মানিকগঞ্জ
ভালো নেই প্রেসিডেন্ট জিয়ার ঐতিহাসিক ‘কাশাদহ সেচ প্রকল্পের’ কৃষকেরা

সংগৃহীত ছবি
মানিকগঞ্জে শিবালয়ের বিভিন্ন এলাকায় শুরু হয়েছে বোরো ধানের আবাদ। সরিষার কারণে একটু দেরিতে শুরু হয় শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ঐতিহাসিক 'কাশাদহ সেচ প্রকল্পের' ইরি-বোরোর আবাদ। সে লক্ষে সেচ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য চলছে ব্যাপক প্রস্তুতি। কিন্তু এই সেচ প্রকল্পের পানির হাউজের পশ্চিম পাশে যমুনা নদীতে বিশাল এক চর পড়ায় ইরি-বোরো আবাদের ভরা এ মৌসুমে সেচ সংকটের আশঙ্কায় ভুগছেন আরিচা কাশাদহ সেচ প্রকল্পের কৃষকরা।
উক্ত সেচ প্রকল্পের কার্যক্রম পুরোদমে শুরু হবার আগেই চর কেটে পানির সুব্যবস্থা না করলে এবার সেচ সঙ্কটের আশঙ্কা রয়েছে। এতে এবার চরমভাবে ব্যাহত হবে এ সেচ প্রকল্পের আওতায় বোরোর আবাদ এবং খাদ্য সংকটের সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন এ অঞ্চলের কৃষকরা। সেচ প্রকল্পের পক্ষ থেকে অতিদ্রুত চরকেটে ক্যানাল তৈরী করে সেচ প্রকল্পের পানি সরবরাহের জন্য শিবালয় উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও কৃষি বিভাগসহ সংশ্লিষ্টদেরকে জানানো হয়েছে।
জানা যায়, ১৯৭৯ সালের ১ ডিসেম্বর তৎকালীন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান খাল খনন কর্মসূচীর মাধ্যমে, এই সেচ প্রকল্পটি চালু করেন। প্রথম বছর এই সেচ প্রকল্পটিতে ১৫০০ একর জমিতে ইরি-বোরোর আবাদ করা হয়েছিল। এসময় ২০টি পাওয়ার পাম্প দিয়ে যমুনা নদী থেকে পানি তোলার মাধ্যমে এই সেচ প্রকল্পটি চালু করা হয়েছিল। সেখানে এখন মাত্র ৩টি পওয়ার পাম্প দিয়ে সেচ প্রকল্পটি কোন রকমে চালু রাখা হয়েছে। দীর্ঘদিন এভাবে খুড়িয়ে খুড়িয়ে চলতে থাকে এ সেচ প্রকল্পটি।
ঐতিহ্যবাহী আরিচা কাশাদহ সেচ প্রকল্পের মাধ্যমে যমুনা নদীর পাড়ে পাম্প বসিয়ে সরাসরি নদীর পানি দিয়ে শিবালয় উপজেলার ১২টি গ্রামের ২ হাজার কৃষক প্রায় ১২শ' বিঘা বা ৩৯৬ একর জমিতে দীর্ঘ ৪৬ বছর যাবত স্বল্প খরচে বোরো আবাদ করে আসছেন। এতে একদিকে নদীর আয়রনমুক্ত পানি দেওয়ায় জমির উর্বরতা শক্তি ঠিক থাকছে, অপরদিকে সেচ খরচও অনেক সাশ্রয় হচ্ছে।
পানির অপচয় রোধ এবং অবকাঠামো উন্নয়নকল্পে সেচ প্রকল্পটি ২০০৪ সালের ৯ আগস্ট কাশাদহ পানি ব্যবস্থাপনা সমবায় সমিতি লিমিটেডের আওতায় অর্ন্তভুক্ত করা হয়। যার রেজিষ্ট্রেশন নাম্বার-৩। সরকারিভাবে কয়েক দফায় প্রায় ২১ কোটি টাকা খরচ করে খালটি পুণ: খননসহ নির্মাণ করা হয়েছে পাকা ড্রেন, সুইস গেইট, ও পানির হাউজ। এবার নদীতে চর পরে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে পানির উৎস। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ঐতিহ্যবাহী এ খালটি'র বিভিন্ন অংশে পলি মাটি পড়ে ভরাট হয়ে গেছে। পানি ধরে রাখা এখন কষ্টকর হয়ে পড়েছে। এ অবস্থা অব্যাহত থাকলে এবার ইরি-বোরো আবাদ চরমভাবে ব্যহত হবে। আর সেচের অভাবে বোরো আবাদ করতে না পারলে খাদ্য সংকট দেখা দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন উক্ত সেচ প্রকল্পের কৃষকরা।
কাশাদহ পানি ব্যাবস্থাপনা সমবায় সমিতি লিমিটেড এর সাধারণ সম্পাদক মো. আরোঙ্গ জানান, তৎকালীন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান তার খাল খনন কর্মসূচির আওতায় ১৯৭৯ সালে ১ ডিসেম্বর মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার এই আরিচাতে কাশাদহ খাল খনন কর্মসূচীর উদ্বোধন করেন। এরপর থেকে স্বল্প খরচে তীরে পানির পাম্পের মাধ্যমে সরাসরি যমুনা নদী থেকে পানি তোলে প্রায় ৪৬ বছর ধরে এই অঞ্চলের কৃষকরা ইরি-বোরোর আবাদ করে আসছে। এটি শহীদ প্রেসিডেন্টে জিয়াউর রহমানের স্মৃতি-বিজরিত ঐতিহাসিক কাশাদহ সেচ প্রকল্প। বিগত দিনে এ প্রকল্পটি খুরিয়ে খুরিয়ে চলছে। এমতাবস্থায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করছেন তিনি।

