বিদেশি ঋণ বেড়েছে ১৫ হাজার ৮৬০ কোটি টাকা

আগামীর সময় গ্রাফিক্স
সদ্য বিদায়ী ড. ইউনুসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে ডিসেম্বর প্রান্তিকে বিদেশি ঋণের পরিমাণ ১ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার বা প্রায় ১৫ হাজার ৮৬০ কোটি টাকা (ডলার রেট ১২২ টাকা ধরে) বেড়েছে। এতে মোট বিদেশি ঋণ দাঁড়িয়েছে ১১৩ দশমিক ৫১ বিলিয়ন ডলারে।
এর আগে সেপ্টেম্বর প্রান্তিক শেষে বিদেশি ঋণের পরিমাণ ছিল ১১২ বিলিয়ন ডলারের কিছু বেশি। গতকাল মঙ্গলবার বিদেশি ঋণ সংক্রান্ত বাংলাদেশ ব্যাংকের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট একাধিক কর্মকর্তাদের মতে, সরকারি ও বেসরকারি— উভয় খাতে বিদেশি ঋণ গ্রহণ বেড়েছে বলেই মোট ঋণের পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে। সে সময় আকু পেমেন্ট না হওয়া এবং অফশোর ব্যাংকিং ইউনিটে ডলার প্রবাহ বাড়ার কারণে বিদেশি ঋণ বেড়েছে। ডিসেম্বর প্রান্তিকে আকু পেমেন্ট না হওয়ায় ওই অর্থ এখানে যুক্ত হয়েছে। এছাড়া অফশোর ব্যাংকিং ইউনিটে বিদেশ থেকে প্রায় ৪০০ মিলিয়ন ডলার আসায় ঋণের পরিমাণ আরও বেড়েছে।
বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিসে সাবেক মুখ্য অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন বলেন, উন্নয়ন প্রকল্পে বিদেশি ঋণের প্রয়োজন রয়েছে। তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ঋণের অর্থ যথাযথভাবে ব্যবহার হচ্ছে কি না তা খতিয়ে দেখা জরুরি। বিদেশি ঋণের অর্থ যদি এমন প্রকল্পে ব্যয় করা হয়, যা জনগণের জীবন-যাত্রার মানে সার্বিক উন্নতি ঘটায় এবং সেখান থেকে অর্থনৈতিক সুফল পাওয়া যায়, তাহলে তা ইতিবাচক। অন্যথায় এটি অর্থনীতির জন্য বড় ধরণের বোঝা হয়ে দাঁড়াবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের এক নির্বাহী পরিচালক জানান, বিদেশি ঋণ সঠিকভাবে ব্যবহার করা গেলে তা পরিশোধের সক্ষমতা বাড়ায়। অন্যথায় এই ঋণই একসময় অর্থনীতিতে বাড়তি চাপ তৈরি করবে। তাই এসব ঋণের যথাযথ ব্যবহার হচ্ছে কি না, তা সরকারের নজরদারিতে বাড়া রাখা উচিত।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, সরকারি খাতে বিদেশি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৯৩ দশমিক ৪৬ বিলিয়ন ডলার এবং বেসরকারি খাতে ২০ দশমিক ০৫ বিলিয়ন ডলার। সেপ্টেম্বর প্রান্তিকের তুলনায় উভয় খাতেই বিদেশি ঋণ বেড়েছে।

