‘তোমাকে কিছু দেখানোর আছে’ –স্ত্রীর যে মেসেজ পড়ার আগেই মারা যান জোতা

প্রয়াত লিভারপুল তারকা দিয়েগো জোতা এবং তার স্ত্রী রুত কারদোসো।
ফুটবল মাঠে তার পায়ের কারিকুরি দেখে উল্লাসে মেতে উঠতেন দর্শকরা। কিন্তু লিভারপুল তারকা ডিয়েগো জোতার ক্যারিয়ার থেমে যায় এক ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায়। গত বছর স্পেনে ওই দুর্ঘটনায় জোতার সঙ্গে তার ভাই আন্দ্রে সিলভাও মৃত্যুবরণ করেন। সম্প্রতি জোতার ওপর লেখা নতুন একটি জীবনীগ্রন্থে তাঁর স্ত্রী রুত কারদোসোর পাঠানো সেই শেষ বার্তাটি প্রকাশ্যে এসেছে।
মাত্র ২৮ বছর বয়সে না ফেরার দেশে চলে যাওয়া জোতা তার ছোটবেলার বন্ধু রুত কারদোসোকে বিয়ে করেছিলেন। বিয়ের মাত্র ১১ দিন পর সড়কপথে ইংল্যান্ডে ফেরার পথে উত্তর স্পেনের এক মহাসড়কে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুর্ঘটনার কবলে পড়ে তার ল্যাম্বরগিনি। দুর্ঘটনার ঠিক কিছুক্ষণ আগে রুত একটি মেসেজ পাঠিয়েছিলেন জোতাকে।
হোসে ম্যানুয়েল দেলগাদোর লেখা বইটিতে জানা যায়, সেই মেসেজে রুত লিখেছিলেন, ‘আমার ভালোবাসা, তুমি যখন কোথাও থামবে (গাড়ি থামাবে), তখন আমাকে একটা ফোন দিও। তোমাকে দেখানোর মতো একটা জিনিস আছে আমার কাছে।’ রুতের সেই ‘জিনিস’টি ছিল তাদের বিয়ের একটি নতুন ভিডিও, যা জোতা দেখে যেতে পারেননি।
আরও আক্ষেপের ঘটনা হলো, জোতার কাছে সেই বার্তা পৌঁছালেও তা আর পড়ার সুযোগ হয়নি তাঁর। এর আগেই টায়ার ফেটে গিয়ে নিয়ন্ত্রণ হারানো গাড়িটিতে মুহূর্তেই আগুন ধরে যায়। জোতা ও তার ভাইয়ের বেঁচে থাকার কোনো সুযোগ ছিল না।
‘নুনকা মাইস এ মুইতো তেম্পো’ (কখনো না বলাটা দীর্ঘ সময়) নামের বইটিতে জোতার বাবা জোয়াকিম এবং মা ইসাবেলের বয়ানে সেই রাতের ভয়াবহ স্মৃতি উঠে এসেছে। রুতের কাছ থেকে ফোন পাওয়ার পর থেকেই কুডাক দিচ্ছিল জোয়াকিমের মন। অন্যদিকে মা ইসাবেল মেসেজ পাঠিয়েছিলেন ছোট ছেলে আন্দ্রেকে। কিন্তু ওপাশ থেকে কোনো উত্তর না আসায় এক অজানা আতঙ্ক গ্রাস করেছিল তাঁদের। শেষ পর্যন্ত যখন দুঃসংবাদটি আসে, ততক্ষণে সব শেষ!

