উখিয়ায় যৌথ বাহিনীর অভিযানে ছয় শতাধিক রোহিঙ্গা আটক

সংগৃহীত ছবি
কক্সবাজারের উখিয়ায় যৌথ বাহিনীর অভিযানে ছয় শতাধিক রোহিঙ্গাকে আটক করা হয়েছে। আজ রবিবার ভোর থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত চলা এই অভিযানে তাঁদের আটক করা হয়। আটক রোহিঙ্গারা বন বিভাগের জমিতে ঘরবাড়ি নির্মাণ করে বসবাস করে আসছেন।
অভিযানের তথ্য নিশ্চিত করে জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ( ডিএসবি) অলক বিশ্বাস বলেন, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রোহিঙ্গাদের বিভিন্ন অপরাধমূলক কাজে ব্যবহার করা হতে পারে— এই শঙ্কায় যৌথ অভিযান চালানো হচ্ছে। অভিযানে আটক রোহিঙ্গারা আশ্রয়শিবিরে নিবন্ধিত, নাকি নতুন করে অনুপ্রবেশকারী, তা নিশ্চিত হয়ে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি আরো বলেন, ‘নির্বাচন সামনে রেখে উখিয়া ও টেকনাফের রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরগুলোতে আগে থেকেই কঠোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে, যাতে রোহিঙ্গাদের কেউ শিবির থেকে বাইরে যেতে না পারে।’
শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার ( আরআরআরসি) মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, যৌথ বাহিনীর অভিযানে আজ যেসব রোহিঙ্গাকে আটক করা হয়েছে, তাঁরা কেউ আশ্রয়শিবিরে নিবন্ধিত নন। এক বছর ধরে এই রোহিঙ্গারা পালংখালী ইউনিয়নে বন বিভাগের জমিতে বসবাস করে আসছেন।
প্রসঙ্গত, উখিয়া ও টেকনাফের ৩৩টি আশ্রয়শিবিরে নিবন্ধিত রোহিঙ্গার সংখ্যা ১৪ লাখের বেশি। এর মধ্যে ৮ লাখ এসেছে ২০১৭ সালের ২৫ আগস্টের পরের কয়েক মাসে। গত আট বছরে একজন রোহিঙ্গাকেও মিয়ানমারে ফেরত পাঠানো সম্ভব হয়নি। উল্টো গত দেড় বছরে রাখাইন রাজ্য থেকে উখিয়া ও টেকনাফে পালিয়ে এসেছে আরও অন্তত দুই লাখ রোহিঙ্গা। এর মধ্যে অন্তত দেড় লাখ রোহিঙ্গা উখিয়া ও টেকনাফের বিভিন্ন আশ্রয়শিবিরে মাথা গোঁজার ঠাঁই পেয়েছে। অবশিষ্ট রোহিঙ্গারা কক্সবাজার-টেকনাফ সড়কের পাশে বন বিভাগ ও ব্যক্তিমালিকানাধীন জমিতে অস্থায়ী ঘরবাড়ি তৈরি করে বসবাস করছেন।

