেঙে আজীবন ছুটেছেন মানুষের কল্যাণে। বাংলাদেশে যে কয়টি তার স্মৃতি বিজরিত স্থান আছে, তার মধ্যে পতিসরই ছিল কবির সবচেয়ে প্রিয়। এখানকার প্রকৃতি আর সহজ সরল প্রজার ভালোবাসা রবীন্দ্রনাথকে করেছে মুগ্ধ।
কবির সৃষ্টিকর্ম জুড়ে মিশে আছে পতিসরের মাটি ও মানুষ। কাচারিতে ঢুকতেই দেখা মেলে সংরক্ষণ করা তাঁর অসংখ্য স্মৃতি চিহ্ন। তাঁর এই প্রিয় তীর্থস্থান থেকে তিনি শেষবারের মতো বিদায় নিয়েছিলেন ১৯৩৭ সালে।
১৮৬১ সালে কলকাতার জোড়াসাঁকোর বিখ্যাত ঠাকুর পরিবারে জন্মগ্রহণ করেছিলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। আগামী ২৫ বৈশাখ তাঁর ১৬৫তম জন্মবার্ষিকী। এই দিনটিতে কবির স্মৃতি বিজরিত স্থানগুলোতে জাতীয়ভাবে উদযাপন করা হয়। এবারও চলছে সেই প্রস্তুতি।
পতিসরে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় জেলা প্রশাসন দিনব্যাপী কাচারি বাড়ির আঙিনায় নানা কর্মসূচি বাস্তবায়নের পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। ৮ মে দিনব্যাপী আয়োজনের মধ্যে রয়েছে আলোচনাসভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং নাগর নদের তীরে বসবে গ্রামীণ মেলা।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দিতে ৮ মে সকালে আসবেন পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। মন্ত্রীর একান্ত সচিব ড. মো. মনিরুজ্জামান বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
আত্রাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান জানিয়েছেন, উৎসবের দিন সকালে কাচারি বাড়ি আঙিনায় দেবেন্দ্র মঞ্চে আলোচনাসভায় দেশবরেণ্য কবি-সাহিত্যিকরা বিশ্বকবির জীবন ও কর্ম নিয়ে আলোচনা করবেন। সেই লক্ষ্যে কবির কাচারি বাড়ি ও দেবেন্দ্র মঞ্চ প্রস্তুত করা হচ্ছে । ৮ মে দর্শনার্থীদের জন্য কাচারি বাড়ি রাখা হবে উন্মুখ।
প্রস্তুতির অংশ হিসেবে কাচারি বাড়ি সাজানো হয়েছে নতুন করে। বিশ্বকবির স্মৃতিচিহ্ন ও ব্যবহৃত জিনিসপত্রগুলো প্রদর্শনের জন্য স্থাপন করা হয়েছে। তাঁর ছবি, হাতে লাখা পত্র, কবিতা, গান ও চিত্রকর্মগুলো শোভা পাচ্ছে।
অনুষ্ঠানের আয়োজন নিয়ে নওগাঁর পুলিশ সুপার তারিকুল ইসলাম বলছেন, বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্মজয়ন্তীর অনুষ্ঠান ঘিরে পুলিশের পক্ষ থেকে ব্যাপক প্রস্তুতি রাখা হয়েছে। এরই মধ্যে বেশ কয়েকবার পুলিশের একাধিক টিম পরিদর্শন করেছে পতিসর।
অনুষ্ঠান সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার ক্ষেত্রে জেলা পুলিশ, গোয়েন্দা শাখা ও এর বাইরেও সাদা পোশাকে কাজ করবে বেশ কয়েকটি টিম।
নওগাঁর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলামের ভাষ্য, পতিসরে রবীন্দ্র জন্মোৎসব উপলক্ষ্যে স্থানীয় অংশজন ও সংশ্লিষ্ট সকলের সঙ্গে জেলা পর্যযায়ে এবং উপজেলা পর্যায়ে প্রস্তুতি সভা করা হয়েছে। সে মোতাবেক নেওয়া হচ্ছে প্রন্তুতি।
স্থানীয় নওগাঁ-৬ আসনের সংসদ সদস্য (আত্রাই-রাণীনগর) শেখ রেজাউল ইসলাম রেজু জানালেন, উৎসব উপলক্ষে মানুষের মাঝে তৈরি হয়েছে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা। অনুষ্ঠান সফল করতে সকলে মিলে কাজ করছে।



