আগামীর সময়

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ নিয়ে হলিউডে তোলপাড়, ট্রাম্পের ওপর ক্ষুব্ধ সুপারস্টাররা

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ নিয়ে হলিউডে তোলপাড়, ট্রাম্পের ওপর ক্ষুব্ধ সুপারস্টাররা

মার্ক রাফালো, জেন ফন্ডা, ডুয়া লিপা এবং রবার্ট ডি নিরো

​পুরো বিশ্ব এখন এক অস্থির সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। একদিকে ইসরায়েল-গাজা পরিস্থিতি, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে বাড়তে থাকা যুদ্ধের দামামা। বিশ্ব রাজনীতির এই উত্তপ্ত আবহে এবার সরাসরি ময়দানে নেমেছেন হলিউডের দাপুটে অভিনেতা-অভিনেত্রীরা।

পর্দার হিরোরা এখন বাস্তবেই প্রতিবাদী হয়ে উঠেছেন। কেউ জনসভায় ভাষণ দিচ্ছেন, কেউ বা সোশ্যাল মিডিয়ায় তুলোধুনো করছেন খোদ মার্কিন প্রশাসনকে।

​সবচেয়ে আক্রমণাত্মক মেজাজে পাওয়া গেছে মার্ভেল মুভির প্রিয় চরিত্র 'হাল্ক' খ্যাত অভিনেতা মার্ক রাফালোকে। তিনি কোনো রাখঢাক না করেই বলেছেন, 'কিছু সাইকোপ্যাথ বা মনোবিকারগ্রস্ত মানুষ এই যুদ্ধটা চালাচ্ছে।' রাফালো ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর কড়া সমালোচনা করে বলেন যে, গাজায় গণহত্যা চালানোর পর এবার তিনি ইরানকেও ধ্বংস করতে চাইছেন। আর ট্রাম্প তাকে পেছন থেকে মদদ দিচ্ছেন।

রাফালো সতর্ক করে বলেছেন, ইরানে পারমাণবিক হামলার চিন্তা করা মানে লাখ লাখ নিরপরাধ মানুষকে হত্যা করা, যা চরম পাগলামি ছাড়া আর কিছুই নয়।

​হলিউডের লিভিং লিজেন্ড রবার্ট ডি নিরো বরাবরই ট্রাম্পের কট্টর সমালোচক। এবার তিনি সরাসরি রাজপথে নেমে প্রতিবাদ করেছেন। তার মতে, অকারণে যুদ্ধ বাধিয়ে সাধারণ মানুষকে হত্যা করা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। তিনি হুশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, এই যুদ্ধের কারণে খোদ আমেরিকার গণতন্ত্রই এখন হুমকির মুখে।

​অন্যদিকে ৮৬ বছর বয়সী অভিনেত্রী ও অ্যাক্টিভিস্ট জেন ফন্ডা এক বিশাল সমাবেশে অংশ নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের দিকে আঙুল তুলেছেন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, 'ট্রাম্প সাহেব, আপনি হয়তো আমাদের নাম নিয়ে এই যুদ্ধ করছেন, কিন্তু আমাদের কোনো পারমিশন আপনি নেননি।' তিনি মনে করেন, এই সংঘাত শুধু আন্তর্জাতিক নিয়মই ভাঙছে না, বরং আমেরিকার নিজের সংবিধানকেও অপমান করছে।

​​২০২৬ সালের অস্কারের ঝলমলে মঞ্চকেও প্রতিবাদের জায়গা বানিয়ে নিয়েছেন অভিনেতা হাভিয়ের বারদেম। তিনি তার পোশাকে 'যুদ্ধকে না' লিখে বিশ্ববাসীকে শান্তির বার্তা দিয়েছেন।

জনপ্রিয় পপ গায়িকা ডুয়া লিপা তার ইনস্টাগ্রামে ইরানের মানুষের জন্য প্রার্থনা করে লিখেছেন, ইরানে এখন যে পরিমাণ রক্তপাত হচ্ছে তা ইতিহাসের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে যাচ্ছে।

​পিছিয়ে নেই অভিনেতা জন কিউস্যাক এবং সংগীতশিল্পী জ্যাক হোয়াইটও। কিউস্যাকের দাবি, ট্রাম্প তার ব্যক্তিগত কেলেঙ্কারি এবং এপস্টাইন বিতর্ক থেকে মানুষের চোখ সরাতেই এই 'যুদ্ধ-যুদ্ধ' খেলা শুরু করেছেন। আর জ্যাক হোয়াইট ট্রাম্পকে নিয়ে বিদ্রুপ করে বলেছেন, মাথায় 'USA' লেখা হ্যাট পরে অন্য দেশের মানুষের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলা ট্রাম্পের স্বভাবে পরিণত হয়েছে।

​​অভিনেত্রী ও কমেডিয়ান রোজি ও'ডোনেল ট্রাম্পের পুরনো নির্বাচনী ওয়াদা মনে করিয়ে দিয়েছেন। তিনি দেখিয়েছেন যে, ট্রাম্প নির্বাচনের আগে বলেছিলেন তিনি শান্তি চান এবং যুদ্ধ থামাবেন। কিন্তু ক্ষমতায় গিয়ে তিনি ঠিক উল্টোটা করছেন। রোজি ট্রাম্পকে একজন 'চরম মিথ্যাবাদী' বলে তাকে অভিশংসন করার দাবি তুলেছেন।

হলিউডের এই প্রতিবাদগুলো এটাই প্রমাণ করে যে, সাধারণ মানুষের মতো তারকারাও যুদ্ধের ভয়াবহতা নিয়ে শঙ্কিত। যেখানে বিশ্বনেতারা পারমাণবিক হুমকির কথা বলছেন, সেখানে এই সেলিব্রেটিদের প্রতিবাদ সাধারণ মানুষের মনে কিছুটা হলেও সাহস জোগাচ্ছে।

যুদ্ধ কি থামবে, নাকি হলিউডের এই বড় বড় তারকাদের প্রতিবাদ শুধু অনলাইনেই সীমাবদ্ধ থাকবে সেটা সময়ই বলে দেবে।

সূত্রঃ নিউজ ১৮ 

    শেয়ার করুন: