লক্ষ্মীপুরের সরকারি হাসপাতালগুলোতে মিলছে না ভ্যাকসিন

ছবি: আগামীর সময়
জলাতঙ্ক ঝুঁকিতে আতঙ্কগ্রস্ত দিন কাটছে এলাকাসীর। প্রতিদিন গড়ে শতাধিক রোগী জলাতঙ্ক ভ্যাকসিন নিতে আসেন সরকারি হাসপাতালে। অথচ জীবনরক্ষাকারী এই ভ্যাকসিন মিলছে না লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে। একই চিত্র উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতেও। এই সংকট চলছে গত ৩ মাস থেকে।
ফলে কুকুর কিংবা বিড়ালের কামড়ে আক্রান্ত রোগীকে বেশি টাকায় ভ্যাকসিন কিনতে হচ্ছে ফার্মেসি থেকে। চিকিৎসকরা জানান, জলাতঙ্ক নাম শুনলেই মানুষ আতঙ্কিত হয়। কুকুর, বিড়াল বা অন্য অনেক প্রাণীর কামড়ের শিকার হলে আক্রান্ত ব্যক্তির জন্য একমাত্র নিরাপদ উপায় ভ্যাকসিন গ্রহণ। স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগ বলছে, চাহিদাপত্র দিয়েও ভ্যাকসিন বরাদ্দ পাওয়া যাচ্ছে না।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জেলা সদর হাসপাতালে প্রতিদিন ভ্যাকসিন নিতে আসেন শতাধিক রোগী। জেলা সদর হাসপাতাল ছাড়াও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেও ভ্যাকসিনের চাহিদা বেড়েছে। হাসপাতালের জরুরি বিভাগে কুকুর-বিড়ালে কামড়ানো রোগী এসে শুনছেন ভ্যাকসিন নেই। অনেক ক্ষেত্রে চিকিৎসকরা বাইরে থেকে তা কিনে নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন। জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি লক্ষ্মীপুরে কুকুর ও বিড়ালের আক্রমণের শিকার রোগীর সংখ্যা বেড়েছে। এ কারণে জলাতঙ্ক ভ্যাকসিনের চাহিদাও বেড়েছে অনেক। এদিকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে সরবরাহ বন্ধ থাকায় গত ৩ মাস থেকে জলাতঙ্ক ভ্যাকসিনের মজুদ শূন্য। ফলে অধিকাংশই অধিক টাকায় বাইর থেকে কিনতে হচ্ছে।
ব্যবসায়ী কবির হোসেন জানান, বিড়ালের আঁচড়, এরপর দ্রুত হাসপাতালে ছুটে আসি। কিন্তু এখানে এসে জানতে পারি হাসপাতালে কোনো ভ্যাকসিন নেই। বাইরের ফার্মেসিতে পাওয়া যাচ্ছে। ফলে বাধ্য হয়ে সেখান থেকে ৪৮০ টাকা দিয়ে একটি ভ্যাকসিন কিনে নিই। তিনি আরও জানান, ফার্মেসিতে ভ্যাকসিন পাওয়া যাচ্ছে, কিন্তু সরকারের সরবরাহ নেই কেন। আমার টাকা থাকায় আমি ভ্যাকসিন কিনতে পেরেছি, কিন্তু অনেক মানুষ আছে তারা ভ্যাকসিন না পেয়ে ফিরে যাচ্ছে ৷ সরকারকে এবিষয়ে দ্রুত ভাবতে হবে।
ইনসেপ্টা ফার্মাসিউটিক্যালসের বিপণন কর্মকর্তা আবদুল মালেক জানান, ফার্মেসিগুলো থেকে পাওয়া যাচ্ছে ভ্যাকসিনের ব্যাপক অর্ডার। সরবরাহ করছি আমরাও।
লক্ষ্মীপুর শহরে প্রতি মাসে ৫০০-৭০০ ভ্যাকসিনের চাহিদা রয়েছে। সদর হাসপাতালে ভ্যাকসিন চালু হলে তা ১০০-তে নেমে আসবে। সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. অরুপ পালের ভাষ্য, জলাতঙ্ক প্রাণঘাতী রোগ। কামড়ের পর নির্ধারিত সময় অনুযায়ী ভ্যাকসিন না নিলে মৃত্যুঝুঁকি অনিবার্য। তাই রোগীকে বাধ্যতামূলক চার থেকে পাঁচ ডোজ ভ্যাকসিন নিতে হয়। তিনি আরও জানান, সম্প্রতি লক্ষ্মীপুরে জলাতঙ্ক ভ্যাকসিনের চাহিদা বাড়ছে। বিশেষ করে পোষা বিড়ালের আঁচড় দেওয়া রোগীই বেশি। যারা বিড়াল পালন করেন তাদের আরও সতর্ক হতে হবে।
এ ছাড়াও ডা. অরুপ জানান, প্রতিদিনই আসেন শতাধিক রোগী। কিন্তু সরকারের সরবরাহ বন্ধ থাকায় আমরা ভ্যাকসিন দিতে পারছি না। রোগীরা যদি বাইর থেকে কিনে আনেন, তাহলে আমরা তা দিয়ে দিই। এ ব্যাপারে লক্ষ্মীপুরের সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ আবু হাসান শাহীন বলেছেন, হাসপাতালে জলাতঙ্ক ভ্যাকসিনের মজুদ নেই। সরকার থেকেই সরবরাহ বন্ধ। আমরা স্থানীয় ব্যবস্থাপনায় ২০০ ভ্যাকসিন কিনেছি, যা ২০ দিনেই শেষ। প্রতিটি উপজেলার জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে আলাদা আলাদা চাহিদাপত্র দিয়ে রাখা হয়েছে। আশা করছি শিগগিরই ভ্যাকসিন সংকটের সমাধান হবে।



