যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তি: ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কাল বসছে সরকার

ফাইল ছবি
যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কনীতি ঘিরে নতুন করে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আরোপ করা পাল্টা শুল্ক বাতিল করার পর বাংলাদেশ–যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্যচুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। এর মধ্যেই ট্রাম্প প্রশাসন সব দেশের জন্য নতুন শুল্কহার কার্যকর করেছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
এই প্রেক্ষাপটে আগামীকাল বুধবার ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠকে বসছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। সকালে অনুষ্ঠিতব্য বৈঠকে বিজিএমইএ, বিকেএমইএসহ বিভিন্ন খাতের শীর্ষ ব্যবসায়ী নেতারা উপস্থিত থাকবেন। বৈঠকে থাকবেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির ও বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান।
বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্বাক্ষরিত বাণিজ্যচুক্তি ও শুল্কনীতি ঘিরে জটিলতা তৈরি হয়েছে। সামনের দিনগুলোতে করণীয় নির্ধারণে আলোচনার জন্যই এ বৈঠক ডাকা হয়েছে।
রপ্তানিকারকদের ভাষ্য, অন্তর্বর্তী সরকার যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা শুল্কের ভিত্তিতে চুক্তিটি করেছিল। এখন সেই শুল্ক বাতিল হওয়ায় চুক্তির ভিত্তিও প্রশ্নের মুখে পড়েছে। যদি চুক্তি অকার্যকর হয়, তবে যুক্তরাষ্ট্র যেসব সাধারণ শুল্কহার ঘোষণা করবে, সেটিই কার্যকর হবে।
ব্যবসায়ীরা মনে করছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তিটি এড়ানো সম্ভব কি না, তা পর্যালোচনা করা দরকার। এড়ানো না গেলে বিদ্যমান চুক্তি অনুযায়ী ১৯ শতাংশ শুল্ক বহাল থাকতে পারে। শুল্ক কমাতে হলে চুক্তিটি পুনর্মূল্যায়নের উদ্যোগ নিতে হবে। পাশাপাশি ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে সম্ভাব্য বাণিজ্যচুক্তি নিয়ে এখন অগ্রসর হওয়া ঠিক হবে কি না, সেটিও বিবেচনায় নিতে হবে।
ঢাকা চেম্বারের সভাপতি তাসকিন আহমেদ ইতিমধ্যে সরকারের কাছে চুক্তির ভবিষ্যৎ সম্পর্কে স্পষ্ট ব্যাখ্যা চেয়েছেন। এমপ্লয়ার্স ফেডারেশনের সভাপতি ফজলে শামীম এহসান বলেন, আপাতত সবার জন্য ১০ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক নির্ধারিত হলেও ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি অনিশ্চিত। চুক্তির বিষয়টি পুনর্মূল্যায়ন করে দুই পক্ষের জন্য গ্রহণযোগ্য সমাধান খুঁজে বের করার পরামর্শ দেন তিনি।
সাম্প্রতিক চুক্তি অনুযায়ী, বাংলাদেশি পণ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ১৯ শতাংশ পাল্টা শুল্ক ধার্য করেছে। তবে মার্কিন তুলা ব্যবহার করলে শূন্য শুল্কে রপ্তানির সুযোগ রয়েছে। এর বিনিময়ে বাংলাদেশকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বিপুল পরিমাণ তুলা ও সয়াবিন আমদানি এবং অন্তত চারটি বোয়িং বিমান কিনতে হবে।
অন্যদিকে, শুল্ক ইস্যুতে মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের রায় ও ট্রাম্প প্রশাসনের অবস্থান ঘিরে বৈশ্বিক অঙ্গনেও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন গ্রীষ্মে সম্পাদিত একটি চুক্তির অনুমোদন স্থগিত করার কথা জানিয়েছে। ভারতও পূর্বনির্ধারিত বাণিজ্য আলোচনা স্থগিত করেছে।
এ অবস্থায় ট্রাম্প তাঁর মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্তের সুযোগ নিয়ে কেউ যদি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ‘খেলার’ চেষ্টা করে, তবে তাদের ওপর আরও কঠোর শুল্ক আরোপ করা হবে।
সব মিলিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কনীতি ও সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর বাংলাদেশ–যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্যসম্পর্ক নতুন অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। বুধবারের বৈঠকেই এ বিষয়ে সরকারের পরবর্তী অবস্থান স্পষ্ট হতে পারে।

