আগামীর সময়

শৈশবের স্মৃতিতে ভরা পল ম্যাককার্টনির নতুন অ্যালবাম

শৈশবের স্মৃতিতে ভরা পল ম্যাককার্টনির নতুন অ্যালবাম

সংগৃহীত ছবি

দীর্ঘ ছয় বছর পর নতুন অ্যালবামের ঘোষণা দিলেন বিশ্বখ্যাত সংগীতশিল্পী পল ম্যাককার্টনি। শৈশবের অপ্রকাশিত স্মৃতি নিয়ে তৈরি হয়েছে ‘দ্য বয়েজ অব ডানজিয়ন লেন’ শিরোনামের এই অ্যালবাম।


দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী সময়ে যুক্তরাজ্যের লিভারপুলে কাটানো শৈশব থেকেই অ্যালবামটির অনুপ্রেরণা এসেছে। ‘ডানজিয়ন লেন’ নামটি নেওয়া হয়েছে স্পিক এলাকার একটি রাস্তা থেকে, যা মার্সি নদীর তীরে গিয়ে মিলেছে। সেই জায়গায় ছোটবেলায় পাখি দেখার জন্য সময় কাটাতেন ম্যাককার্টনি, আর গুনগুন করে নতুন গানের সুর বাঁধতেন।

‘দ্য বয়েজ অব ডানজিয়ন লেন’ শিরোনামের নতুন অ্যালবামটিতে তার আগের সব কাজের ছাপ থাকবে। উইংস ধাঁচের রক, বিটলসের হারমোনি এবং ম্যাককার্টনির নিজস্ব গ্রুভ—এই অ্যালবামকে সবকিছুর মিশেল বলা যায়। অ্যালবামে পাখি প্রেমের বিষয়টি আগেই ইঙ্গিত দিয়েছিলেন তিনি। নিজের ওয়েবসাইটে পাখি-ভিত্তিক গানগুলোর একটি প্লে লিস্ট শেয়ার করেন, যেখানে ছিল ‘ব্ল্যাকবার্ড’সহ বিটলসের কয়েকটি জনপ্রিয় গান।

২০২৪ সালে তার ‘লাইফ ইন লিরিক্স’ পডকাস্টে ম্যাককার্টনি বলেন, ‘ছোটবেলা থেকেই পাখি দেখা ভালো লাগত। এটা আমাকে জীবনের স্বাভাবিক ধারার বাইরে একটু শান্তি দিত।’

এদিকে অ্যালবামের নামটি সামাজিক মাধ্যমে ভুলবশত ফাস করে দেন তার ভাই মাইক ম্যাককার্টনি। লিভারপুলে পোস্টার দেখে তার ছেলে বিষয়টি প্রথম জানতে পারেন, আর অ্যালবামটির ডিজাইন নাকি তার ছেলে জেমস করেছেন।


অ্যালবামের প্রথম গান ‘ডেজ উই লেফট বিহাইন্ড’ সম্প্রচারিত হয়েছে বিবিসি রেডিও মার্সিসাইডে। গানে পাওয়া যায় এক গভীর নস্টালজিক আবহ। সহজ অ্যাকুস্টিক সুরে তিনি স্মৃতিচারণ করেন ‘ধোঁয়াটে বার আর সস্তা গিটার’ এর দিনগুলোর। যেমন গানের একটি লাইন, ‘লিভারপুল বদলালেও আমাদের ফেলে আসা দিনগুলো কখনো মুছে যাবে না।’

গানটিতে তার কোমল ফ্যালসেটো কণ্ঠে বয়সের ছাপও ফুটে উঠেছে, যা গানে এনেছে এক আবেগঘন গভীরতা। মাঝের অংশে তিনি তুলে ধরেছেন ‘দ্য বিটলস’-এর শুরুর দিনগুলোর স্মৃতি। লিভারপুলের নিজের বাড়িতে জন লেননের সঙ্গে প্রথম পরিচয় ও গান লেখা।

এক বিবৃতিতে ৮৩ বছর বয়সী ম্যাককার্টনি জানান, ‘এটা আমার জন্য খুবই স্মৃতিময় একটি গান। প্রায়ই ভাবি, আমি কি শুধু অতীত নিয়েই লিখছি? কিন্তু তারপর মনে হয়, অন্য কিছু নিয়েই বা কীভাবে লিখব!’

তিনি আরও জানান, ‘এগুলো লিভারপুলের অনেক স্মৃতি... আমাদের তেমন কিছু ছিল না, কিন্তু তাতে কিছুই মনে হতো না। মানুষগুলো ছিল অসাধারণ, তাই অভাবটা বুঝতেই পারতাম না।’

২০২৬ সালে ম্যাককার্টনি ও জন লেননের প্রথম সাক্ষাতের ৬৯ বছর পূর্ণ হচ্ছে। ‘দ্য বয়েজ অব ডানজিয়ন লেন’ হবে তার ১৯তম একক অ্যালবাম। এর আগে ২০২০ সালে প্রকাশিত ‘ম্যাককার্টনি থ্রি’ প্রায় পুরোটা তিনি নিজেই রেকর্ড করেছিলেন লকডাউনের সময়, যাকে তিনি মজা করে বলেছিলেন ‘রকডাউন’। তবে নতুন এই অ্যালবামটি তৈরি করেছেন মার্কিন প্রযোজক অ্যান্ডু ওয়াটের সঙ্গে, যিনি অভিজ্ঞ শিল্পীদের কাছ থেকে নতুন প্রাণবন্ত কাজ বের করে আনার জন্য পরিচিত।

২০২১ সালে কফি হাউজে ম্যাককার্টনি ও ওয়াটের পরিচয়। সেই সময় গিটার বাজাতে গিয়ে ম্যাককার্টনি এমন একটি কর্ড খুঁজে পান, যা শুনে অভিভূত হন ওয়াট। এরপর সেটিকে ঘষেমেজে তৈরি হয় তিন কর্ডের একটি সিকোয়েন্স। যা থেকেই অ্যালবামের প্রথম গান ‘অ্যাজ ইউ লাই দেয়ার’-এর জন্ম।


রেকর্ডিংয়ের কাজ চলে কয়েক বছর ধরে। এর মাঝে বিটলস ডকুমেন্টারি ‘গেট ব্যাক’ প্রযোজনা এবং তার ব্যান্ড উইংস নিয়ে স্মৃতিকথা লেখার কাজও চলছিল। এই সময়েই তিনি গ্র্যামি জিতেছেন ‘নাউ অ্যান্ড দেন’ গানটির জন্য, যেটিকে বিটলসের শেষ গান হিসেবে আখ্যা দেওয়া হয়। উন্নত অডিও প্রযুক্তির সাহায্যে পুরনো ডেমো থেকে উদ্ধার করা হয়েছিল গানটি।

সূত্র: বিবিসি

    শেয়ার করুন: