আগামীর সময়

টাঙ্গাইলে বাঁশের কুটিরশিল্পে জেগে উঠছে গ্রাম

টাঙ্গাইলে বাঁশের কুটিরশিল্পে জেগে উঠছে গ্রাম

ছবিঃ আগামীর সময়

পরিবেশবান্ধব ও নান্দনিক হওয়ায় টাঙ্গাইলের বাঁশের তৈরি হস্তশিল্পের চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। এতে জেলার দেলদুয়ার উপজেলার কয়েকটি গ্রাম নতুন করে প্রাণ ফিরে পেয়েছে। বাড়ির উঠোনেই ছোট ছোট কারখানায় তৈরি হচ্ছে নানা ধরনের শৌখিন ও ব্যবহার্য পণ্য। ফলে এই শিল্প ঘিরে গ্রামীণ অর্থনীতিতেও এসেছে নতুন গতি।

জানা গেছে, জেলার দেলদুয়ার উপজেলার ডুবাইল ইউনিয়নের বর্ণী, প্রয়াগজানী ও কোপাখী গ্রাম এখন বাঁশের কুটিরশিল্পের অন্যতম কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। এসব গ্রামের প্রায় প্রতিটি বাড়িতেই নারী-পুরুষ একসঙ্গে বাঁশ দিয়ে বিভিন্ন ধরনের পণ্য তৈরি করছেন। পুরো গ্রামজুড়ে যেন কর্মচাঞ্চল্য।

ডুবাইল ইউনিয়নের বর্ণী গ্রামের বাসিন্দা আন্তর্জাতিক কারুশিল্পী নূরুন্নবী এই শিল্পের অন্যতম উদ্যোক্তা। তিনি বর্ণী দক্ষিণপাড়ায় ‘নূরুন্নবী ব্যাম্বো ক্র্যাফট’ নামে একটি কারখানা গড়ে তুলেছেন।

এই কারখানায় প্রতিদিন প্রায় ৬০ থেকে ৭০ জন নারী-পুরুষ কাজ করেন। পাশাপাশি শতাধিক পরিবার নিজ নিজ বাড়িতে পণ্য তৈরি করে তার কারখানায় সরবরাহ করেন।

সরেজমিনে দেখা যায়, কারখানায় তৈরি হচ্ছে বাস্কেট, টেবিল ল্যাম্প, প্লেস ম্যাট, ট্রে, মোড়া, ফলের ঝুড়ি, টিস্যু বক্স, গয়নার বাক্স, জানালার পর্দা, ওয়েস্ট পেপার ঝুড়ি, ড্রিংকস বোতলের ঝাড় ও কোলাসহ নানা ধরনের নান্দনিক পণ্য।

কারখানার কর্মচারী সিরাজুল ইসলাম বলেছেন, ‘রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন বড় শোরুমে এসব পণ্য বিক্রি হয়। এছাড়া বিভিন্ন রপ্তানিকারকের মাধ্যমে বিশ্বের ১০ থেকে ১২টি দেশে এসব পণ্য রপ্তানি করা হচ্ছে।’

বাঁশের হস্তশিল্প ব্যবহারকারী আব্দুল্লাহ গফুর বলেছেন, ‘বাঁশের তৈরি এসব পণ্য দেখতে খুবই আকর্ষণীয়। বিশেষ করে রাতে আলো–আঁধারিতে বিভিন্ন নকশা ও কারুকাজে তৈরি পণ্যগুলো ঘর বা প্রাঙ্গণে সাজিয়ে রাখলে আলাদা সৌন্দর্য সৃষ্টি হয়।’

উদ্যোক্তা নূরুন্নবী জানিয়েছেন, বাঁশের হস্তশিল্প সম্পূর্ণ পরিবেশবান্ধব। এতে পরিবেশের কোনো ক্ষতি হয় না। তিনি মনে করেন, দেশি-বিদেশি শিল্পপ্রেমী ও সচেতন ক্রেতাদের এসব পণ্য ব্যবহারে এগিয়ে আসা উচিত। এতে যেমন গ্রামীণ কারিগরদের কর্মসংস্থান বাড়বে, তেমনি দেশীয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যও বিশ্ব দরবারে আরও সমৃদ্ধভাবে তুলে ধরা সম্ভব হবে।

টাঙ্গাইল জেলা ক্ষুদ্র ও কুটিরশিল্প করপোরেশন (বিসিক)-এর কর্মকর্তা শাহনাজ বেগম বলেছেন, ‘জেলার ঐতিহ্যবাহী বাঁশ-বেত শিল্পের সম্প্রসারণে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। বিসিকের পক্ষ থেকে কারিগরদের প্রশিক্ষণ ও প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।’

তিনি জানান, পরিবেশবান্ধব পণ্যের প্রতি মানুষের আগ্রহ বাড়ায় টাঙ্গাইলের বাঁশ-বেত শিল্প এখন সম্ভাবনার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করছে।

    শেয়ার করুন: