কলাবাগান থানার এসআই নিখোঁজ, বাড়ছে পরিবারের উৎকণ্ঠা

সংগৃহীত ছবি
রাজধানীর কলাবাগান থানার উপপরিদর্শক রাকিবুল হাসান সরকার গত ২৭ এপ্রিল বিকাল থেকে নিখোঁজ রয়েছেন। এ ঘটনায় থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে এবং তাকে খুঁজতে পুলিশ কাজ শুরু করেছে। তবে আজ মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি তার।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রাকিবুল হাসান সেদিন কাঁঠালবাগান এলাকার একটি অস্থায়ী ব্যারাক থেকে সিভিল পোশাকে বের হয়ে যান। পরে রাতে ডিউটিতে যোগ না দেওয়ায় বিষয়টি নজরে আসে। তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনও বন্ধ রয়েছে।
কলাবাগান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফজলে আশিক জানিয়েছেন, নিখোঁজ এসআইকে খুঁজে বের করতে দেশের সব থানায় বেতার বার্তা পাঠানো হয়েছে। তার ভাষ্য, রাকিবুল হাসানকে গরহাজির হিসেবে দেখা হচ্ছে এবং তাকে উদ্ধারে সর্বোচ্চ চেষ্টা চলছে।
নিখোঁজের ঘটনায় তার গ্রামের বাড়ি গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার কাওরাইদ ইউনিয়নের বাপ্তা গ্রামে উদ্বেগ নেমে এসেছে। প্রতিদিনই বাড়িতে এসে খোঁজখবর নিচ্ছেন প্রতিবেশী ও স্বজনরা। পরিবারকেও সান্ত্বনা দিচ্ছেন তারা।
রাকিবুল হাসানের বাবা মাইজ উদ্দিন সরকার জানিয়েছেন, ২৭ এপ্রিল রাতের দিকে থানার পক্ষ থেকে ফোনে জানতে চাওয়া হয় ছেলের খোঁজ। এরপরই নিখোঁজের বিষয়টি জানতে পারেন তারা। তার ভাষ্য, শান্ত ও ভদ্র স্বভাবের তার ছেলে। কারও সঙ্গে কোনো শত্রুতা নেই তার।
স্ত্রী সামিয়া জানালেন, তিনি অন্তঃসত্ত্বা। যেকোনো মূল্যে স্বামীর সন্ধান চান তিনি। তার ভাষ্য, স্বামীর ফেরার অপেক্ষায় আছেন তিনি।
স্বজন ও প্রতিবেশীরা জানালেন, রাকিবুল হাসান ছোটবেলা থেকেই মেধাবী ও বিনয়ী ছিলেন। পড়াশোনায় মনোযোগী, কোনো ধরনের বিরোধে জড়াননি এ তরুণ। তাদের দাবি, দ্রুত খুঁজে বের করে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দিতে হবে তাকে।
রাকিবুল হাসান গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার কাওরাইদ ইউনিয়নের বৈরাগবাড়ী গ্রামের বাসিন্দা। ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি থেকে তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশলে স্নাতক সম্পন্ন করেন তিনি। ২০২৩ সালের অক্টোবরে পুলিশে উপপরিদর্শক পদে যোগ দেন। সম্প্রতি কলাবাগান থানায় কর্মরত ছিলেন।
স্থানীয় এলাকা জুড়ে ব্যাপক উদ্বেগ তৈরি করেছে নিখোঁজের ঘটনাটি। পরিবারের পাশাপাশি এলাকাবাসীরও একটাই প্রত্যাশা, দ্রুত উদ্ধার করা হোক তাকে।



