রক্তাক্ত গলা নিয়ে হাঁটছিল শিশুটি, অপহরণ-হত্যাচেষ্টায় মামলা

সংগৃহীত ছবি
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে ইকোপার্কের ভেতরে একটি রাস্তার সংস্কারকাজ করছিলেন কয়েক শ্রমিক। হঠাৎ পার্কের ভেতর দুর্গম পাহাড়ি এলাকা থেকে ছোট্ট একটি মেয়েশিশুকে রক্তাক্ত অবস্থায় হেঁটে আসতে দেখেন তারা। কাছে গিয়ে দেখেন, মেয়েটির গলা কাটা, রক্তে ভেজা পোশাক। দ্রুত তাকে হাসপাতাল নেন শ্রমিকরা।
সীতাকুণ্ডের এই ঘটনাটি রোববার দুপুরের। আট বছরের মেয়েটির মা রোববার রাতে অজ্ঞাতপরিচয়দের আসামি করে সীতাকুণ্ড থানায় মামলা করেছেন। সীতাকুণ্ড থানার এসআই মো. কামরুজ্জামান আগামীর সময়কে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
মেয়েটি এখন চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি। শ্বাসনালী কেটে যাওয়ায় হয়েছে দুটি অপারেশন। কিছুটা সুস্থ হলেও কথা বলতে পারছে না সে।
পরিবারের সঙ্গে সীতাকুণ্ডের কুমিরা ইউনিয়নে ভাড়া বাসায় থাকে মেয়েটি। পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণিতে। ঘটনার পর ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে ক্ষোভ ঝাড়েন শিশুটির নিকটাত্মীয় ও ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রদলের নেতা মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন। তদন্তে দীর্ঘসূত্রিতা নয়, অবিলম্বে ঘটনায় জড়িতদের বিচার দাবি করেছেন তিনি। নিয়মিতই পোস্ট দিয়ে শিশুটির স্বাস্থ্যের হালনাগাদ তথ্য জানাচ্ছেন তিনি।
আগামীর সময়কে দেয়া সাক্ষাৎকারে ঘটনার বর্ণনা দিয়েছেন নাজিম।
তিনি বলেছেন, বাসার কাছেই মেয়েটির দাদার বাড়ি। নিয়মিতই একা একা হেঁটে ১০ মিনিটের রাস্তা ধরে দাদার বাড়ি যায় সে। ঘটনার দিন সকাল ৯টার দিকে সে পথেই যাচ্ছিল শিশুটি। তার বাবা টমটমচালক ছিলেন কাজে। বাড়িতে নবজাতক নিয়ে ছিলেন মা।
দুপুরে বাড়ি ফিরে মেয়ের খোঁজ নেন বাবা। মা জানান, দাদাবাড়ি গেছে সে। তবে খোঁজ নিয়ে দেখেন, সেখানে সে নেই। এরপর চলে খোঁজাখুজি।
বিকালের দিকে ফেসবুকে স্বজনরা একটি গলাকাটা মেয়ে উদ্ধারের খবর দেখেন। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে দেখেন, মেয়েটি তাদেরই। কীভাবে সে বাড়ি থেকে প্রায় ২০ মিনিটের দূরত্বের ইকোপার্কে গেল- তা জানেন না স্বজনরা।
কথা বলতে না পারলেও ইশারায় ও নানাভাবে শিশুটি বোঝায়, সকালে দাদাবাড়ি যাওয়ার পথেই একজন ব্যক্তি তাকে ইকোপার্কে নিয়ে যায়। স্বজনদের ধারণা, ওই ব্যক্তি শিশুর পূর্বপরিচিত। এ কারণে বিনাপ্রশ্নে তার সঙ্গে চলে যায় সে।
পুলিশের সূত্রের বরাতে নাজিম জানান, পর্যটন এরিয়া হওয়ায় ইকোপার্কের মূল প্রবেশপথে সিসিক্যামেরা লাগানো আছে। তবে সেই ফুটেজে শিশুকে নিয়ে যেতে দেখা যায়নি। তার ধারণা, বিকল্প দুটি পথের কোনো একটি দিয়ে নেয়া হয়েছে মেয়েটিকে।
চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দুটি অপারেশনের পর মেয়েটি কিছুটা সুস্থ। ধর্ষণ হয়েছে কিনা- পরীক্ষা করার জন্য তাকে রাখা হয়েছে ওয়ানস্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে।
তদন্ত চলছে, দ্রুতই জড়িতদের গ্রেপ্তার করা হবে- জানালেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সীতাকুণ্ড থানার এসআই কামরুজ্জামান।

