আগামীর সময়

আস্থার সংকটে শেয়ারবাজার, ৩ মাসে ছেড়েছেন ১৩ হাজার বিনিয়োগকারী

আস্থার সংকটে শেয়ারবাজার, ৩ মাসে ছেড়েছেন ১৩ হাজার বিনিয়োগকারী

সংগৃহীত ছবি

দীর্ঘদিনের নিম্নমুখী প্রবণতা ও শেয়ারবাজারে আস্থার সংকটের কারণে বিপুলসংখ্যক বিনিয়োগকারী শেয়ারবাজার থেকে সরে দাঁড়াচ্ছেন। ফলে গত তিন মাসে প্রায় ১৩ হাজার বেনিফিশিয়ারি ওনার (বিও) অ্যাকাউন্টে কোনো শেয়ার অবশিষ্ট নেই।

সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি বাংলাদেশ লিমিটেড (সিডিবিএল)-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর যেখানে শূন্য শেয়ার থাকা বিও অ্যাকাউন্টের সংখ্যা ছিল ৩ লাখ ৬৭ হাজার ৪২৩টি, তা ২০২৬ সালের ২৫ মার্চ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩ লাখ ৮০ হাজার ২৯৭টিতে। অর্থাৎ এই সময়ে ১২ হাজার ৮৭৪টি অ্যাকাউন্ট নতুন করে শেয়ারশূন্য হয়ে গেছে।

এর ফলে দেশের প্রায় ১৬ লাখ ৫০ হাজার সক্রিয় বিও অ্যাকাউন্টের মধ্যে ২৩ শতাংশেরও বেশি অ্যাকাউন্টে এখন কোনো শেয়ার নেই, যা খুচরা বিনিয়োগকারীদের বাজার থেকে সরে যাওয়ার একটি স্পষ্ট ইঙ্গিত।

বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক চাপ, প্রাথমিক ও সেকেন্ডারি বাজারে দুর্বল রিটার্ন এবং বৈশ্বিক অস্থিরতার কারণে বিনিয়োগকারীদের আস্থা কমে গেছে। অনেকেই লোকসান মেনেই শেয়ার বিক্রি করে বাজার থেকে বেরিয়ে যাচ্ছেন।

সিডিবিএলের তথ্য অনুযায়ী, কিছু বিনিয়োগকারী ঝুঁকি কমাতে একাধিক অ্যাকাউন্টের পরিবর্তে কম সংখ্যক অ্যাকাউন্টে বিনিয়োগ কেন্দ্রীভূত করছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, দুর্বল বাজার পরিস্থিতির পাশাপাশি ভালো মানের বিনিয়োগযোগ্য শেয়ারের অভাব এবং নতুন আইপিও না আসাও বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ কমিয়ে দিয়েছে। তারা বলছে, বাজারে প্রত্যাশিত রিটার্ন না থাকায় নতুন বিনিয়োগকারী আসছে না, বরং পুরোনো বিনিয়োগকারীরাও শেয়ার বিক্রি করে টাকা তুলে নিচ্ছেন।

তারা ব্যাখ্যা করে বলেছেন, অনেক বিনিয়োগকারী শুধুমাত্র আইপিওতে অংশ নিতে বিও অ্যাকাউন্ট খুলেছিলেন। কিন্তু গত দুই বছরে নতুন আইপিও না আসায় এসব অ্যাকাউন্ট নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছে।

অন্যদিকে, সরকারি সিকিউরিটিজ বিশেষ করে ট্রেজারি বন্ডে উচ্চ সুদের হার বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করছে। ফলে অনেকেই শেয়ারবাজার থেকে অর্থ সরিয়ে অপেক্ষাকৃত নিরাপদ খাতে বিনিয়োগ করছেন, যা বাজারের তারল্য কমিয়ে দিচ্ছে।

বাজারসংশ্লিষ্টরা আরও জানান, আইপিওতে ন্যূনতম বিনিয়োগ বাধ্যতামূলক করার মতো নীতিগত পরিবর্তন ছোট বিনিয়োগকারীদের নিরুৎসাহিত করেছে। পাশাপাশি বিও অ্যাকাউন্ট রক্ষণাবেক্ষণে বছরে প্রায় ১ হাজার ৫০০ টাকা খরচ হওয়ায় অনেক ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারী অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দিচ্ছেন।

তবে বাজারে অংশগ্রহণ বাড়াতে নিয়ন্ত্রক সংস্থা কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে। আইপিওতে ন্যূনতম বিনিয়োগের বাধ্যবাধকতা তুলে দেওয়া হয়েছে এবং বিও অ্যাকাউন্ট রক্ষণাবেক্ষণ ফি কমিয়ে ৪৫০ টাকা থেকে ১৫০ টাকায় নামানো হয়েছে।

এসব উদ্যোগ সত্ত্বেও মূল্যস্ফীতি, মুদ্রার অবমূল্যায়ন এবং জ্বালানি দামের অস্থিরতার কারণে বাজারে চাপ রয়ে গেছে। মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনাও বিনিয়োগকারীদের সতর্ক অবস্থানে রাখছে।

    শেয়ার করুন: