চাইলেই আমাকে অবহেলা করা সম্ভব নয়: কঙ্কনা

কঙ্কনা সেনশর্মা
কঙ্কনা সেনশর্মা মানেই পর্দায় এক শক্তিশালী উপস্থিতি। ২০০১ সালে ‘এক যে আছে কন্যা’ দিয়ে শুরু করে আজ তিনি সফল অভিনেত্রী ও পরিচালক। দীর্ঘ এই পথচলায় তিনি নারী অধিকার ও বৈষম্য নিয়ে বারবার সোচ্চার হয়েছেন। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ইন্ডাস্ট্রি এখনও সবার জন্য সমান নয়। বিশেষ করে নারী ও পুরুষের কাজের সুযোগ এবং পারিশ্রমিকের পার্থক্য নিয়ে তিনি অসন্তোষ প্রকাশ করেন।
কঙ্কনা জানান, কয়েক বছর আগেও নিয়ম ছিল মেকআপ আর্টিস্ট শুধু ছেলেরাই হতে পারবে আর চুল বাঁধার কাজ করবে মেয়েরা। তবে এখন সেই ধারা বদলেছে। বর্তমানে অনেক নারী সিনেমা এডিটর হিসেবে কাজ করছেন। তবে ক্যামেরা বা লাইট ডিপার্টমেন্টে এখনও নারীদের উপস্থিতি অনেক কম। এই জায়গাগুলোতে নারীদের আরও বেশি সুযোগ দেওয়া উচিত বলে মনে করেন তিনি।
কঙ্কনার শেষ সিনেমা ‘অ্যাকিউসড’ প্রেক্ষাগৃহে সেভাবে জায়গা না পাওয়ায় তিনি কিছুটা আক্ষেপ প্রকাশ করেন। তার মতে, ‘আজকাল শুধু ব্যবসায়িক দিক চিন্তা করে সিনেমা বানানো হয়। কিন্তু বড় বাণিজ্যিক সিনেমার পাশাপাশি ধীরগতির ও মননশীল গল্পের সিনেমারও হলে মুক্তি পাওয়া প্রয়োজন। কারণ দর্শক সব ধরণের কাজই দেখতে চায়।’
ইন্ডাস্ট্রিতে নারীদের কণ্ঠরোধ করার চেষ্টা করা হয় এমন প্রশ্নের জবাবে কঙ্কনা খুব সততার সঙ্গে নিজের অবস্থানের কথা তুলে ধরেন। তিনি জানান, ‘আমি আসলে বেশ সুবিধাজনক বা প্রিভিলেজড অবস্থানে আছি। প্রথমত, আমি অনেকদিন ধরে কাজ করছি, সবাই আমাকে চেনে। দ্বিতীয়ত, আমার শিক্ষার একটা ভূমিকা আছে। তাই চাইলেই কেউ আমাকে সহজে উড়িয়ে দিতে বা অবহেলা করতে পারে না।’
তিনি আরও যোগ করেন, কঙ্কনার শেষ সিনেমা অ্যাকিউসড প্রেক্ষাগৃহে সেভাবে জায়গা না পাওয়ায় তিনি কিছুটা আক্ষেপ প্রকাশ করেন। তার মতে, ‘আজকাল শুধু ব্যবসায়িক দিক চিন্তা করে সিনেমা বানানো হয়। কিন্তু বড় বাণিজ্যিক সিনেমার পাশাপাশি ধীরগতির ও মননশীল গল্পের সিনেমারও হলে মুক্তি পাওয়া প্রয়োজন। কারণ দর্শক সব ধরণের কাজই দেখতে চায়।’
তিনি আরও যোগ করেন, ‘আমার মা (অপর্ণা সেন) একজন নামী পরিচালক, যা আমার জন্য একটা বড় বাড়তি সুবিধা। কিন্তু অনেক নারী ও পুরুষ আছেন যারা যোগ্য হওয়া সত্ত্বেও পিতৃতান্ত্রিক ব্যবস্থার কারণে নিজেদের কণ্ঠস্বর বা সঠিক সুযোগ খুঁজে পান না।’
কঙ্কনার এই অকপট স্বীকারোক্তি আবারও মনে করিয়ে দিল যে, প্রতিভার পাশাপাশি পারিবারিক পরিচয় অনেক ক্ষেত্রে রক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করে, যা সবার ভাগ্যে জোটে না।



