চাঁদা না পেয়ে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি নারীকে হাতুড়িপেটায় হত্যা

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে কৃষ্ণাঙ্গ এক সন্ত্রাসীর হামলায় ইয়াসমিন চৌধুরী (৪৮) নামে এক প্রবাসী বাংলাদেশি নারী নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার সকাল আনুমানিক ৭টার দিকে ফোর্ট মায়ার্স শহরে নিজের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের সামনে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে হাতুড়ি দিয়ে ইয়াসমিনের উপর উপর্যুপরি আঘাত করে ওই ঘাতক।
শুক্রবার (৩ মার্চ) বিকেলে নিহত ইয়াসমিনের ভাই সালাহ উদ্দিন মানিক বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার ১৮ নম্বর কুশাখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান। নিহত ইয়াসমিন তার ছোট বোন। তিনি একমাত্র কন্যাসন্তানের জননী। তার মেয়ে বর্তমানে ফ্লোরিডায় মেডিক্যালের ছাত্রী। এছাড়া নিহতের স্বামী স্থানীয়ভাবে পৃথক একটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনা করছেন।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, ইয়াসমিন চৌধুরী দীর্ঘদিন ধরে সপরিবারে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছিলেন। প্রায় ৩০ বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসের পাশাপাশি ফোর্ট মায়ার্স শহরে ১৫ বছরের বেশি সময় ধরে ব্যবসা পরিচালনা করছিলেন তিনি।
নিহতের ভাতিজা ফেরদৌস হাসান মাহি জানান, ব্যবসা শুরুর পর থেকেই এক কৃষ্ণাঙ্গ সন্ত্রাসী তার দোকানসহ আশপাশের দোকানগুলো থেকে নিয়মিত চাঁদা আদায় করত। ঘটনার দিনও ওই ব্যক্তি চাঁদা নিতে আসে। চাঁদা দিতে অস্বীকার করলে প্রথমে ইয়াসমিনের গাড়িতে হামলা চালায়। পরে তাকে জিজ্ঞেস করলে হাতুড়ি দিয়ে ঘটনাস্থলেই পিটিয়ে হত্যা করে ওই সন্ত্রাসী।
পুরো ঘটনাটি ধরা পড়েছে সিসিটিভিতে। ফুটেজে দেখা যায়, ঘাতকের পরনে ছিল লস অ্যাঞ্জেলেস লেকার্সের ২৪ নম্বর লেখা হলুদ রঙের জার্সি, পায়ে হলুদ জুতা এবং পিঠে সাদা ব্যাগ।
ভিডিওতে দেখা যায়, হাতে বড় হাতুড়ি নিয়ে ইয়াসমিনের ওপর উপর্যুপরি আঘাত করছে ঘাতক। গুরুতর আহত অবস্থায় তিনি দোকানের সামনে রক্তাক্ত হয়ে লুটিয়ে পড়েন। এরপর ঘাতক স্বাভাবিক ভঙ্গিতে হেঁটে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। পুরো ঘটনাটি কয়েক মিনিটের মধ্যেই ঘটে।
এদিকে ইয়াসমিনের মৃত্যুসংবাদ তার জন্মস্থান লক্ষ্মীপুরের কুশাখালী এলাকায় পৌঁছালে শোকের মাতম নেমে আসে। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। পরিবার জানায়, ইয়াসমিন অত্যন্ত পরিশ্রমী ও পরোপকারী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। পরিবারের সচ্ছলতার আশায় প্রবাসে পাড়ি দিলেও এভাবে হত্যাকাণ্ডের শিকার হবেন, তা কেউ কল্পনাও করেননি।
এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন ফ্লোরিডায় বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিরা। স্থানীয় বাংলাদেশি সংগঠনগুলো মেয়রের কার্যালয় ও ফোর্ট মায়ার্স পুলিশ বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেছে। তাদের অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশিদের ওপর হামলার ঘটনা বাড়ছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে ঘাতককে শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। সন্দেহভাজন একজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, এটি পরিকল্পিত হামলা হতে পারে। তবে হামলার প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
বর্তমানে ইয়াসমিন চৌধুরীর মরদেহ স্থানীয় একটি হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ বাংলাদেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হবে বলে পারিবারিক সূত্র জানিয়েছে। এ ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত বাংলাদেশি কনস্যুলেট গভীর শোক প্রকাশ করেছে। তারা স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছে।

