মন্দার বাজারেও লাভে খাদ্য খাত, এগিয়ে কারা

সংগৃহীত ছবি
শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত খাদ্য ও অনুষঙ্গ খাতের কোম্পানিগুলোর ব্যবসায়িক চিত্রে ইতিবাচক পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। সাম্প্রতিক আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই খাতের মোট ২১টি কোম্পানির মধ্যে অর্ধেকেরও বেশি অর্থাৎ ১১টি কোম্পানি সাফল্যের সাথে মুনাফা বা ইতিবাচক ইপিএস ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে।
বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, নিত্যপণ্যের ক্রমবর্ধমান চাহিদা এবং কোম্পানিগুলোর দক্ষ ব্যবস্থাপনার কারণে প্রতিকূল অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতেও এই কোম্পানিগুলো লাভের ধারা বজায় রেখেছে।
তালিকায় থাকা এগ্রিকালচার মার্কেটিং কোম্পানির (প্রাণ) স্বল্পমেয়াদী এবং দীর্ঘমেয়াদী মুনাফায় মিশ্র প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। অক্টোবর-ডিসেম্বর কোয়াটারে গত বছরের একই সময়ের তুলনায় আয় সামান্য বেড়েছে (১ টাকা ৭১ পয়সা, যা আগে ছিল ১ টাকা ৬৯ পয়সা)। অন্যদিকে (জুলাই-ডিসেম্বর) অর্ধবার্ষিক হিসেবে মুনাফা কিছুটা কমেছে। গত বছর এই সময়ে মুনাফা ছিল ৩ টাকা ৫৪ পয়সা, যা এবার দাঁড়িয়েছে ৩ টাকা ৪১ পয়সা। এটি নির্দেশ করে যে বছরের শুরুর দিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) মুনাফা তুলনামূলক কম ছিল।
এপেক্স ফুডস লিমিটেডের মুনাফায় উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি দেখা যাচ্ছে। অক্টোবর-ডিসেম্বর (৩ মাস) কোয়াটারে গত বছরের একই সময়ের তুলনায় আয় দ্বিগুণ হয়েছে। এবার ইপিএস ৬৪ পয়সা, যা আগে ছিল ৩২ পয়সা। অর্ধবার্ষিক (জুলাই-ডিসেম্বর) হিসেবে ইপিএস গত বছরের ২ টাকা ৫২ পয়সা থেকে বেড়ে ৩ টাকা ৫১ পয়সা হয়েছে।
অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের মুনাফায় ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধি লক্ষ্য করা গেছে। অক্টোবর-ডিসেম্বর কোয়াটারে গত বছরের একই সময়ের তুলনায় আয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩ টাকা ১২ পয়সা, যা আগে ছিল ২ টাকা ৯৯ পয়সা। অর্ধবার্ষিক (জুলাই-ডিসেম্বর) হিসেবেও মুনাফা বেড়েছে। গত বছরের ৫ টাকা ৮২ পয়সার বিপরীতে এবার ইপিএস হয়েছে ৫ টাকা ৯৯ পয়সা।
ফাইন ফুডিস লিমিটেডের অক্টোবর-ডিসেম্বর ২০২৫ প্রান্তিকে শেয়ারপ্রতি আয় হয়েছে ২ টাকা ৫৯ পয়সা, যেখানে আগের বছরের একই সময়ে আয় ছিল ১ টাকা ১৯ পয়সা। অর্ধবার্ষিক (জুলাই-ডিসেম্বর) হিসেবেও মুনাফা বেড়েছে। গত বছরের ১ টাকা ৮১ পয়সার বিপরীতে এবার ইপিএস হয়েছে ৫ টাকা ১৬ পয়সা।
তৌফিকা ফুডস এন্ড লাভেলো আইসক্রিম পিএলসি তার আয়ে প্রবৃদ্ধি ধরে রেখেছে। কোম্পানিটির অক্টোবর-ডিসেম্বর ২০২৫ প্রান্তিকে শেয়ার প্রতি আয় হয়েছে ১ টাকা ১৬ পয়সা, যেখানে আগের বছরের একই সময়ে আয় ছিল ৫৬ পয়সা। অর্ধবার্ষিক (জুলাই-ডিসেম্বর) হিসেবেও মুনাফা বেড়েছে। গত বছরের ১ টাকা ৩৮ পয়সার বিপরীতে এবার ইপিএস হয়েছে ২ টাকা ১৩ পয়সা।
এদিকে ইউনিলিভার কনজুমার কেয়ার লিমিটেডের মুনাফায় ঊর্ধ্বগতি অব্যাহত রয়েছে। সর্বশেষ তথ্য থেকে জানা যায়, ডিসেম্বর শেষে গত বছরের একই সময়ের তুলনায় আয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪১ টাকা ২১ পয়সায়, যা আগের বছর ছিল ৩৪ টাকা ৬২ পয়সা।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, খাদ্য ও অনুষঙ্গ খাতের এই কোম্পানিগুলোর সাফল্যের পেছনে কয়েকটি মূল কারণ কাজ করছে। অর্থনৈতিক মন্দা থাকলেও খাদ্য ও নিত্যপণ্যের চাহিদায় টান পড়ে না। জেমিনি সি ফুড ও অ্যাপেক্স ফুডসের মতো কোম্পানিগুলো বিদেশে পণ্য পাঠিয়ে বৈদেশিক মুদ্রা আয় করছে। ম্যারিকো ও অলিম্পিকের মতো শক্তিশালী ব্র্যান্ডগুলো বাজারে নিজেদের একচেটিয়া আধিপত্য বজায় রেখেছে।
বর্তমানে খাদ্য খাতের সেক্টর পিই রেশিও প্রায় ১৫.৩৬। এর মানে হলো, অধিকাংশ লাভজনক কোম্পানির শেয়ার এখনো বিনিয়োগযোগ্য মূল্যে লেনদেন হচ্ছে। বিশেষ করে দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগকারীদের জন্য এই কোম্পানিগুলো মৌলভিত্তি সম্পন্ন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। যদিও খাতের বেশ কয়েকটি কোম্পানি এখনো লোকসানে, তবে অধিকাংশ কোম্পানির এই শক্তিশালী অবস্থান পুরো খাতের স্থিতিশীলতার ইঙ্গিত দিচ্ছে। সাধারণ বিনিয়োগকারীদের জন্য এ খাত এখন আগের চেয়ে বেশি সম্ভাবনাময়।

