ঈদের বাজারে হাঁসের দামও চড়া, দুশ্চিন্তায় নিম্নআয়ের মানুষ

ছবিঃ আগামীর সময়
‘গরুর মাংস কেনার তো কোনো উপায় নেই। ভাবছিলাম হাঁস দিয়ে কোনোভাবে ঈদের দিনটা পার করব। কিন্তু হাঁসের দামও এবার গরুর মতোই চড়া।’—রংপুর নগরীর বুড়িরহাটে ৭০০ টাকায় একটি হাঁস কিনে এমন আক্ষেপই করছিলেন কোবারু এলাকার সুরুজ মিয়া।
ঈদুল ফিতর সামনে রেখে সবার ঘরেই কেনাকাটার ব্যস্ততা প্রায় শেষের দিকে। যার যার সামর্থ্য অনুযায়ী জামাকাপড়সহ প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কিনে ফেলেছেন অনেকেই। তবে এখন সবচেয়ে বড় চিন্তা ঈদের দিনের খাবার নিয়ে। ঈদের দিনে সেমাইয়ের পাশাপাশি ভালো তরকারি না হলে যেন আয়োজনই পূর্ণতা পায় না। কিন্তু গরু বা খাসির মাংসের দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাওয়ায় স্বল্প আয়ের পরিবারগুলো পড়েছে বিপাকে।
এই পরিস্থিতিতে অনেকেই বিকল্প হিসেবে হাঁসের দিকে ঝুঁকছেন। গ্রামীণ হাট-বাজারে তুলনামূলক কম দামে পাওয়া যায়—এই আশায় হাঁস কিনতে ভিড় করছেন ক্রেতারা। কিন্তু এ বছর ঈদের প্রভাব পড়েছে হাঁসের বাজারেও। ফলে হাঁসের দামও বেড়ে যাওয়ায় দুশ্চিন্তা আরও বেড়েছে।
রংপুর নগরীর বুড়িরহাটে গিয়ে দেখা যায়, ঈদকে কেন্দ্র করে বিশাল এলাকাজুড়ে বসেছে হাঁসের হাট। ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড়। স্থানীয় জাতের হাঁস প্রতিটি বিক্রি হচ্ছে ৭০০ থেকে ৮০০ টাকায়, যা কয়েকদিন আগেও ছিল ৫০০ থেকে ৬০০ টাকার মধ্যে। অন্যদিকে বড় আকারের রাজহাঁস বা চিনা হাঁসের দাম ১৬০০ থেকে ২০০০ টাকা পর্যন্ত উঠেছে।
হাঁস কিনতে আসা পাশের চব্বিশ হাজারি এলাকার যাদু মিয়া বলেছেন, ঈদের দিনে ভালো কিছু তো খেতে হবে। এক কেজি গরুর মাংস ৭৫০ টাকার মতো। ভাবছিলাম, তার চেয়ে হাঁস কিনলে ভালো হবে—একটা হাঁসেই প্রায় এক কেজি মাংস পাওয়া যায়।’ তবে দাম বেশি হওয়ায় শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারছিলেন না তিনি।
একই কথা বলেন নয়া মিয়া, আব্দুল মান্নানসহ আরও অনেক ক্রেতা। তারা জানান, হাঁস কেনার উদ্দেশ্যেই হাটে এসেছেন। এর আগেও রংপুরের লালবাগ হাটে হাঁসের এমন চড়া দাম দেখা গেছে। তবুও ঈদের আগে শেষ হাট হওয়ায় অনেকে বেশি দাম দিয়েই হাঁস কিনে বাড়ি ফিরছেন।
হাঁস বিক্রেতা লাল মিয়া ও নুর আলম বলেছেন, ঈদকে সামনে রেখে তারা হাঁস পালন করেছেন। কিন্তু খাদ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় কম দামে বিক্রি করা সম্ভব নয়।
তারা জানান, ৭০০ থেকে ৮০০ টাকায় হাঁস বিক্রি করলেও এবার বিক্রি ভালো হচ্ছে। তাই মোটের ওপর লোকসান হচ্ছে না।
হাট ইজারাদারের লোকজন জানান, বুড়িরহাটে সপ্তাহে দুই দিন সোমবার ও বৃহস্পতিবার—হাট বসে। সাধারণ সময়ে যেখানে প্রায় ৫০০ হাঁস বিক্রি হয়, সেখানে ঈদ উপলক্ষে বৃহস্পতিবার দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত অন্তত দুই হাজার হাঁস বিক্রি হয়েছে।
তারা আরও জানান, এ বছর গরু, খাসি কিংবা মুরগির তুলনায় সাধারণ মানুষ বেশি ঝুঁকছেন হাঁস কেনার দিকে। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকেই এই হাটে হাঁস কিনতে আসছেন।

