যারা আমাকে ট্রল করতো তাদের দোষ দেব না : জায়েদ খান

জায়েদ খান
প্রায় দুই বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রে রয়েছেন চিত্রনায়ক জায়েদ খান। গিয়েছিলেন একটি অনুষ্ঠানে অংশ নিতে। দেশের পালাবদলের পর মার্কিন মুলুকেই থেকে যেতে বাধ্য হন। এরপর সেরখানে একটি শো উপস্থাপনা করে রাতারাতি নিজের নাম প্রতিষ্ঠিত করে ফেলেন। সম্প্রতি আকস্মিকভাবে জায়েদ খানের কয়েকটি ছবি আগামীর সময়ের হাতে চলে আসে। সেখানে দেখা যায় জায়েদ খান নিউন ইয়র্কে শ্রমিক হিসেবে কাজ করছেন।
এই ছবি সামাজিক মাধ্যমে আলোচনা তৈরি করে। অনেকেই জায়েদ খানের এই অবস্থাকে, ছবিকে সত্য বলেই মেনে নেন। তারা অনেকেই ঢাকাই ছবির এই অভিনেতাকে আর্থিক সহায়তাও করতে চান। তবে এ বিষয়ে একেবারে চুপচাপ ছিলেন দেশের শিল্পী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক। অনেক প্রশ্নের জবাব মিলল, যখন একটি স্বল্পদৈর্ঘ চলচ্চিত্র প্রকাশ পেল।
জানা গেল যে ছবি ছড়িয়েছে তা আসলে প্রকাশিত চলচ্চিত্রের। ‘আমেরিকান ড্রিম’ নামের ছোট্ট এই চলচ্চিত্র দেখে দেশের মানুষ রীতিমতো চমকে গিয়েছেন। কেননা এতে জায়েদ খান এতে অভিনয় করেছেন আর এই অভিনয় ছিল বিস্ময় জাগানিয়া।
মুহূর্তেই দেশের সামাজিক মাধ্যম মুগ্ধতায় ছেয়ে যায়। সকলের পোস্টে জায়েদ খানের প্রশংসা। প্রবাসীর অনেক গল্পই চোখে পড়েছে এর আগে। তবে এই গল্পের বৈচিত্রতা না থাকলেও অভিনয় দিয়ে বৈচিত্রতা তৈরি করেছেন জায়েদ খান। আড়াই মিনিটের এই ট্রেলার দেখে সব শ্রেণীর দর্শকরাই জায়েদ খানের প্রশংসা করছেন। বলছেন- ‘জায়েদকে এভাবে এরআগে কেউ কখনো তুলে ধরেনি।’
অনিক নামের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী নিজের ফেসবুকে লিখেছেন, ‘আমরা জায়েদ খানকে নিয়ে মজা করতাম। অথচ তিনি দূর্দান্ত অভিনয় করেন। তার অভিনয় সত্যিই অসাধারণ।’ খাদিজা নামের এক তরুণী লিখেছেন, ‘আমাদের দেশের নির্মাতারা জায়েদ খানকে চিনতে পারেননি। তাকে কাজে লাগাতে পারেননি। তার অভিব্যক্তি দেখে আমি মুগ্ধ।’
এমন অসংখ্য মন্তব্য দেখে গেছে। এসব মন্তব্য দেখেছেন জায়েদ খানও। সোমবার দুপুরে আগামীর সময়ের সঙ্গে আলাপকালে জায়েদ খান বললেন, ‘আমরা আসলে মানুষের ভেতরটা দেখতে চাই না। আমরা বাইরের হালকা আবরণ দেখে মন্তব্য করে ফেলি। ফলে মানসিকভাবে শক্ত না হলে অনেক মেধাবী হতাশাগ্রস্ত হয়ে হারিয়ে যায়। আমি মানসিকভাবে শক্ত। আমি কখনোই সমালোচনায় ভেঙে পড়িনি। সমালোচনা আমাকে হতাশ করতে পারেনি। আমি নিজেকে আরো শক্তভাবে গড়ে তুলেছি। নিজের কাজে মনোনিবেশ জোরদার করেছি।’
‘‘নিউ ইয়র্কে আমার নতুন জীবন শুরু হলো। আমি জানি এই শহর অনেক ব্যয়বহুল। আমাকে টিকে থাকতে হবে, একইসঙ্গে আমার কাজটাও করতে হবে। ভাগ্য আমার জন্য প্রসন্ন ছিল বলা যায়। আমি কাজ শুরু করলাম, ঠিক আমি যেমনটি চাই। একটি শো উপস্থাপনা শুরু করলাম- ‘ফ্রাইডে নাইট উইথ জায়েদ খান’ এই শোটি সফল হলো, আমাকে জনপ্রিয়তা দিল। কিন্তু আমি এতে অভিভূত হয়ে ভেসে যাইনি। আমার মূল কাজ অভিনয়, সেটি ভুলিনি। আমি নিয়মিত শরীর চর্চা যেমন করি, তেমনই অভিনয় নিয়েও অনুশীলন করি।’’ বলছিলেন ঢাকাই চলচ্চিত্রের আলোচিত তারকা।
জায়েদ খান জানালেন, তিনি প্রতিদিনই অভিনয় অনুশীলন করেন। এই অনুশীলন ও পরিশ্রম তাকে সফলতার পথ দেখায়। ‘আমেরিকান ড্রিম’ নিয়ে জায়েদ খান উচ্ছ্বাস প্রকাশ করলেন এভাবেই, ‘সাফল্য কার না ভালো লাগে? এতো এতো মানুষের প্রশংসা। যারা দেখেছে, তাদের মধ্যে নিরানব্বই ভাগ মানুষই এটা পছন্দ করেছে। সারা পৃথিবীর বাঙালি, পুরো বাংলাদেশের মানুষ যারা আমার শর্টফিল্মটি দেখেছেন তারা অ্যাপ্রেসিয়েট করেছেন।’
‘যারা আমাকে ট্রল করে, আসলে আমি তাদেরকেও দোষ দেব না। তারা আমাকে যেভাবে দেখেছে, যেভাবে আমাকে উপস্থাপন করা হয়েছে সেভাবেই হয়তো বিবেচনা করেছে। কিন্তু আমার ধ্যানজ্ঞান অভিনয়। সামনে আরো অনেক ভালো ভালো কাজ দিয়ে সবাইকে চমকে দেব। আমি ঠিকানাকে ধন্যবাদ জানাবো, তারা আমাকে একটি প্ল্যাটফর্ম দিয়েছে, এতো সুন্দর কাজ করতে পেরেছি তাদের জন্যই।’ যুক্ত করেন ‘অন্তর্জালা’ খ্যাত অভিনেতা।

