অনিশ্চয়তার মধ্যেও ডিএসইতে উত্থান

ছবিঃ আগামীর সময়
পতনের একদিন পরেই ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) সূচকের উত্থানে লেনদেন শেষ হয়েছে। মঙ্গলবার দিন শেষে দেশের প্রধান শেয়ারবাজারে সূচকের সঙ্গে বেড়েছে লেনদেনর পরিমাণ। অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ারের দামেও ছিল ইতিবাচক প্রবণতা।
দিনের শুরুতে সূচকের কিছুটা উত্থান হলেও পরের এক ঘণ্টায় নিম্নমুখী হয়ে পড়ে বাজার। এরপর থেকে ওঠা-নামার মধ্যে লেনদেন চলতে থাকে। তবে শেষের এক ঘণ্টায় সূচকের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়তে থাকে লেনদেনের পরিমাণ। দিন শেষে গত দিনের তুলনায় ১০০ কোটি টাকার বেশি লেনদেন হয়েছে ডিএসইতে।
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধপরিস্থিতির কারণে গোটা বিশ্বের মত বাংলাদেশেও জ্বালানি তেলের বাজারে অস্থিরতা বিরাজ করছে। জ্বালানি তেলের সংকট দেশের উৎপাদন ব্যবস্থায় প্রভাব ফেলবে। কাঁচামাল এবং উৎপাদিত পণ্য পরিবহনে দেখা দেবে বিশৃঙ্খলা। যার প্রভাবে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানির আয় কমতে পারে। যদিও সরকারের পক্ষ থেকে বার বার বলা হচ্ছে এই মুহূর্তে দেশে জ্বালানি তেলের সংকট নেই। বিনিয়োগকারীদের মধ্যে সেই ঘোষণা আস্থা ফিরিয়ে আনতে পারছে না, যার নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে শেয়ারবাজারে।
বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দীর্ঘদিন দরপতনের কারণে অধিকাংশ শেয়ারের দাম আকর্ষণীয় ক্রয়মূল্যে নেমে এসেছে। এ কারণে বাজারে ক্রয় চাপ কিছুটা বেশি দেখা যাচ্ছে। কারণ বিনিয়োগকারীরা ভাবছেন এই দামে শেয়ার কিনলে তারা লাভবান হতে পারবেন। যার প্রভাবে আজকে লেনদেন উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বেড়েছে।
দিন শেষে ডিএসইএক্স সূচক ৩১ পয়েন্ট বেড়ে ৫৩১৬ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। ডিএসইএস সূচক ১ পয়েন্ট বেড়ে ১০৭৩ পয়েন্টে রয়েছে এবং ডিএসই৩০ সূচক ৮ পয়েন্ট বেড়ে ২০১৯ পয়েন্টে রয়েছে।
লেনদেন হওয়া ৩৯০টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে দাম বেড়েছে ২৪১টির, দাম কমেছে ১০২টির এবং দাম অপরিবর্তিত ৪৭টির। শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত ভালো কোম্পানির ক্যাটাগরি এ। এই ক্যাটাগরির মোট লেনদেন হওয়া ২০২টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১৪২টির দাম বেড়েছে। দাম কমেছে ৩৬টির আর অপরিবর্তিত রয়েছে ২৪টির।
বি ক্যাটাগরির তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানের মধ্যে লেনদেন হয়েছে ৮০টি কোম্পানির। এর মধ্যে দাম বেড়েছে ৬০টির, দাম কমেছে ১৩টির আর দাম অপরিবর্তিত রয়েছে ৮০টি কোম্পানির। লভ্যাংশ না দেওয়া প্রতিষ্ঠানের ক্যাটাগরি হলো জেড। এই ক্যাটাগরির তালিকাভুক্ত ১০৮টি প্রতিষ্ঠানের লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে দাম বেড়েছে ৩৯টির, দাম কমেছে ৫৩টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ১৬টির।
দিন শেষে দাম বাড়ার শীর্ষে থাকা ১০ কোম্পানির মধ্যে ৯টিই মিউচ্যুয়াল ফান্ড। এর মধ্যে রয়েছে এবিএলএনআরবি মিউচ্যুয়াল ফান্ড, পিএইচপি মিউচ্যুয়াল ফান্ড১, পপুলার১ মিউচ্যুয়াল ফান্ড, বিডি থাই, ১জনতা মিউচ্যুয়াল ফান্ড, এক্সিম১ মিউচ্যুয়াল ফান্ড, ফাস্ট বাংলাদেশে ফিক্সড ইনকাম ফান্ড, ট্রাস্ট ব্যাংক ফাস্ট মিউচ্যুয়াল ফান্ড, এবি ব্যাক ফাস্ট মিউচ্যুয়াল ফান্ড এবং আইএফআইসি ফাস্ট মিউচ্যুয়াল ফান্ড।

