‘হেলমেট তর্কে’ হামলা, এক বাড়িতে গুলিবিদ্ধ শিশুসহ ১৩

সংগৃহীত ছবি
মাদক কারবারি হিসেবে এলাকায় পরিচিত চাচা-ভাতিজা। হেলমেট পরা কাউকে দেখলেই ভাবেন- পুলিশ এলো। সেই আতঙ্ক থেকে তর্ক, পরে গুলি করা হয় হেলমেট পরে বাইক চালানো প্রতিবেশীর বাড়িতে। গভীর রাতের সেই হামলায় গুলিবিদ্ধ হয়েছেন ওই বাড়ির শিশুসহ ১৩ জন। আহত আরও একজন।
ঘটনার এই বিবরণ মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলার রুদ্রপাড়া গ্রামের হামলার শিকার পরিবারের। স্থানীয় হারুন খান ও তার ভাতিজা মান্নান খানের বিরুদ্ধে উঠেছে হামলার অভিযোগ। তাদের গ্রেপ্তারও করেছে পুলিশ। তবে এটিকে পূর্ববিরোধের জেরে হামলা বলছেন জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন) মো. ফিরোজ কবির।
আহতরা হলেন, মিজান খান, তার মা মিনু বেগম, বাবা খোরশেদ খান, ফুপু জয়তন বেগম ও শাফি বেগম, চাচা ইদ্রিস খান, ফুফাতো বোন ফাহিমা, ভাবি কাজল বেগম, নুপুর আক্তার ও বর্ণা আক্তার এবং ভাতিজা আয়ান ও মোস্তাকিন, ভাতিঝি দোলন ও ইভা আক্তার। মিজান ছাড়া অন্যদের চিকিৎসার জন্য আনা হয়েছে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে।
আহতদের বর্ণনায় জানা গেছে, রোববার রাত ৯টার দিকে হেলমেট পরে মোটরসাইকেল চালিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন মিজান খান। এ সময় হারুন ও মান্নান তাকে আটকে হেলমেট পরতে নিষেধ করেন। এ নিয়ে কিছুক্ষণ চলে তর্কাতর্কি। এক পর্যায়ে মিজানকে মারধর করা হয়। রক্তাক্ত অবস্থায় বাড়ি ফিরে এসব জানান মিজান। ক্ষুব্ধ হন তার বাবা খোরশেদ। ঘর থেকে বেরিয়ে হারুন ও মান্নানের নাম ধরে করেন চেঁচামেচি।
এসব শুনে হারুন ও মান্নান ১০-১৫ জনকে নিয়ে মিজানদের বাড়িতে শটগান নিয়ে হামলা চালান। এলোপাতাড়ি গুলিতে বাড়িতে থাকা শিশুসহ ১৩ জন গুলিবিদ্ধ হন। তাদের হাসপাতালে নিতে বাধা দিচ্ছিল বাড়ি ঘিরে রাখা দলটি। রাত ১২টার দিকে পুলিশ গিয়ে তাদের উদ্ধার করে পাঠায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে।
হাসপাতালে আসা ১৪ জনের মধ্যে ১৩ জনের শরীরে গুলির চিহ্ন দেখেছেন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) শংকর কুমার পাল।
আহত রফিকুল খানের অভিযোগ, হারুন ও মান্নান এলাকায় মাদক কারবারে জড়িত। হেলমেট পরা কাউকে দেখলে তারা পুলিশ ভেবে ভয় পান। তাই এলাকায় হেলমেট পরে কাউকে বাইক চালাতে দেন না। তাদের কথা না মানলে হুমকি দেন, মারধরও করেন।
অভিযুক্ত হারুন, মান্নান ও মহসিন নামের আরেকজনকে গ্রেপ্তার করার কথা জানিয়েছেন শ্রীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জুয়েল মিয়া। তাদের থেকে জব্দ করা হয়েছে একটি একনলা বন্দুক ও একটি পিস্তল। অস্ত্র দুটি বৈধ বলে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত থানা পুলিশ।
জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফিরোজ অবশ্য বলছেন, হামলাকারী ও হামলার শিকার- দুই পক্ষ একই বংশের। আগের বিরোধের জেরে ঘটেছে এই ঘটনা; তদন্তের পর জানা যাবে বিস্তারিত।

