ঈশ্বরদীতে বিএনপির দুই গ্রুপে সংঘর্ষ, ২ পুলিশসহ আহত ১৫

ছবিঃ আগামীর সময়
পাবনার ঈশ্বরদীতে বিএনপির দুই গ্রুপে সংঘর্ষের ঘটনায় পুলিশসহ ১৫ জন আহত হয়েছে। মঙ্গলবার (২৩ মার্চ) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ও পাবনা জেলা বিএনপির আহবায়ক হাবিবুর রহমান হাবিবের সমর্থকরা পৌর শহরের পোস্ট অফিস মোড় থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে রেলগেট অতিক্রম করছিল। তখন বিগত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী জাকারিয়া পিন্টুর সমর্থকদের সাথে সংঘর্ষ শুরু হয়।
এ সময় গুলি ও ককটেল হামলার ঘটনা ঘটে। আহত হয় ১৫ জন। সংঘর্ষের একপর্যায়ে হাবিবুর রহমান হাবিবের নির্বাচনী কার্যালয়ে ভাঙচুর হয়। কার্যালয়ের সামনে থাকা নেতাকর্মীদের ১৫-২০টি মোটরসাইকেলে অগ্নিসংযোগ করা হয়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে এলে ইটের আঘাতে ঈশ্বরদী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এডিশনাল এসপি) প্রবণ কুমার ও ঈশ্বরদী থানার এসআই আতাউল ইসলাম আহত হন। পরে সেনাবাহিনী ও পুলিশ সদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ আনে।
হাবিবুর রহমান হাবিবের সমর্থক মাহাবুর রহমান পলাশ বলছিলেন, জাকারিয়া পিন্টুর সমর্থকরা ঈদের আগের রাতে পৌর শহরের ফতেহ মোহাম্মদপুর এলাকায় বিএনপির বেশ কয়েকজন নেতাকর্মীর বাড়িঘরে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ করে। এ ঘটনার প্রতিবাদে বিএনপির নেতাকর্মীরা পোস্ট অফিস মোড় থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে রেলগেট অতিক্রম করছিল। তখন জাকারিয়া পিন্টুর সমর্থকরা বিক্ষোভ মিছিলে অতর্কিত হামলা চালায়। এ ঘটনায় উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব রফিকুল ইসলাম রকি, পৌর যুবদলের সাবেক সভাপতি মোস্তফা নূরে আলম শ্যামলসহ ১৫ জন আহত হয়। আহতদের মধ্যে আশঙ্কাজনক অবস্থায় মোস্তফা নূরে আলম শ্যামলকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
তবে এ বিষয়ে জানতে বিগত নির্বাচনে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী ও পাবনা জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া পিন্টুর ফোনে যোগাযোগ করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। জাকারিয়া পিন্টুর ছোট ভাই উপজেলা স্বেচ্ছাসেবকদলের সাবেক সদস্য সচিব মেহেদী হাসানেও ফোনও বন্ধ পাওয়া যায়।
এ ঘটনায় আহত ঈশ্বরদী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার প্রবণ কুমার জানান, পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে। শহরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

