রাহুলের পডকাস্টে যাওয়া হলো না শ্রাবন্তীর

সংগৃহীত ছবি
টলিপাড়ায় শোকের ছায়া। শুটিং করতে গিয়ে পানিতে ডুবে মারা গেছেন অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় (৪৩)। খবরটা শুনে বিশ্বাস করতে পারছিলেন না অনেকেই। তালিকায় আছেন অভিনেত্রী শ্রাবন্তী চট্টোপাধ্যায়ও। কিছুদিন আগেই রাহুলের সঙ্গে ‘ঠাকুমার ঝুলি’ ওয়েব সিরিজে কাজ করেছিলেন শ্রাবন্তী।
সহ-অভিনেতার মারা যাওয়ার খবরে ভেঙেই পড়লেন শ্রাবন্তী। ‘হে ঈশ্বর! এ কী করে হলো? মাত্র দুই-তিন দিন আগেই আমাদের কথা হয়েছিল।’
রাহুল মজা করে বলেছিলেন, ‘ভাবছিলাম আমরা নায়ক-নায়িকা হব। আর তুই আমার ঠাকুমা হলি!’ সেই স্মৃতি এখন আরও বেদনাদায়ক হয়ে উঠেছে শ্রাবন্তীর কাছে। নিজেই বলেছিলেন, ‘তোমার পডকাস্টে যেতে চাই।’ কিন্তু সেই ইচ্ছে আর পূরণ হলো না। বাংলা ভাষাভাষী মানুষের কাছে পৌঁছে গিয়েছিল রাহুলের পডকাস্ট।
রাহুলের নানা প্রতিভার কথা স্মরণ করেন অভিনেত্রী। তার মতে, এই ক্ষতি কোনোভাবেই পূরণ হওয়ার নয়। শ্রাবন্তীর কথায়, তাদের অনস্ক্রিন রসায়ন দর্শকদের পছন্দ হয়েছিল। আবার একসঙ্গে কাজ করার প্রস্তাব দিয়েছিলেন শ্রাবন্তী। ‘এবার আমরা নায়ক-নায়িকা হব।’ কিন্তু এমন পরিণতি কল্পনাও করতে পারেননি।
‘এত প্রতিভাবান মানুষ, তার চেয়েও বড় কথা, মানুষ হিসেবেও খুব ভালো ছিল’, রাহুলের মৃত্যু বাংলা চলচ্চিত্র জগতের জন্য ‘বড় ক্ষতি’ উল্লেখ করছেন শ্রাবন্তী। একসঙ্গে ‘সাকসেস পার্টি’ করার পরিকল্পনা ছিল তাদের। ‘সবকিছু হঠাৎ থেমে গেল। আজকের দিনটা দুঃস্বপ্নের মতো লাগছে’, বলছিলেন দুই বাংলার জনপ্রিয় নায়িকা।
প্রায় এক দশক আগে রাহুলের সঙ্গে প্রথম আলাপ শ্রাবন্তীর। তখন থেকে আজ পর্যন্ত মানুষ হিসেবে রাহুলের মধ্যে কোনো পরিবর্তন দেখতে পাননি। ‘খুব সাধারণ, ভদ্রলোক ছিল। ইশ্বর কেন যে ভালো মানুষদের এত তাড়াতাড়ি নিয়ে যান, বুঝি না,’ বিষাদকণ্ঠে প্রতিক্রিয়া জানান শ্রাবন্তী।
আজ রবিবার দিঘার তালসারি সৈকতে ‘ভোলে বাবা পার করেগা’ ধারাবাহিকের শুটিং করছিলেন রাহুল। দৃশ্যের প্রয়োজনে সৈকত থেকে পানিতে নেমে ডুবে যান। পরে শুটিং ইউনিটের টেকনিশিয়ানরা তাকে উদ্ধার করে দিঘা হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
‘চিরদিনই তুমি যে আমার’ সিনেমার মাধ্যমে বড়পর্দায় নাম লিখিয়েছিলেন রাহুল। জুটি বেঁধেছিলেন প্রিয়াঙ্কা সরকারের সঙ্গে। পরে তার সঙ্গেই প্রেম ও বিয়ে। তাদের এক ছেলেসন্তানও আছে।

