আগামীর সময়

অর্ধশতাব্দী পরেও মুগ্ধতা ছড়াচ্ছে 'প্যারানয়েড'

অর্ধশতাব্দী পরেও মুগ্ধতা ছড়াচ্ছে 'প্যারানয়েড'

হেভি মেটাল সংগীতের ইতিহাসে সময়কে অতিক্রম করে আজও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক ‘প্যারানয়েড’। ব্রিটিশ ব্যান্ড ব্ল্যাক সাবাথের এই গানটি প্রকাশের অর্ধশতাব্দীর বেশি সময় পরেও নতুন প্রজন্মের শ্রোতাদের মুগ্ধ করে চলেছে।

১৯৭০ সালে প্রকাশিত একই নামের অ্যালবাম ‘প্যারানয়েড’ থেকে নেওয়া এই গানটি যুক্তরাজ্যের সিঙ্গেল চার্টে চতুর্থ স্থানে উঠেছিল। শুধু একটি জনপ্রিয় গান হিসেবেই নয়, বরং হেভি মেটাল ধারার ভিত্তি নির্মাণে এর অবদান অনস্বীকার্য। অ্যালবামটি ব্যান্ডটির প্রথম নাম্বার ওয়ান অ্যালবাম হিসেবে স্বীকৃতি পায় এবং যুক্তরাষ্ট্রে চারবার প্লাটিনাম সনদও অর্জন করে।

এই অ্যালবামে আরও রয়েছে কালজয়ী গান ‘আয়রন ম্যান’, যা ব্যান্ডটির পরিচিতি বিশ্বজুড়ে আরও ছড়িয়ে দেয়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পপ, রক, হিপ-হপ কিংবা আরঅ্যান্ডবি-সব ধরনের পুরনো গানের প্রতিই তরুণদের আগ্রহ বাড়ছে, আর সেই তালিকায় ‘প্যারানয়েড’ বরাবরই শীর্ষে থাকে।

সংগীতবিষয়ক প্রকাশনা আল্টিমেট ক্লাসিক রক তাদের সর্বকালের সেরা ক্লাসিক রক গানের তালিকায় এই গানটিকে দশম স্থানে রেখেছে। তাদের মতে, গানটি ‘মনের গভীরতাকে ছুঁতে পারে এখনো’ এবং এটি হেভি মেটালের জন্য একটি কাঠামো তৈরি করে দিয়েছে।

মজার বিষয় হলো, গানটি হেভি মেটাল হিসেবে পরিচিত হলেও এর গতি তুলনামূলক ধীর, কিন্তু শক্তিশালী গিটার রিফ এটিকে আলাদা মাত্রা দিয়েছে-যা অনেকেই ‘চলন্ত গাড়ির ইঞ্জিনের শব্দের মতো’ বলে বর্ণনা করেন।

গানের কথাগুলোও সরল, যেখানে একটি ভেঙে যাওয়া সম্পর্কের হতাশা ও সীমাবদ্ধতার কথা উঠে এসেছে।

গানটি লিখেছিলেন ব্যান্ডের চার সদস্য টনি আইওমি, গিজার বাটলার, ওজি অসবর্ন এবং বিল ওয়ার্ড। অবাক করার মতো বিষয়, অ্যালবামের জন্য একটি ‘ফিলার’ গান হিসেবে এটি তৈরি করা হয়েছিল। পুরো গানটি লেখা ও রেকর্ড করতে সময় লেগেছিল মাত্র আধা ঘণ্টারও কম।

এক সাক্ষাৎকারে বিল ওয়ার্ড জানান, প্রযোজক রজার বেইন ব্যান্ডকে একটি বাণিজ্যিক গান করার পরামর্শ দিয়েছিলেন। প্রথমে রাজি না হলেও পরে তারা বিরতির সময়েই গানটি তৈরি করেন। স্টুডিওতে ফিরে এসে টনি আইওমির তৈরি করা রিফের ওপর ভিত্তি করে সবাই একসঙ্গে বাজাতে শুরু করেন-আর সেখান থেকেই জন্ম নেয় এই কালজয়ী গান।

পরবর্তীতে ‘প্যারানয়েড’ হয়ে ওঠে ব্যান্ডটির অন্যতম সফল গান। একইসঙ্গে ‘নেভার সে ডাই’, ‘হার্ড রোড’, ‘নিয়ন নাইটস’ এবং ‘টার্ন আপ দ্য নাইট’-এর মতো গানগুলোর সঙ্গে এটি আজও সংগীতপ্রেমীদের প্লেলিস্টে জায়গা করে রেখেছে।

অর্ধশতাব্দী পেরিয়েও ‘প্যারানয়েড’ প্রমাণ করে-ভালো সংগীতের কোনো সময়সীমা নেই, আর প্রকৃত শিল্প কখনোই পুরোনো হয়ে যায় না।

ফটো ক্যাপশন: ব্ল্যাক সাবাথ ব্যান্ডের চার সদস্য। ছবি: সংগৃহীত

    শেয়ার করুন: