জটের ভয় চট্টগ্রাম বন্দরে

ফাইল ছবি
বিদেশি অপারেটর দিয়ে এনসিটি টার্মিনাল পরিচালনা চুক্তি ঘিরে ডাকা ধর্মঘটে চট্টগ্রাম বন্দরে আমদানি-রপ্তানি কন্টেইনারের জট লেগেছে। বহির্নোঙরে সাগরে জাহাজের দীর্ঘ লাইন তৈরি হয়েছে। ধর্মঘট প্রত্যাহারের পর জট পরিস্থিতির উন্নতির আশা করা হলেও সংসদ নির্বাচন ঘিরে তিনদিনের ছুটিতে আবারো জটের আশংকা।
মূলত সংসদ নির্বাচন ঘিরে বন্দরের অপারেশন কার্যক্রম বন্ধ না থাকলেও বন্দর থেকে আমদানি কন্টেইনার বের করা এবং রপ্তানি কন্টেইনার বন্দরের প্রবেশের ক্ষেত্রে গাড়ি চলাচলে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। এতে বন্দরের ভেতর কাজ চললেও আমদানি-রপ্তানি কাজে জড়িত সিঅ্যান্ডএফ, ফ্রেইট ফরোয়ার্ডার, শিপিং এজেন্টসহ বন্দর ব্যবহারকারী সংস্থাগুলোর সমানতালে কার্যক্রম সীমিত হয়ে পড়েছে।
সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অহিদ নিহাদ চৌধুরী এন্টারপ্রাইজের মালিক আবদুল আহাদ আগামীর সময়কে বলেন, ‘কর্মীদের প্রায় সবাই গ্রামের বাড়ি চলে গেছেন। এখন অফিস কর্মী কেবল আমিই। স্বাভাবিকভাবেই জরুরি পণ্য ছাড়া বন্দর থেকে ডেলিভারি নিচ্ছি না। তিনদিনের বন্ধে ধর্মঘটে তৈরী হওয়া জট আবারো বাড়বে।’
তিনদিনের ছুটির প্রভাব যে পড়েছে সেটি মহাসড়কে পণ্যবাহী গাড়ি চলাচলের ছবি দেখেই আঁচ করা যায়। চট্টগ্রাম বন্দর থেকে প্রতিদিন সাড়ে ৫ হাজার কন্টেইনার ডেলিভারি হয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে যায়। কিন্তু বুধবার সকাল থেকেই সেই ডেলিভারি অর্ধেকে নেমেছে। বৃহষ্পতিবার সেটি আরও কমবে। শুক্রবার-শনিবার সরকারি ছুটি থাকায় এমনিতেই ডেলিভারি কম থাকে। অর্থাৎ রবিবার থেকে বন্দরের জট আস্তে আস্তে কমতে থাকবে।
বন্দরের পরিবহন বিভাগের তথ্য বলছে, বন্দরে ৫৯ হাজার একক (প্রতিটি ২০ ফুট দীর্ঘ) কন্টেইনার রাখার সুযোগ আছে। মঙ্গলবার পর্যন্ত ৪০ হাজার একক কন্টেনার জমেছিল। বুধবারের তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি। ধারনা করা হচ্ছে ডেলিভারি কমে যাওয়ায় বন্দরের ভেতর কন্টেইনার সংখ্যা ৪৫ হাজারে উন্নীত হবে। আরও দুদিন অবস্থা অব্যাহত থাকলে ধারনক্ষমতার কাছাকাছি পৌঁছবে।
চট্টগ্রাম বন্দর পরিচালক (পরিবহন) এনামুল করিম অবশ্য আগামীর সময়কে বলেন, ‘আশা করছি রবিবার থেকেই ডেলিভারি পুরোদমে শুরু হবে।’
কন্টেইনারবাহি জাহাজ প্রথমে চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে পৌঁছে। সেখান থেকে সিরিয়াল বা বার্থিং অনুমতি নিয়ে জাহাজ জেটিতে ভিড়ে। ধর্মঘটের কারণে অপারেশনাল কার্যক্রম অচল থাকায় ৪৬টি জাহাজ অলস বসেছিল। এসব জাহাজে খাদ্যপণ্য, রমজানের ভোগ্যপণ্য, তেলসহ অন্যান্য সামগ্রী বোঝাই রয়েছে।

