রাজশাহীতে গোপনে সংগঠিত হচ্ছে আ. লীগ, টার্গেট স্বাধীনতা দিবস

রাজশাহীতে সম্প্রতি একটি ইফতার অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের শপথ নেওয়ার ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
জুলাই বিপ্লবের পর দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তার সঙ্গে আওয়ামী লীগের বেশ কয়েকজন মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যও দেশত্যাগ করেন। আবার অনেকে গ্রেপ্তারও হন। জুলাইয়ের গণহত্যার দায়ে পলাতক শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে বিচার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে এবং আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়জুড়ে আওয়ামী লীগ ও তাদের অঙ্গসংগঠনগুলো কোথাও প্রকাশ্যে কার্যক্রম চালাতে পারেনি। তবে গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পর দেশের অন্যান্য এলাকার মতো রাজশাহীতেও নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও তাদের সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা আবার সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করছেন বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। তাদের লক্ষ্য আগামী ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবসে রাজপথে নামা।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রাজশাহীতে আওয়ামী লীগের একটি ইফতার অনুষ্ঠানের ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। ওই ভিডিওতে শেখ হাসিনা এবং রাজশাহী সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটনসহ বিভিন্ন নেতাকে দেশে ফিরিয়ে আনার শপথ নিতে দেখা যায়। ভিডিওটি রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
এদিকে নির্বাচনের পরপরই রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের পরিত্যক্ত কার্যালয়ে মুখোশ পরা কয়েকজন যুবক দলীয় পতাকা ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং শেখ হাসিনার ছবি নিয়ে কার্যালয় উদ্বোধনের ঘোষণা দিয়ে একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করে। কয়েকদিন পর রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের কার্যালয়ের সামনে অফিস উদ্বোধনের ব্যানারও টাঙানো হয়।
বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের অনেক কর্মী জামিনে বের হয়ে আবারও সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করছেন। আবার যারা পার্শ্ববর্তী দেশে পালিয়ে ছিলেন, তাদের কেউ কেউ সীমান্ত পথে দেশে ফিরছেন বলেও খবর পাওয়া যাচ্ছে।
২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবসকে সামনে রেখে তারা নিয়মিত অনলাইন বৈঠকও করছেন বলে জানা গেছে।
সূত্রগুলো জানায়, রাজশাহী-১ আসনের সাবেক এমপি ওমর ফারুক চৌধুরী এবং রাজশাহী-৩ আসনের সাবেক এমপি আয়েন উদ্দিনসহ বিভিন্ন নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়মিত অনলাইন মিটিং হচ্ছে।
ইতোমধ্যে জামিনে বের হয়ে রাজশাহীতে সক্রিয় হয়েছেন রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের দৈনিক মজুরি কর্মচারী ও যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মুকুল শেখ, খায়রুজ্জামান লিটনের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ইউসিসি কোচিং রাজশাহী শাখার মালিক ও ওয়াসার বহিষ্কৃত প্রকৌশলী সোহেল রানা ডন, হুন্ডি মুকুল, ব্যবসায়ী শামসুজ্জামান আওয়াল এবং ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর আনার।
এ ছাড়া আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনের নেতারাও গোপনে সক্রিয় রয়েছেন বলে জানা গেছে। তাদের মধ্যে শিক্ষক, আইনজীবী, ব্যবসায়ী ও সাংবাদিকও রয়েছেন।
রাজশাহী মহানগর বিএনপির সভাপতি মামুনুর রশিদ মামুন বলেছেন, ‘যারা জুলাই বিপ্লবে ছাত্র-জনতার ওপর হামলা ও হত্যাকাণ্ডে জড়িত ছিল, তাদের বিচার নিশ্চিত করতে এক বিন্দুও ছাড় দেওয়া হবে না। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দায়িত্ব তাদের গ্রেপ্তার করা। আমরা পুলিশকে আহ্বান জানাব, এ বিষয়ে যেন কোনো ধরনের শৈথিল্য না দেখানো হয়।’
রাজশাহী মহানগর জামায়াতের সেক্রেটারি ইমাজ উদ্দিন মন্ডল বলেছেন, ‘জুলাই বিপ্লবে গণহত্যার অভিযোগে অভিযুক্ত শেখ হাসিনা ও তার দল আওয়ামী লীগের বিচার শেষ হওয়ার আগে তাদের কার্যক্রম চালানোর সুযোগ দেওয়া হলে তা জুলাইয়ের শহীদদের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা হবে। সরকার ব্যর্থ হলে আমরা রাজপথে তাদের মোকাবেলা করব।’
এ বিষয়ে এনসিপির রাজশাহী মহানগরের প্রধান সংগঠক মোবাশ্বের আলী জানিয়েছেন, ‘জুলাই বিপ্লবে আওয়ামী লীগের হত্যাযজ্ঞের বিচারের দাবিতে তাদের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তারা যদি মাঠে নামে, তাহলে তা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ব্যর্থতা হিসেবে গণ্য হবে। সরকার ব্যবস্থা না নিলে রাজনৈতিকভাবেই তাদের প্রতিহত করা হবে।’
রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের মুখপাত্র গাজিউর রহমান বলেছেন, কার্যক্রম নিষিদ্ধ যেকোনো সংগঠনের অপতৎপরতা প্রতিরোধে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ সতর্ক রয়েছে। আমাদের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো সার্বক্ষণিক নজরদারি করছে। কেউ বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করলে তাকে আইনের আওতায় আনা হবে।’

