যশোর
ঈদে ১ লাখ ৮৫ হাজার পরিবারের জন্য সরকারি চাল বরাদ্দ

ফাইল ছবি
আসন্ন ঈদুল ফিতরের জন্য ভিজিএফ কর্মসূচির আওতায় যশোরে ১ লাখ ৮৫ হাজার ৫৭৭টি কার্ডের জন্য ১,৮৫৫ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ করেছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর। মানবিক সহায়তা কর্মসূচির আওতায় কার্ডধারীরা বিনামূল্যে কার্ড প্রতি ১০ কেজি করে চাল পাবেন। জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা শেখ আব্দুল কাদের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
আগামীকাল ১২ মার্চ থেকে এ চাল বিতরণ শুরু হবে।
যশোর জেলা প্রশাসনের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা শাখার তথ্য মতে, যশোর জেলার উপজেলা-পৌরসভা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের দুস্থ, অতিদরিদ্র ব্যক্তি ও পরিবারের মাঝে এই চাল বিতরণ করা হবে। এ জন্যে ১ লাখ ৮৫ হাজার ৫৭৭টি কার্ড নির্ধারিত হয়েছে। জেলার ৮টি পৌরসভা ও ৮টি উপজেলার ইউনিয়নগুলোতে বরাদ্দকৃত ১৮৫৫.৭৭০ মেট্রিক টন চাল বিতরণ করা হবে।
উপজেলা পর্যায়ে মোট এক লাখ ৫৪ হাজার ৭৭০টি কার্ডের বিপরীতে এক হাজার ৫৪৭ দশমিক ৭ শত মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ হয়েছে। অভয়নগর উপজেলার ৯ হাজার ৮৩টি কার্ডের জন্য ৯০.৮৩০ মেট্রিক টন , বাঘারপাড়া উপজেলার জন্যে ১৬ হাজার ৩৬৩টি কার্ডের জন্যে ১৬৩.৬৩০ মেট্রিক টন , চৌগাছা উপজেলায় ১২ হাজার ৪৬৫টি কার্ডের জন্যে ১২৪.৬৫০ মেট্রিক টন , ঝিকরগাছা উপজেলায় ১৫ হাজার ২২৫টি কার্ডের জন্যে ১৫২.২৫০ মেট্রিক টন ,কেশবপুর উপজেলায় ১৬ হাজার ৯৫২টি কার্ডে ১৬৯.৫২০ মেট্রিক টন, সদর উপজেলায় ৩১ হাজার ৩৩০টি কার্ডের জন্যে ৩১৩.৩০০ মেট্রিক টন, মণিরামপুর উপজেলায় ২৯ হাজার ৭৫০টি কার্ডের জন্যে ২৯৭.৫০০ মেট্রিক টন , শার্শা উপজেলার জন্যে ২৩ হাজার ৬০২টি কার্ডের বিপরীতে ২৩৬.০২০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ হয়েছে। পৌরসভা পর্যায়ে ৮টি পৌরসভার ৩০ হাজার ৮০৭টি কার্ডের জন্যে ৩০৮ দশমিক ০৭০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ হয়েছে।
যশোর পৌরসভায় ৪ হাজার ৬২১টি কার্ডের জন্যে ৪৬ দশমিক ২১০ মেট্রিক টন , নওয়াপাড়া পৌরসভায় ৪ হাজার ৬২১টি কার্ডের জন্যে ৪৬ দশমিক ২১০ মেট্রিক টন , কেশবপুর পৌরসভায় ৪ হাজার ৬২১টি কার্ডের জন্যে ৪৬ দশমিক ২১০ মেট্রিক টন , বেনাপোল পৌরসভায় ৪ হাজার ৬২১টি কার্ডের জন্যে ৪৬ দশমিক ২১০ মেট্রিক টন , মণিরামপুর পৌরসভায় ৪ হাজার ৬২১টি কার্ডের জন্যে ৪৬ দশমিক ২১০ মেট্রিক টন , ঝিকরগাছা পৌরসভায় ৩০৮১টি কার্ডের জন্যে ৩০ দশমিক ৮১০ মেট্রিক টন , চৌগাছা পৌরসভায় ৩০৮১টি কার্ডের জন্যে ৩০ দশমিক ৮১০ মেট্রিক টন , একমাত্র 'গ' শ্রেণির পৌরসভা বাঘারপাড়ায় ১৫৪০টি কার্ডের জন্যে ১৫ দশমিক ৪ শত মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ করেছে সরকার।
এই চাল বরাদ্দের ক্ষেত্রে নির্ধারিত কমিটি রয়েছে। ইউনিয়নের ক্ষেত্রে ইউনিয়ন মানবিক সহায়তা কর্মসূচি বাস্তবায়ন কমিটি এবং ওয়ার্ড পর্যায়েও বাস্তবায়ন কমিটি রয়েছে। পৌরসভার ক্ষেত্রে বা উপজেলার ক্ষেত্রে বাস্তবায়নের জন্যে কমিটি রয়েছে। এসব কমিটিতে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি বা প্রশাসক ছাড়াও সামাজিক ব্যক্তিত্ব, শিক্ষক, এনজিও কর্মী, ইমামসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সহযোগে কমিটি গঠন করার বিধান রয়েছে। সাধারণত ইউনিয়নের ওয়ার্ড পর্যায়ে যে ৭ সদস্যের কমিটি থাকার কথা তার সভাপতি থাকবেন ওই ওয়ার্ডের মহিলা মেম্বার এবং ওই ওয়ার্ডের সাধারণ মেম্বার থাকবেন সদস্য সচিব। এ ছাড়া ইউএনও কর্তৃক মনোনীত একজন শিক্ষক প্রতিনিধি, একজন নারী ও একজন পুরুষ মিলে গণ্যমান্য ব্যক্তি, একজন ধর্মীয় নেতা বা ইমাম/পুরোহিত/গির্জার প্রধান এবং ওই এলাকায় কর্মরত একজন এনজিও কর্মী।
জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা শেখ আব্দুল কাদের বলছিলেন, পৌরসভা ও ইউনিয়ন থেকে যথাযথ প্রক্রিয়ায় সঠিকভাবে এসব চাল বরাদ্দ করা হবে। দরিদ্র ও দুস্থরা এই চাল পাবেন বিনামূল্যে।

