আগামীর সময়

বক্স অফিসে ঝড়, উড়ছে গসলিংয়ের ‘প্রজেক্ট হেইল মেরি’

বক্স অফিসে ঝড়, উড়ছে গসলিংয়ের ‘প্রজেক্ট হেইল মেরি’

‘প্রজেক্ট হেইল মেরি’ ছবিতে রাইল্যান্ড গ্রেস চরিত্রে রায়ান গসলিং। ছবি: আমাজন

হলিউড বক্স অফিসে নতুন করে প্রাণ ফিরিয়েছে ‘প্রজেক্ট হেইল মেরি’। রায়ান গসলিং অভিনীত এই সায়েন্স ফিকশন সিনেমাটি মুক্তির প্রথম সপ্তাহেই ৮০ কোটি ৫০ লাখ ডলার আয় করে বড় ধরনের সাফল্য পেয়েছে, যা আমাজন এমজিএমের ইতিহাসেও সবচেয়ে বড় ওপেনিং রেকর্ড গড়েছে। এর আগে ২০২৩ সালে মুক্তি পাওয়া ‘ক্রিড থ্রি’ ৫ কোটি ৮০ লাখ ডলার আয় করে এই রেকর্ড ধরে রেখেছিল।

মুক্তির আগে ধারণা করা হয়েছিল সিনেমাটি ডমেস্টিক বক্স অফিসে বা দেশীয় আয়ে অন্তত ৬ কোটি ৫০ লাখ ডলার আয় করবে। কিন্তু দারুণ রিভিউ এবং পজিটিভ ওয়ার্ড অব মাউথ টিকিট বিক্রিকে আরও বাড়িয়ে দেয়। ফলে প্রত্যাশার চেয়েও বেশি আয় করে ছবিটি। শুধু যুক্তরাষ্ট্রেই নয়, আন্তর্জাতিক বাজারেও সিনেমাটি শক্ত অবস্থান তৈরি করেছে। ৮২টি দেশ থেকে ৬ কোটি ৪০ লাখ ডলার আয় করে ছবিটির গ্লোবাল স্টার্ট দাঁড়িয়েছে ১৪ কোটি ৯০ লাখ ডলার।

‘প্রজেক্ট হেইল মেরি’ নির্মিত হয়েছে অ্যান্ডি ওয়ারের সর্বাধিক বিক্রিত একই নামের উপন্যাস অবলম্বনে। এর আগে তার লেখা সায়েন্স ফিকশন ‘দ্য মার্শিয়ান’ একইভাবে বিশ্বব্যাপী সাফল্য পেয়েছিল। ‘প্রজেক্ট হেইল মেরি’ পরিচালনা করেছেন ফিল লর্ড ও ক্রিস্টোফার মিলার। এর আগে এই পরিচালকদ্বয় ‘টুয়েন্টি ওয়ান জাম্প স্ট্রিট ’ এবং ‘দ্য লেগো মুভি ’-এর মতো জনপ্রিয় সিনেমার জন্য পরিচিতি পান।

প্রায় ২০ কোটি ডলার নির্মাণ খরচ এবং এর সঙ্গে বিপুল প্রচার ব্যয় মিলিয়ে সিনেমাটির খরচ অনেক বেশি। ফলে শুধু ওপেনিং সাফল্য নয়, দীর্ঘমেয়াদে হলে চলার ওপরই নির্ভর করছে এর লাভ। কারণ থিয়েটার মালিকরা টিকিট বিক্রির প্রায় অর্ধেক নিজেদের কাছে রাখে। তবে ইতিবাচক বিষয় হলো, সিনেমাটি চলচ্চিত্র রিভিউ ও রেটিং ওয়েবসাইট রটেন টমেটোসে ৯৫ শতাংশ রেটিং পেয়েছে এবং সিনেমাস্কেরে দর্শক জরিপে ‘এ’ গ্রেড অর্জন করেছে।

এই সিনেমার সাফল্য আমাজনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ২০২২ সালে প্রায় ৮০০ কোটি ডলারে এমজিএম অধিগ্রহণ করে আমাজন। বিখ্যাত সিনেমা প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান এমজিএম অধিগ্রহণের পর এই বছরই তারা পূর্ণাঙ্গ থিয়েট্রিকাল স্লেট তৈরি করেছে। এই বছর প্রতিষ্ঠানটির ১৩টি সিনেমা মুক্তি পাবে। এর আগে অবশ্য তাদের কিছু বড় বাজেটের সিনেমা হতাশ করেছে। যেমন ৪ কোটি ডলার বাজেটের ‘মেলানিয়া’ আয় করে ১ কোটি ৬০ লাখ, আর ‘ক্রাইম ওয়ান-ওয়ান’ ৯ কোটি ডলার বাজেটের বিপরীতে আয় করে মাত্র ৬ কোটি ৫০ লাখ ডলার। ফলে ‘প্রজেক্ট হেইল মেরি’-এর ওপর ছিল স্টুডিওর ইমেজ বদলানোর চাপ, যা এখন অনেকটাই সফল হয়েছে।

দর্শক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ‘প্রজেক্ট হেইল মেরি’ সিনেমাটির দর্শকদের ৫৭ শতাংশ পুরুষ এবং প্রায় ৬০ শতাংশ শ্বেতাঙ্গ। উল্লেখযোগ্যভাবে, প্রায় ৫৫ শতাংশ টিকিট বিক্রি হয়েছে প্রিমিয়াম লার্জ ফরম্যাট (আইম্যাক্স ও ডলবি) পর্দার জন্য, যা বড় পর্দার অভিজ্ঞতার গুরুত্ব তুলে ধরে।
একই সময়ে মুক্তি পাওয়া ‘রেডি অর নট টু: হিয়ার আই কাম’ কিছুটা ধীরগতিতে শুরু করেছে। উত্তর আমেরিকার ৩ হাজার ১০টি হলে এটি ৯০ লাখ ডলার আয় করে চতুর্থ স্থানে রয়েছে। আন্তর্জাতিকভাবে ২১টি দেশে ২৮ লাখ ডলার আয় করে এর আন্তর্জাতিক আয় দাঁড়িয়েছে ১কোটি ১৯ লাখ ডলার। প্রায় ২ কোটি ডলার বাজেটের এই ছবিতে অভিনয় করেছেন সামারা উইভিং ও ক্যাথরিন নিউটন।

অন্যদিকে, ‘হপার্স’ দ্বিতীয় স্থানে নেমে এসেছে। তৃতীয় সপ্তাহে এটি ১ কোটি ৮০ লাখ ডলার আয় করলে মোট ডমেস্টিক আয় দাঁড়িয়েছে ১২ কোটি ৪০ লাখ এবং গ্লোবাল আয় ২৪ কোটি ২০ লাখ ডলারে পৌঁছেছে।

তৃতীয় স্থানে থাকা ভারতীয় সিনেমা ‘ধুরন্ধর টু: দ্য রিভেঞ্জ’ উত্তর আমেরিকায় নতুন রেকর্ড গড়েছে। মাত্র ৯৮৭টি সিনেমাহল থেকে ৯৫ লাখ ডলার আয় করে বলিউড সিনেমার সর্বোচ্চ ওপেনিংয়ের রেকর্ড ভেঙেছে, যা আগে ‘পাঠান’র দখলে ছিল।

পঞ্চম স্থানে থাকা ‘রিমাইন্ডারস অব হিম’ দ্বিতীয় সপ্তাহে ৮০ লাখ ডলার আয় করেছে। এখন পর্যন্ত এর ডমেস্টিক আয় ৩ কোটি‌ ৩০ লাখ‌এবং গ্লোবাল আয় ৫ কোটি ৪০ লাখ ডলার।
অন্যদিকে ‘দ্য ব্রাইড!’ বক্স অফিসে বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছে। তৃতীয় সপ্তাহে মাত্র ২ লাখ ৭৫ হাজার ডলার আয় করে এটি আগের সপ্তাহের তুলনায় ৮৬ শতাংশ কমেছে। ৯ কোটি ডলার বাজেটের বিপরীতে এর গ্লোবাল আয় মাত্র ২ কোটি ৩০ লাখ ডলার, যা ওয়ার্নার ব্রাদার্সের জন্য বড় লোকসান।

সব মিলিয়ে, ২০২৬ সালে এখন পর্যন্ত বক্স অফিস আয় ২০২৫ সালের একই সময়ের তুলনায় ২১ শতাংশ বেশি হলেও, প্রি-প্যান্ডেমিক সময়ের তুলনায় এখনও প্রায় ২০ শতাংশ কম। তবে ‘প্রজেক্ট হেইল মেরি’র মতো বড় হিট প্রমাণ করছে—সিনেমা হলের বড় পর্দার অভিজ্ঞতা এখনও দর্শকদের টানতে সক্ষম।

বর্তমানে বড় কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকায় সিনেমাটি শীর্ষে থাকার ভালো অবস্থানে রয়েছে। তবে ১ এপ্রিল মুক্তি পেতে যাচ্ছে ‘দ্য সুপার মারিও গ্যালাক্সি মুভি’, যা বক্স অফিসে নতুন প্রতিযোগিতা তৈরি করতে পারে।

সূত্র: হলিউড রিপোর্টার

    শেয়ার করুন: