নব্বই দশকের আলোচিত তারকাদের যত বিচ্ছেদ

নব্বই দশক মাতিয়েছেন তারা। টেলিভিশন বাক্সের ভেতর থেকে প্রজন্মের মনের খুব কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিলেন, তবুও ছিলেন অধরা। সামাজিকমাধ্যম ছিল না, তাই একিহনকার মতো তাদের দিনযাপন জানা সম্ভব ছিল না। ছিলেন না সহজলভ্য। ফলে তাদের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে সাধারণের কৌতূহল ছিল। এখন সময়ের পরিক্রমায় সেসব তারকার জায়গা দখল করে নিয়েছেন অন্যরা। তারপরও তারা খবরে আসেন। এবারের খবর, নব্বই দশকের আলোচিত সেসব তারকার প্রেম পরিণয় ও বিচ্ছেদের গল্প।
আফসানা মিমি-গাজী রাকায়েত
নব্বই দশকে খুবই জনপ্রিয় মুখ ছিলেন আফসানা মিমি। একটি নাট্যদলে কাজ করতে গিয়ে আফসানা মিমির পরিচয় হয় নির্মাতা-অভিনেতা গাজী রাকায়েতের সঙ্গে। পরিচয়ের পর সখ্য। সময়ের ব্যবধানে সেই সখ্য গড়ায় প্রেমে। অতঃপর বিয়ে। কিন্তু বিয়েটা দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। ১৯৯৬ সালে বিচ্ছেদ ঘটে আফসানা মিমি-গাজী রাকায়েতের।
তারিন-সোহেল আরমান
চলচ্চিত্র নির্মাতা আমজাদ হোসেনের ছেলে অভিনেতা ও পরিচালক সোহেল আরমানের সঙ্গে প্রেম করে বিয়ের পিঁড়িতে বসেন অভিনেত্রী তারিন। বাবা-মায়ের অজান্তে পালিয়ে গিয়ে ২০০১ সালে তারিন বিয়ে করেন সোহেলকে। ঘটনাটি গোপন রাখার চেষ্টা করলেও পরে জানাজানি হয়ে যায়। সে বিয়ে খুব আলোচিত হয়। তার চেয়েও দ্বিগুণ আলোচিত হয় বছর ঘুরতে না ঘুরতেই এই দম্পতির সংসার ভাঙনে।
পার্থ বড়ুয়া-শ্রাবন্তী
শ্রাবন্তী নব্বই দশকের শেষভাগের তারকা। শ্রাবন্তী ভালোবেসে বিয়ে করেছিলেন সোলসখ্যাত ব্যান্ড তারকা পার্থ বড়ুয়াকে। খুব বেশিদিন সেই প্রেম স্থায়ী হয়নি তাদের। শ্রাবন্তী এখন থাকেন মার্কিন মুলুকে।
জেনি-অমিতাভ রেজা
খুব পরিচ্ছন্ন লুকে ধরা দিয়েছিলেন জেনি। জেনিও নব্বই দশকের শেষভাগের তারকা। একদিন বিজ্ঞাপন নির্মাতা অমিতাভ রেজাকে বাবা-মায়ের অমতে ভালোবেসে বিয়ে করেন অভিনেত্রী জেনি। দীর্ঘ প্রেমের বিয়ে হলেও তাদের সংসার বেশিদিন টেকেনি।
রুমানা-আনজাম মাসুদ
হাঁসমার্কা কেশ তেলের বিজ্ঞাপন দিয়ে রুমানা সবার দৃষ্টি কাড়েন। এরপর বিজ্ঞাপন নির্মাতা-অভিনেতা আনজাম মাসুদকে প্রেম করে বিয়ে করেন। কিন্তু ভালোবাসার রঙ মেশানো সেই বিয়ে বেশিদিন টেকেনি। একজন আরেকজনের বিরুদ্ধে পরকীয়ার অভিযোগ এনে বিচ্ছেদের পথ বেছে নেন।
রবি চৌধুরী-ডলি সায়ন্তনী
সংগীতশিল্পী রবি চৌধুরী ভালোবেসে বিয়ে করেছিলেন সংগীতশিল্পী ডলি সায়ন্তনীকে। কিন্তু তাদের ভালোবাসার সংসার শেষ পর্যন্ত টেকেনি। রবি চৌধুরী ও ডলি সায়ন্তনী পরস্পরের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলেন। সম্প্রতি এই বিষয় নিয়ে ফের কথা হচ্ছে।
তাজিন-এজাজ মুন্না
তাজিন আহমেদ ছোট পর্দার পরিচালক এজাজ মুন্নাকে ভালোবেসে বিয়ে করেন। তাদের সংসারও টেকেনি বেশিদিন। এজাজ মুন্নার বিরুদ্ধে তাজিন মাদকাসক্তি ও পরনারী আসক্তির অভিযোগ তোলায় তাদের সংসারে ফাটল ধরে। তাজিনের সঙ্গে বিচ্ছেদ ঘটিয়ে মুন্না লাক্স তারকা ও অভিনেত্রী মমকে বিয়ে করেন। আর তাজিন বিয়ে করেন এক মিউজিশিয়ানকে।
বিজরী-ইমন
অভিনেত্রী বিজরী বরকত উল্লাহ ও সঙ্গীত পরিচালক শওকত আলী ইমন একে অপরকে ভালোবেসে বিয়ে করেন। তাদের ঘরে ফুটফুটে সুন্দর এক কন্যাসন্তান জন্ম হয়। কিন্তু তাদের এ বিয়ে বেশিদিন টেকেনি। ডিভোর্স হয় তাদের। বিজরী পরে বিয়ে করেন অভিনেতা ইন্তেখাব দিনারকে। অন্যদিকে ইমন পরে একাধিক সম্পর্কে জড়ালেও নতুন করে এখনো আর কাউকে বিয়ে করেননি।
জয়া আহসান-ফয়সাল
অভিনেত্রী জয়া মডেল ফয়সালের সঙ্গে প্রেম করে বিয়ে করেন। বিয়ের পর ধানমন্ডিতে প্রেমের সোপান হিসেবে একটি ফাস্টফুডের দোকান খুলতেও দেখা যায় তাদের। সুখেই চলছিল তাদের সংসার। কিন্তু হঠাৎ অজানা কিছু বিষয় নিয়ে মনোমালিন্যের ঝড় বইতে শুরু করে। ধীরে ধীরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। স্বামী ফয়সাল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় তাকে ডিভোর্স লেটার পাঠান জয়া।
অপি করিম-উজ্জ্বল
অভিনেত্রী অপি করিম ২০০৭ সালে জাপান প্রবাসী কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ার তাসির আহমেদকে বিয়ে করেন। বিয়ের পর কিছুদিন ভালোই ছিলেন তারা। তারপর হঠাৎ তাদের বিচ্ছেদের গুঞ্জন ওঠে। অপির মিডিয়ায় ব্যস্ততা এবং মিডিয়ার লোকদের সঙ্গে মেলামেশাকে কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছিলেন না তাসির। অন্যদিকে তাসিরের বিরুদ্ধেও আগে আরো একটি বিয়ে করাসহ নানা অভিযোগ তোলেন অপি। ফলে বছর না গড়াতেই তাদের সংসার ভেঙে যায়। এরপর অপি প্রেমে পড়েন নাট্য পরিচালক মাসুদ হাসান উজ্জ্বলের। তারা বিয়েও করেন। কিন্তু সেই বিয়েও বেশিদিন টেকেনি। তাদেরও বিচ্ছেদ হয়ে যায়। অপি পরে বিয়ে করেন নির্ঝরকে।
হিল্লোল-তিন্নি
মিডিয়াপাড়ায় হিল্লোল-তিন্নির বিয়ে বেশ আলোচিত ছিল। এটাও ছিল ভালোবাসার বিয়ে। তিন্নি ধর্মান্তরিত হয়ে মা-বাবাকে ছেড়ে হিল্লোলের কাছে চলে আসেন। এই দম্পত্তির ঘর আলো করে আসে এক কন্যাসন্তান। তবে এই তারকা দম্পত্তির সংসারও টেকেনি। তিন্নির প্রতি মাদক ও পরপুরুষের আসক্তির অভিযোগ তোলেন হিল্লোল। এ নিয়ে দু’জনই দু’জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ-পাল্টা-অভিযোগ তোলেন। হিল্লোল আরেক মডেল অভিনেত্রী নওশীনের সঙ্গে নতুন করে সংসার শুরু করেন। অপরদিকে তিন্নি নতুন সংসার শুরু করলেও সেটা ধারাবাহিকতা হারায়।
মোনালিসা-ফাইয়াজ শরীফ
জনপ্রিয় মডেল, অভিনেত্রী ও নৃত্যশিল্পী মোজেজা আশরাফ মোনালিসা ২০১২ সালের জুনে যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী ফাইয়াজ শরীফের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। একই বছরের ম্যাজিক ডে ১২.১২.১২-তে ঢাকার একটি রেস্টুরেন্টে মোনালিসা ও ফাইয়াজের বিবাবহোত্তর সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে উভয় পরিবারের ঘনিষ্ঠজনেরা উপস্থিত ছিলেন। বিয়ের মাত্র দুই-তিনদিন পরই শুরু হয় দু’জনের মধ্যে ভুল-বুঝাবোঝি। শেষমেষ বিচ্ছেদেই রক্ষা। অবশ্য দীর্ঘদিন মোনালিসার প্রেম ছিল সঙ্গীত তারকা হাবিব ওয়াহিদের সঙ্গে।
নাদিয়া-শিমুল
শিমুল-নাদিয়া ২০০৩ সালে পরস্পরের প্রেমে পড়েন। দীর্ঘদিন প্রেমের পর ২০০৮ সালে তারা বিয়ে করেন। তবে ২০১৪ সালের মাঝামাঝিতে তাদের বিচ্ছেদের গুঞ্জন, এরপর অভিনেতা নাইমকে বিয়ে করেন এ অভিনেত্রী।

