যখন গিয়েছে ডুবে ‘পঞ্চমের চাঁদ’

আশা ভোঁসলে আর রাহুল দেব বর্মণ
আশা ভোঁসলে ও রাহুল দেব বর্মণ। দুজনের ব্যক্তিগত জীবন ছিল চড়াই-উতরাইয়ে ভরা। আলাদা দুটি জীবন সঙ্গীতপ্রেমে জুটি হয় একসময়। আশার ভাষ্য, নিজের থেকে ৬ বছরের ছোট রাহুলকে বিয়ে করতে বাধ্য হন তিনি।
ব্যক্তি আশা স্পষ্টবাক। পছন্দ করতেন খোলামেলা কথা বলতে। ক্যারিয়ার হোক বা ব্যক্তি জীবন, আশার প্রতিটা বাঁক ছিল কণ্টক আর ফুলে ভরা। এখনো যার গল্প রঙ মেখে মানুষের মুখে মুখে ফেরে। আশার জীবনে তেমনই একটি গল্প রাহুল।
একটি সাক্ষাৎকারে স্বামী রাহুল সম্পর্কে বলেছিলেন আশা। কীভাবে রাহুলের সঙ্গে তার সম্পর্ক শুরু হয়, উঠে আসে সেই গল্পও। ১৯৯৩ সাল তখন। আশা জানান, তাকে রাজি করাতে লেগে ছিলেন রাহুল। কাজের সময় তার প্রশংসা করতেন এবং প্রেমের প্রস্তাব দিতেন। একটা সময় বাধ্য হয়েই রাজি হন আশা।
রাহুলকে বলিউডে সবাই চেনেন পঞ্চম নামে। তার প্রথম বিয়ে ১৯৬৬ সালে, রিতা প্যাটেলের সঙ্গে। ১৯৭১ সালে এই দম্পতির বিচ্ছেদ ঘটে। ১৯৮০ সালে তিনি আশার সঙ্গে গাঁটছড়া বাঁধেন। সে সময় তারা একসঙ্গে অনেক গান রেকর্ড করেছিলেন, যার অনেকগুলোই জনপ্রিয়তা পেয়েছিল। তারা লাইভ শোতেও পারফর্ম করেছেন।
আশা বলছিলেন, ‘ও আমার পেছনে পড়ে ছিল। তোমার কণ্ঠ অনেক ভালো। আমি তোমার কণ্ঠের প্রেমের পড়েছি। তোমার সুরে মুগ্ধ ইত্যাদি। আমি আর কী করতে পারি, হ্যাঁ বলে দিলাম।’
কোনো পরিণয় সহজে আসেনি
গানে যেমন বলা হয়েছে, প্রেমের পথ সহজ নয়। আশা আর পঞ্চমের প্রেমও এমনই। দুজনেই আগেও একবার করে বিয়ে করেছেন। রাহুল যখন প্রথম তার বাবা শচীন দেব বর্মণের কাছে আশাকে বিয়ে করার ইচ্ছে প্রকাশ করেন, তখন মানা করেননি শচীন।
কিন্তু কঠোর ছিলেন সুরকারের মা। মীরা দেব বর্মণের বক্তব্য ছিল, আশাকে বিয়ে করতে হলে আমার মরা লাশ পার হয়েই বিয়ে করতে হবে।
অপরদিকে পঞ্চমকে বিয়ে করার কথা আশাও জানিয়েছিলেন তার বড় বোন লতা মঙ্গেশকরকে। লতার উত্তর ছিল, তুমি নিজের জীবনের সিদ্ধান্ত নিজে ভালোভাবে নিতে পারবে বলে আশা করি।
পঞ্চমের জীবনের শেষ সময় পর্যন্ত একসঙ্গে ছিলেন দুজন। আবার অনেকে মনে করেন, শেষ পর্যন্ত টেকেনি এই সম্পর্ক। কিন্তু সেই সম্পর্কটি তার জীবনে কঠিন অধ্যায় হয়ে উঠেছিল।
বিয়ের পর দ্রুতই অশান্ত হয়ে ওঠে আশার দাম্পত্য জীবন। স্বামীর পরিবার তাকে মেনে নিতে পারেনি। সেই সময় শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছিল বলেই অভিযোগ। অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় তিন সন্তান নিয়ে তিনি বাড়ি ছেড়ে বেরিয়ে আসতে বাধ্য হন। সেই কঠিন সময়ে নিজের শক্তিতে নতুন করে পথচলা শুরু করেন আশা।
তার কণ্ঠ ছিল কোটি মানুষের সুখ-দুঃখের সঙ্গী।



