জামায়াতকে নিয়ে মাহফুজ আনামের বক্তব্য বিভ্রান্তিকরভাবে প্রচারিত

ছবিঃ আগামীর সময়
‘দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম পরিচয়ের সবচেয়ে খাঁটি প্রতিনিধি জামায়াত’ - দ্য ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনামের নামে এমন একটি উক্তি বিভ্রান্তিকরভাবে প্রচারিত হচ্ছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ও নিউজপোর্টালে।
যাচাইয়ে দেখা গেছে, মাহফুজ আনাম সরাসরি এমন মন্তব্য কোথাও করেননি। বরং তার একটি লেখা থেকে আংশিকভাবে প্রেক্ষাপটবিহীনভাবে প্রচার হচ্ছে।
কী-ওয়ার্ড সার্চ করে গত ৬ ফেব্রুয়ারি ডেইলি স্টার ওয়েবে বাংলায় মাহফুজ আনামের একটি অভিমত কলাম পাওয়া যায়। যার শিরোনাম ছিল, ‘পরাজয় মেনে নেওয়ার মানসিকতা থাকতে হবে প্রতিটি রাজনীতিবিদের’। সে কলামের পঞ্চম প্যারায় মাহফুজ আনামের নামে প্রচারিত আংশিক মন্তব্যটি পূর্ণাঙ্গ প্রেক্ষাপটসহ উল্লিখিত হয়েছে।
উক্ত কলামের শুরুতে মাহফুজ আনাম মূলত জামায়াতে ইসলামী নিয়ে আলাপ করেছেন। কলামে তিনি একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে জামায়াতের ভূমিকা ও ক্ষমা চাওয়া প্রসঙ্গ টেনেছেন। চতুর্থ প্যারায় তিনি লিখেছেন, ‘‘এমন অতীত নিয়েও আসন্ন নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামী হয়ে উঠেছে এক গুরুত্বপূর্ণ শক্তি। জনমত জরিপগুলো ইঙ্গিত দিচ্ছে, আগামী সংসদে তারা দ্বিতীয় বৃহত্তম দল হিসেবে আবির্ভূত হতে পারে। এমন লজ্জাজনক অতীত নিয়েও কীভাবে তারা এতটা শক্তিশালী অবস্থানে পৌঁছাল?’’
এর উত্তরে পরের প্যারায় লিখেছেন, ‘‘এর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কারণ হলো, দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের মাঝে মুসলিম পরিচয়ের চেতনা আরও বলিষ্ঠভাবে উন্মেষ হচ্ছে এবং সেই পরিচয়ের সবচেয়ে খাঁটি প্রতিনিধি হিসেবে জামায়াতে ইসলামী নিজেদের তুলে ধরার চেষ্টা করছে। মধ্যপন্থী দুই দল- মূলত আওয়ামী লীগ এবং কিছুটা বিএনপি- ভোটারদের মনে জাতীয়তাবাদী ও ধর্মনিরপেক্ষ রাজনীতির গভীর ও স্থায়ী প্রভাব ফেলতে ব্যর্থ হওয়াই জামায়াতের পুনরুত্থানের ক্ষেত্র তৈরি করেছে।’’
অর্থাৎ মাহফুজ আনাম উক্ত কলামে জামায়াতের অতীত কর্মকাণ্ড নিয়েও কীভাবে জনপ্রিয়তা পেয়েছে তার পেছনের কারণ হিসেবে জামায়াতের ‘প্রচেষ্ঠা’র কথা উল্লেখ করেছেন। তিনি সরাসরি জামায়াতকে ‘দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম পরিচয়ের সবচেয়ে খাঁটি প্রতিনিধি’ এমন মন্তব্য করেননি। অর্থাৎ, আগে ও পরের বাক্য কাটছাঁট করে বিভ্রান্তিকরভাবে শিরোনাম করা হয়েছে।

