ইপিএস প্রকাশ ৫৩ কোম্পানির, লোকসান কাটেনি ১৪টির

ছবি: আগামীর সময়
শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত ৫৩ কোম্পানির শেয়ারপ্রতি মুনাফার (ইপিএস) তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই)। এর মধ্যে ১১টি বা ২৬ শতাংশ কোম্পানির চলতি অর্থবছরেও লোকসান হয়েছে। এর সঙ্গে গত অর্থবছরে মুনাফা করা ছয়টি কোম্পানি চলতি অর্থবছরে লোকসানে নেমেছে।
রবিবার (৩ মে) কোম্পানিগুলোর এ তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে ডিএসইর ওয়েবসাইটে।
কোম্পানিগুলোর মধ্যে ৪২টির ৯ মাসের (জুলাই ২০২৫-মার্চ ২০২৬) এবং ১১টির তিন মাসের (জানুয়ারি-মার্চ ২০২৬) ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে।
ইপিএস প্রকাশ করা কোম্পানিগুলোর মধ্যে ১৮ কোম্পানির মুনাফা (এর মধ্যে তিনটি মুনাফায় ফিরেছে) বেড়েছে। এ ছাড়া মুনাফা কমেছে ২১ কোম্পানির (এরমধ্যে ছয়টি লোকসানে নেমেছে), তিনটি কোম্পানির লোকসান কমেছে ও ১১টির লোকসান বেড়েছে।
কোম্পানিগুলোর মধ্যে ব্যবসায় সবচেয়ে বেশি উত্থান হয়েছে লিগ্যাসি ফুটওয়্যারের। এ কোম্পানিটির আগের অর্থবছরের ৯ মাসের শেয়ারপ্রতি ০.১৪ টাকার লোকসান চলতি অর্থবছরের ৯ মাসে হয়েছে মুনাফা ০.০৪ টাকা। এ ক্ষেত্রে শেয়ারপ্রতি মুনাফা বেড়েছে ১২৯ শতাংশ।
পরের অবস্থানে থাকা অলটেক্স ইন্ডাস্ট্রিজের শেয়ারপ্রতি মুনাফা বেড়েছে ১২১ শতাংশ। এ কোম্পানিটির আগের অর্থবছরের শেয়ারপ্রতি ০.১৪ টাকা লোকসান থেকে চলতি অর্থবছরের ৯ মাসে হয়েছে শেয়ারপ্রতি মুনাফা ০.০৩ টাকা। আর তৃতীয় অবস্থানে থাকা ইন্দো-বাংলা ফার্মাসিউটিক্যালসের শেয়ারপ্রতি ০.১৭ টাকা থেকে ০.০২ টাকা মুনাফা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে উত্থান ১১২ শতাংশ।
ব্যবসায় উত্থানের কারণ হিসেবে ওষুধ বিক্রি বৃদ্ধি, গ্রোস মুনাফায় উন্নতি ও পরিচালন ব্যয় নিয়ন্ত্রণকে উল্লেখ করেছে ইন্দো-বাংলা ফার্মাসিউটিক্যালস কর্তৃপক্ষ। যা ডিএসইর মাধ্যমে স্টেকহোল্ডারদের জন্য প্রকাশ করা হয়েছে।
অপরদিকে ব্যবসায় সবচেয়ে বেশি পতন হয়েছে বিডি থাই ফুডের। এ কোম্পানিটির আগের অর্থবছরের ৯ মাসে শেয়ারপ্রতি ০.০৮ টাকা মুনাফা হলেও চলতি অর্থবছরের একই সময়ে হয়েছে লোকসান ০.৭৩ টাকা করে। এ ক্ষেত্রে পতন হয়েছে ১,০১৩ শতাংশ। পরের অবস্থানে থাকা ফার কেমিক্যালের শেয়ারপ্রতি ০.৪০ টাকা মুনাফা থেকে ৯১৫ শতাংশ পতনের মাধ্যমে ৩.২৬ টাকা লোকসান হয়েছে।
তৃতীয় অবস্থানে থাকা এমএল ডাইংও মুনাফা থেকে লোকসানে নেমেছে। এ কোম্পানিটির আগের অর্থবছরের ৯ মাসের শেয়ারপ্রতি ০.১২ টাকার মুনাফা চলতি অর্থবছরের একই সময়ে হয়েছে লোকসান ০.৯৭ টাকা।
নিম্নে কোম্পানিগুলোর ইপিএসের তথ্য তুলে ধরা হলো-
|
কোম্পানির নাম |
৯ মাসের ইপিএস (জুলাই ২৫-মার্চ ২৬) |
৯ মাসের ইপিএস (জুলাই ২৪-মার্চ ২৫) |
হ্রাস/বৃদ্ধির হার |
|
লিগ্যাসি ফুটওয়্যার |
০.০৪ |
(০.১৪) |
১২৯% |
|
অলটেক্স ইন্ডাস্ট্রিজ |
০.০৩ |
(০.১৪) |
১২১% |
|
ইন্দো-বাংলা ফার্মা |
০.০২ |
(০.১৭) |
১১২% |
|
*এনআরবি ব্যাংক |
০.১২ |
০.০৬ |
১০০% |
|
লাভেলো আইসক্রীম |
৩.০৬ |
১.৫৯ |
৯২% |
|
ফাইন ফুডস |
৭.৭৮ |
৪.১২ |
৮৯% |
|
কাশেম ইন্ডাস্ট্রিজ |
০.৮৩ |
০.৫২ |
৬০% |
|
*ফেডারেল ইন্স্যুরেন্স |
০.৪৬ |
০.৩৪ |
৩৫% |
|
ওয়াটা কেমিক্যাল |
০.৮৭ |
০.৬৭ |
৩০% |
|
*রিল্যায়েন্স ইন্স্যুরেন্স |
২.৮৮ |
২.২৭ |
২৭% |
|
এপেক্স ফুডস |
৪.৪৫ |
৩.৫২ |
২৬% |
|
*কন্টিনেন্টাল ইন্স্যুরেন্স |
০.৪৯ |
০.৩৯ |
২৬% |
|
*এশিয়া প্যাসিফিক |
১.১৬ |
১.০৩ |
১৩% |
|
সায়হাম টেক্সটাইল |
০.৫১ |
০.৪৭ |
৯% |
|
সোনালি আঁশ |
৫.৬২ |
৫.২৩ |
৭% |
|
কপারটেক ইন্ডাস্ট্রিজ |
০.৪৫ |
০.৪৪ |
২% |
|
সোনালি পেপার |
৬.৫৭ |
৬.৫৩ |
১% |
|
তমিজউদ্দিন টেক্সটাইল |
৪.০৮ |
৪.০৭ |
০০ |
|
প্যারামাউন্ট টেক্সটাইল |
৫.১২ |
৫.২২ |
(২%) |
|
সায়হাম কটন |
০.৭৯ |
০.৮৭ |
(৯%) |
|
*ট্রাস্ট ব্যাংক |
০.২৭ |
০.৩০ |
(১০%) |
|
জিবিবি পাওয়ার |
০.০৯ |
০.১০ |
(১০%) |
|
বিডিকম |
০.৪৬ |
০.৫৫ |
(১৬%) |
|
কনফিডেন্স সিমেন্ট |
৭.১২ |
৯.৬৭ |
(২৬%) |
|
*রেকিট বেনকিজার |
২৩.২৬ |
৩২.৪৫ |
(২৮%) |
|
সামিট অ্যালায়েন্স |
১.৬২ |
২.৩৪ |
(৩১%) |
|
এডভেন্ট ফার্মা |
০.৩৩ |
০.৫৩ |
(৩৮%) |
|
এপেক্স স্পিনিং |
২.৫৬ |
৩.০২ |
(৪৩%) |
|
আরডি ফুড |
০.৫২ |
১.১৩ |
(৫৪%) |
|
শাশা ডেনিমস |
০.৩৯ |
১.৩০ |
(৭০%) |
|
*এক্সপ্রেস ইন্স্যুরেন্স |
০.৩৪ |
১.১৮ |
(৭১%) |
|
নাভানা সিএনজি |
০.০১ |
০.০৯ |
(৮৯%) |
|
ফু-ওয়াং সিরামিকস |
০.০১ |
০.১৫ |
(৯৩%) |
|
স্টাইলক্রাফট |
(০.০৬) |
০.১০ |
(১৬০%) |
|
রহিমা ফুড |
(০.৩০) |
০.২৬ |
(২১৫%) |
|
শার্প ইন্ডাস্ট্রিজ |
(২.১৬) |
০.৪৯ |
(৫৪১%) |
|
এমএল ডাইং |
(০.৯৭) |
০.১২ |
(৯০৮%) |
|
ফার কেমিক্যাল |
(৩.২৬) |
০.৪০ |
(৯১৫%) |
|
বিডি থাই ফুড |
(০.৭৩) |
০.০৮ |
(১০১৩%) |
|
জিকিউ বলপেন |
(১.৩৫) |
(৩.১৬) |
৫৭% |
|
সাফকো স্পিনিং |
(৩.২৫) |
(৬.৭৫) |
৫২% |
|
একমি পেস্টিসাইডস |
(০.৭৫) |
(১.০২) |
২৬% |
|
আফতাব অটো |
(১.১৮) |
(১.০১) |
(১৭%) |
|
এপেক্স ট্যানারি |
(১৫.৫৬) |
(১২.৪৬) |
(২৫%) |
|
সিলভা ফার্মা |
(০.৭২) |
(০.৫৭) |
(২৬%) |
|
দেশবন্ধু পলিমার |
(২.৮৯) |
(১.৯৫) |
(৪৮%) |
|
বিডি থাই অ্যালুমিনিয়াম |
(২.২৮) |
(১.৪৯) |
(৫৩%) |
|
*আইএফআইসি ব্যাংক |
(৪.৪৮) |
(২.৬০) |
(৭২%) |
|
গোল্ডেন সন |
(১.৯১) |
(১.০৮) |
(৭৭%) |
|
মেঘনা সিমেন্ট |
(৪৮.১৩) |
(২৪.৯৫) |
(৯৩%) |
|
বসুন্ধরা পেপার |
(২৪.২৭) |
(১০.৬০) |
(১২৯%) |
|
*এবি ব্যাংক |
(৯.২২) |
(২.৮৫) |
(২২৪%) |
|
*এনবিএল |
(৩.৫২) |
(০.৬৯) |
(৪১০%) |
*প্রথম প্রান্তিকের বা ৩ মাসের ইপিএস।
এদিকে চলতি অর্থবছরেও লোকসান থেকে বেরোতে পারেনি ১৪ কোম্পানি। এর মধ্যে তিনটি কোম্পানির আগের তুলনায় লোকসান কম হলেও ১১টি বেড়েছে। এর মধ্যে সবেচেয়ে বেশি হারে লোকসান বেড়েছে ন্যাশনাল ব্যাংক লিমিটেডের (এনবিএল)। এ ব্যাংকটির আগের অর্থবছরের তিন মাসের শেয়ারপ্রতি ০.৬৯ টাকার লোকসান বেড়ে চলতি অর্থবছরের একই সময়ে বেড়ে হয়েছে ৩.৫২ টাকা।
এরপরের অবস্থানেও রয়েছে ব্যাংক। এ খাতের এবি ব্যাংকের আগের অর্থবছরের তিন মাসের শেয়ারপ্রতি ২.৮৫ টাকার লোকসান এ বছরের একই সময়ে হয়েছে ৯.২২ টাকা। এ ক্ষেত্রে শেয়ারপ্রতি লোকসান বেড়েছে ২২৪ শতাংশ। আর তৃতীয় অবস্থানে থাকা বসুন্ধরা পেপার মিলসের আগের অর্থবছরের ৯ মাসের শেয়ারপ্রতি ১০.৬০ টাকার লোকসান চলতি অর্থবছরের একই সময়ে বেড়ে হয়েছে ২৪.২৭ টাকা। এ ক্ষেত্রে কোম্পানিটির লোকসান বেড়েছে ১২৯ শতাংশ।
ব্যবসায় পতনের কারণ হিসেবে কাঁচামালের সংকট, ইউটিলিটি খরচ বৃদ্ধি, কাঁচামালের দামের ঊর্ধ্বগতি এবং সুদের হার বৃদ্ধিকে উল্লেখ করেছে বসুন্ধরা পেপার মিলস কর্তৃপক্ষ।



