রান্না ও অভিনয়ে আশা ভোঁসলের জানা-অজানা

মাদাম তুসোতে নিজের মূর্তির পাশে আশা ভোঁসলে
কিন্নরকণ্ঠী আশা ভোঁসলে চলে গেছেন চিরঘুমে। তবে রেখে গেছেন অতুলনীয় কিছু কীর্তি। তার গান যুগ থেকে যুগে অমর হয়ে থাকবে। তবে গায়িকা পরিচয়ের বাইরেও কিছু গুণ ছিল এই শিল্পীর। এর মধ্যে রান্না আর অভিনয়ের কথা বলা যায় আলাদাভাবে।
আশা’জ রেস্তোরাঁ চেইন
গানের বাইরে আশা ভোঁসলের দক্ষতা ছিল রান্নায়ও। পরিবার, বন্ধু ও সহকর্মীদের কাছে তার সুস্বাদু রান্নার সুনাম ছিল। বিশেষ করে চিংড়ি প্যাটিস ও পায়া কারির জন্য ভূয়সী প্রশংসা পেতেন তিনি। খাবারের প্রতি ভালোবাসা থেকে ২০০২ সালে রেস্তোরাঁ খুলেছিলেন গায়িকা। কম সময়ের মধ্যে সেটি খ্যাতি পাওয়ায় দুবাই, আবুধাবি, কুয়েত, বাহরাইন, যুক্তরাজ্যের বার্মিংহাম, ম্যানচেস্টারসহ বিভিন্ন দেশে “আশা’জ” চেইনের শাখা খোলা হয়। মেন্যুতে ভোজনরসিকদের জন্য থাকে ঘরোয়া ধাঁচের রান্না, উত্তর ভারতীয় খাবার ও ফিউশন। সেইসঙ্গে বাজানো হয় তার সর্বকালের সেরা হিট গানগুলো।
সুরকার ও অভিনেত্রী
২০০২ সালে ‘আপ কি আশা’ নামের একটি অ্যালবাম প্রকাশিত হয়। এর সব গান আশা ভোঁসলে নিজেই সুর করেন। এর একদশক পর তার বয়স যখন ৭৯ বছর, ‘মাই’ নামের মারাঠি ভাষার একটি ছবিতে অভিনয় করেন তিনি। এর গল্প বয়স্ক মা-বাবাকে আশ্রমে ফেলে আসা সন্তানদের ঘিরে। এতে আরও অভিনয় করেন রাম কাপুর ও পদ্মিনী কোলাপুরি।
মাদাম তুসোতে মোমের মূর্তি
নয়াদিল্লির মাদাম তুসোতে আশা ভোঁসলের একটি মোমের মূর্তি রয়েছে। মাইকেল জ্যাকসনের মতো ব্যক্তিত্বদের পাশে সংগীত বিভাগে অবস্থিত এই মূর্তি ১৫০টিরও বেশি নির্দিষ্ট পরিমাপ ও ছবি ব্যবহার করে তৈরি হয়েছে।
ক্রিকেটারের সঙ্গে গান
অস্ট্রেলিয়ার সাবেক ক্রিকেটার ব্রেট লি’র সঙ্গে ‘ইউ আর দ্য ওয়ান ফর মি’ শিরোনামে একটি দ্বৈত গান গেয়েছিলেন আশা ভোঁসলে। ব্রেট লি এটি লিখেছিলেন আইসিসি চ্যাম্পিয়নস ট্রফির সময়।
১০ বছর বয়সে প্রথম গান
আশা ভোঁসলের জন্ম ১৯৩৩ সালে মহারাষ্ট্রের তৎকালীন সাঙ্গলি নামে এক জনপদে। বাবা উচ্চাঙ্গ সংগীতশিল্পী পণ্ডিত দীননাথ মঙ্গেশকর, মা শেবন্তী দীননাথ। আশার বয়স যখন ৯, তখন পিতৃবিয়োগ ঘটে। বিভিন্ন শহর ঘুরে মঙ্গেশকর পরিবার বসতি গড়ে মুম্বাইয়ে। পরিবারের ভরণপোষণের দায়িত্ব এসে পড়ে দুই বোন লতা মঙ্গেশকর ও আশা ভোঁসলের ওপর। পরিবারকে সাহায্য করতে অল্প বয়সেই গান গাইতে শুরু করেন আশা। ১৯৪৩ সালে ‘মাঝা বল’ ছবির জন্য মারাঠি ভাষায় ‘চালা চালা নব বালা’ ছিল ১০ বছর বয়সে তার প্রথম গান। ‘চুনরিয়া’র মাধ্যমে হিন্দি ছবিতে প্রথম গান গাওয়া ১৯৪৮ সালে। এককভাবে গাওয়ার সুযোগ আসে ১৯৪৯ সালে ‘রাত কি রানি’ ছবিতে।



