সেই রাতের কথা ভাবলে শিউরে ওঠেন সোনু নিগম

সোনু নিগম
সংগীতশিল্পী সোনু নিগমের জীবনে এমন এক রাত এসেছিল, যা আজও ভাবলে শিউরে ওঠেন তিনি। ২০০৪ সালের ১০ এপ্রিল, করাচির রাজপথে যখন বোমা বিস্ফোরণে রক্ত ঝরছে, ঠিক তার কয়েক ঘণ্টা পরই হাজার হাজার মানুষের সামনে গান গেয়েছিলেন সোনু। দীর্ঘ ২২ বছর পর সেই ভয়াবহ স্মৃতিমাখা একটি ভিডিও শেয়ার করে আবেগপ্লুত হয়ে পড়েছেন এই গায়ক।
ভিডিওটিতে দেখা যায়, পাকিস্তান সফরের সেই দিনে কনসার্ট শুরুর ঠিক আগে ভেন্যুর পাশেই বিকট শব্দে বোমা বিস্ফোরণ ঘটে। চারদিকে আতঙ্ক আর চিৎকার। সবাই যখন ভাবছিল কনসার্ট বাতিল হবে, ঠিক তখনই পাকিস্তান রেঞ্জার্স আর কড়া নিরাপত্তার চাদরে মুড়ে সোনুকে নিয়ে আসা হয় স্টেডিয়ামে। সোনু ব্যাকস্টেজে দাঁড়িয়ে যখন দেখছিলেন দর্শকরা তাঁর জন্য অপেক্ষা করছেন, তিনি নিজেকে আটকে রাখতে পারেননি।
সোনু নিগমের এই ভিডিওতে প্রয়াত পাকিস্তানি আয়োজক ফুরকান টি. সিদ্দিকীর একটি সাক্ষাৎকারও রয়েছে। ফুরকান বলেছিলেন, সোনু সবসময় মনে করতেন সেই রাতে পাকিস্তানিরাই তাঁর প্রাণ বাঁচিয়েছিল। সোনু বলতেন, ‘হামলা তো ওখানেই হয়েছিল, কিন্তু আমাকে যারা নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নিয়ে গিয়েছিল তাঁরা সবাই ছিল পাকিস্তানি। আমি মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরেছি।’
সেই উত্তপ্ত রাতেও সোনু যখন মাইক হাতে নিলেন, চারদিকে পিনপতন নীরবতা। তিনি গেয়ে উঠলেন ‘সুরজ হুয়া মাধ্যম’ কিংবা ‘কাল হো না হো’। গানের ফাঁকেই দর্শকদের উদ্দেশে বলেছিলেন, ‘ভারত আর পাকিস্তানের মানুষ বড়ই অভাগা, যারা বছরের পর বছর একে অপরের ভালোবাসার জন্য তৃষ্ণার্ত ছিল। দোয়া করবেন যেন আমাদের এই ভালোবাসা সবসময় অটুট থাকে।’
সেই ভয়াবহ রাত সোনু নিগম আর পাকিস্তানি আয়োজক ফুরকানের মধ্যে এক আজীবনের বন্ধুত্ব তৈরি করে দিয়েছিল। প্রতি বছর ১০ এপ্রিল সোনু মেসেজ পাঠিয়ে মনে করিয়ে দিতেন সেই পুনর্জন্মের কথা। ২০০৪ সালের সেই উত্তাল সময়ে সোনুর এই কনসার্টটি ছিল দুই দেশের সম্প্রীতির এক অনন্য উদাহরণ।
সোনু নিগমের শেয়ার করা এই ভিডিওটি এখন নেট দুনিয়ায় ভাইরাল, যা আবারও মনে করিয়ে দিল ধর্ম বা দেশ নয়, দিনশেষে মানবতা আর সুরই সব দেয়াল ভেঙে দেয়।
সূত্রঃ নিউজ ১৮

