আগামীর সময়

আলহাজ্ব টেক্সটাইল ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে, মার্জিন ঋণ বন্ধ

আলহাজ্ব টেক্সটাইল ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে, মার্জিন ঋণ বন্ধ

শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত বস্ত্র খাতের অন্যতম পুরনো কোম্পানি আলহাজ্ব টেক্সটাইল মিলস লিমিটেড নিয়ে আজ সোমবার (৩০ মার্চ) বিএসইসি ও ডিএসই থেকে গুরুত্বপূর্ণ দুটি নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। ডিভিডেন্ড বিতরণে ব্যর্থতা ও নিয়ম ভঙ্গের কারণে কোম্পানিটিকে ‘শাস্তিমূলক’ ব্যবস্থার আওতায় আনা হয়েছে।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) জানিয়েছে, বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) নির্দেশনায় আজ ৩০ মার্চ, ২০২৬ থেকে কোম্পানিটিকে বিদ্যমান ‘বি’ ক্যাটাগরি থেকে সরাসরি ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে স্থানান্তর করা হয়েছে। মূল কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে— ঘোষিত ডিভিডেন্ড নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেয়ারহোল্ডারদের মাঝে বিতরণ করতে ব্যর্থ হওয়া।

একই সাথে, মার্জিন রুলস-২০২৫ এর ১১(৮) ধারা অনুযায়ী আজ থেকেই আল-হাজ টেক্সটাইলের শেয়ার কেনার জন্য বিনিয়োগকারীদের কোনো ধরনের ঋণ সুবিধা (মার্জিন লোন) না দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে স্টক ব্রোকার ও মার্চেন্ট ব্যাংকারদের।

২০২৪ সালের জন্য কোম্পানিটি ৩৫ শতাংশ স্টক ডিভিডেন্ড ঘোষণা করলেও, আর্থিক প্রতিবেদনে অসঙ্গতি থাকায় বিএসইসি গত ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে সেই আবেদন বাতিল করে দেয়। বর্তমানে শুধুমাত্র ০.৫০ টাকা (৫ শতাংশ) ক্যাশ ডিভিডেন্ড কার্যকর থাকলেও তা বিতরণে বিলম্বের কারণেই আজ কোম্পানিটি ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে গেল। প্রতিষ্ঠানটি ১৯৬১ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় এবং স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে ১৯৮২ সালে বেসরকারিকরণ করা হয়। কোম্পানিটি ১৯৮৩ সালে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত হয়।

তবে ডিএসই এবং সাম্প্রতিক তথ্যানুযায়ী, কোম্পানিটির ডিভিডেন্ড প্রদানের রেকর্ড বেশ নড়বড়ে। ডিএসই সূত্রে জানা যায়, ২০২০ সালে কোন ডিভিডেন্ড দেয়নি। এর পর ২০২১ সালে ১ শতাংশ ক্যাশ, ২০২২ সালে ৩ শতাংশ ক্যাশ ডিভিডেন্ড দিলেও ২০২৩ সালে নো ডিভিডেন্ড ঘোষণা করে। আর ২০২৪ সালে ডিভিডেন্ড ঘোষণা করলেও বিতরণ করতে না পারায় ক্যাটাগরি পরিবর্তন হলো আজ।

আলহাজ্ব টেক্সটাইল মিলস মূলত সুতা উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান। এরা প্রধানত ১০০ শতাংশ কটন ইয়ার্ন (সুতা) উৎপাদন করে। এদের কারখানায় ৪০, ৫০, ৫৪, ৬০ এবং ৮০ কাউন্টের সুতা তৈরি হয় যা স্থানীয় গার্মেন্টস ও টেক্সটাইল মিলে সরবরাহ করা হয়। কারখানা পাবনার ঈশ্বরদীতে অবস্থিত। সম্প্রতি কোম্পানিটি উৎপাদন ক্ষমতা বাড়াতে এবং আধুনিকায়নে বড় অংকের বিনিয়োগের ঘোষণা দিয়েছে।

বাজার সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে যাওয়ার ফলে শেয়ারটির লেনদেনের সেটেলমেন্ট সময় বৃদ্ধি পাবে এবং মার্জিন ঋণ বন্ধ হওয়ায় শেয়ারটির চাহিদা ও দরে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষ করে বোনাস শেয়ার বাতিলের পর ডিভিডেন্ড বিতরণে ব্যর্থতা কোম্পানির সুশাসনের ঘাটতিকেই নির্দেশ করছে।

    শেয়ার করুন: