বিদেশি মদসহ ‘জর্দা শামীম’ গ্রেপ্তার

সংগৃহীত ছবি
আলোচিত ব্যবসায়ী ঝালকাঠির শামীম আহমেদ ওরফে ‘জর্দা শামীম’ এবং তার সহযোগী আরিফ হোসেনকে রংপুর থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় তাদের কাছ থেকে ছয় বোতল বিদেশি মদ জব্দ করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রংপুর জেলা পুলিশ সুপার মোজাম্মেল হক। এর আগে বুধবার রাতে রংপুর সদর উপজেলার হরিদেবপুর ইউনিয়নের গোকুলপুর চওড়াপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
রংপুর জেলা পুলিশের মিডিয়া সেলের পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, জলঢাকা সড়কসংলগ্ন শাহী জর্দা কোম্পানি লিমিটেডের অফিসে অভিযান চালায় গোয়েন্দা পুলিশ। পরে অফিসসংলগ্ন একটি শয়নকক্ষ থেকে বিদেশি মদসহ শামীম আহমেদ ও আরিফ হোসেনকে আটক করা হয়।
গ্রেপ্তার শামীম আহমেদ (৫৫) ঝালকাঠি পৌর শহরের পূর্ব কাঠপট্টি এলাকার মৃত শাহাবুদ্দিন মিয়ার ছেলে। আরিফ হোসেনের (৪৫) বাড়িও ঝালকাঠিতে। তারা ব্যবসা ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের কারণে ঢাকার উত্তরা ও কলাবাগান এলাকায় বসবাস করতেন। শামীম আহমেদ উত্তর ঢাকা মহানগর শ্রমিক লীগের সহসভাপতি এবং ২০২৩ সালে ঝালকাঠি জেলার সর্বোচ্চ ভ্যাটদাতা হিসেবে পরিচিতি পান।
পুলিশ সুপার মোজাম্মেল হক জানিয়েছেন, গ্রেপ্তার দুজনের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করা হয়েছে। এছাড়া শামীম আহমেদের বিরুদ্ধে ঢাকার উত্তরা পূর্ব ও রামপুরা থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। তিনি একটি মামলার এজাহারভুক্ত পলাতক আসামি। আরিফ হোসেনের বিরুদ্ধেও ঝালকাঠি সদর থানায় মামলা রয়েছে।
স্থানীয়রা জানায়, এলাকায় শামীম আহমেদ ‘জর্দা শামীম’ নামেই বেশি পরিচিত। আওয়ামী লীগ সরকারের সময় প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতাদের ঘনিষ্ঠতা কাজে লাগিয়ে এলাকায় প্রভাব বিস্তার, জমি দখল, চাঁদাবাজি ও বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
এছাড়া ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে অনৈতিক সুবিধা আদায়, নির্যাতনকেন্দ্র পরিচালনা এবং নারী-পুরুষকে আটকে রেখে শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগও রয়েছে। এক কর্মচারীকে হাত-পা বেঁধে নির্যাতনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তাকে ঘিরে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়।
স্থানীয়দের দাবি, সাবেক সংসদ সদস্য আমির হোসেন আমুর ঘনিষ্ঠ হিসেবে দীর্ঘদিন নানা বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের পরও আইনের বাইরে ছিলেন শামীম আহমেদ। তার বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জন ও মাদক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগও রয়েছে। এছাড়া চাঁদা আদায়কে কেন্দ্র করে নিজ ভাইদের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, গাড়ি ও অফিসে হামলা এবং আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারের অভিযোগেও তিনি আলোচনায় আসেন।



