খাদ্য সংকটে লোকালয়ে বিপন্ন মেছো বিড়াল

ছবি: আগামীর সময়
হবিগঞ্জের চুনারুঘাটে মাছ ধরার পলোয় আটকে পড়া একটি বিপন্ন মেছো বিড়াল উদ্ধার করে প্রকৃতিতে অবমুক্ত করা হয়েছে। গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় উপজেলার জারুলিয়া গ্রামের রুবেল মিয়ার বাড়ি থেকে প্রাণীটিকে উদ্ধার করেন দুই স্বেচ্ছাসেবী।
বন্য প্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ অধিদপ্তরের রেঞ্জ কর্মকর্তা মাহমুদ হোসেন জানিয়েছেন, সম্প্রতি ওই গ্রামে প্রায়ই মুরগি হারিয়ে যাচ্ছিল। স্থানীয়দের মধ্যে ধারণা ছিল, রাতে ‘মেছো বাঘ’ আসে। শনিবার সন্ধ্যায় রুবেল মিয়া মাছ ধরার পলো নিয়ে ওত পেতে থাকেন। মোরগের ঘরের কাছে আসতেই প্রাণীটি পলোয় আটকা পড়ে। খবর ছড়িয়ে পড়লে ঘটনাস্থলে ভিড় জমে এবং প্রাণীটিকে আক্রমণের চেষ্টাও করেন কয়েকজন।
খবর পেয়ে বন্য প্রাণীপ্রেমী আব্দুর রাজ্জাক রাজু ও আব্দুল জাহির ঘটনাস্থলে গিয়ে রেঞ্জ কর্মকর্তাকে অবহিত করেন। তার পরামর্শে রাতে কাছের একটি পুকুরপাড়ে অবমুক্ত করা হয় মেছো বিড়ালটিকে।
মাহমুদ হোসেনের ভাষ্য, মেছো বিড়াল সাধারণত জলাশয়সংলগ্ন নিরিবিলি এলাকায় বসবাস করে এবং রাতে মাছ শিকার করে। কিন্তু জলাভূমি ও কৃষিজমি কমে যাওয়ায় এদের আবাসস্থল ও খাদ্যের উৎস সংকুচিত হয়েছে। ফলে বাধ্য হয়ে লোকালয়ে ঢুকে পড়ছে এবং এ ধরনের ঘটনায় আটকা পড়ছে মেছো বিড়াল।
তিনি আরও উল্লেখ করেছেন, উদ্ধার হওয়া মেছো বিড়ালটি মধ্যবয়সী এবং আশপাশে এর পরিবার থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। প্রাণীটিকে বিরক্ত না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে স্থানীয়দের।
মেছো বিড়াল, যা ‘বাঘরোল’ নামেও পরিচিত। ইংরেজিতে ফিসিং ক্যাট এবং বৈজ্ঞানিক নাম প্রিওনাইলুরাস ভিভেরিনাস। মাঝারি আকারের এই বিড়ালজাতীয় প্রাণী বাংলাদেশসহ দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশে পাওয়া যায়। গত কয়েক দশকে এদের সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে কমেছে। ২০০৮ সালে আইইউসিএন প্রজাতিটিকে ‘বিপন্ন’ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, মেছো বিড়াল জলাভূমি ও ছড়াকেন্দ্রিক পরিবেশে বাস করে এবং সাঁতারে পারদর্শী। গায়ের ছোপ ছোপ দাগের কারণে অনেক সময় এটিকে চিতাবাঘ ভেবে ভুল করা হয়। ভারতের পশ্চিমবঙ্গে প্রাণীটি রাজ্য প্রাণীর মর্যাদা পেয়েছে।
বন্য প্রাণী সংরক্ষণ সোসাইটির অপরাধ দমন কর্মসূচির সমন্বয়কারী সামিউল মোহসেনিন বলেছেন, অনেক ক্ষেত্রে বাঘ ভেবে মেছো বিড়াল হত্যা করা হয়, যা উদ্বেগজনক। তার মতে, বন্য প্রাণীর স্বাভাবিক বিচরণক্ষেত্র দ্রুত সংকুচিত হচ্ছে, তাই সচেতনতা বাড়ানো জরুরি।
তিনি আরও উল্লেখ করেছেন, মৌসুমভেদে রোগাক্রান্ত মাছ খেয়ে জলজ পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে মেছো বিড়াল। এখনই কার্যকর উদ্যোগ না নিলে প্রজাতিটি বিলুপ্তির ঝুঁকিতে পড়বে, যা পরিবেশ ও খামার— উভয়ের জন্য ক্ষতিকর হবে।



