সেহরিতে কী খেলে সারাদিন ক্ষুধা ও তৃষ্ণা লাগবে না?

সংগৃহীত ছবি
পবিত্র রমজানে একজন রোজাদারের জন্য সেহরির গুরুত্ব অপরিসীম। সেহরি খাওয়া সুন্নত। রোজাদারকে এ সুন্নাত পালনে সেহরি থেকে ইফতার পর্যন্ত দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকতে হয় বলে সেহরি হতে হবে পরিকল্পিত ও স্বাস্থ্যকর।
অনেকেই সারাদিন ক্ষুধার্ত থাকার ভয়ে সেহরিতে অতিরিক্ত খাবার গ্রহণ করেন, যা মোটেও স্বাস্থ্যসম্মত নয়। পুষ্টিবিদদের মতে, সেহরির খাবারে এমন কিছু উপাদান রাখা প্রয়োজন যা ধীরে ধীরে হজম হয় এবং শরীরকে দীর্ঘ সময় প্রয়োজনীয় পুষ্টি ও শক্তি সরবরাহ করে।
প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার মাছ, মুরগির মাংস (চর্বিহীন), ডিম ও দই। এটি ধীরে শক্তি শোষণ করে। ফাইবার ও পূর্ণ শস্য লাল চাল, ওটস ও লাল আটার রুটি। এটি হজম প্রক্রিয়া ধীর করে। স্বাস্থ্যকর ফ্যাট বাদাম, তিসি বীজ ও চিয়া সিড । দীর্ঘক্ষণ সতেজ রাখে। ফল ও সবজি কলা, তরমুজ, আপেল ও পেঁপে। এটি হাইড্রেটেড রাখতে সাহায্য করে।
প্রাকৃতিক ফাইবার ইসবগুলের ভুসি ও খেজুর। এটি গ্লুকোজের মাত্রা ঠিক রাখে।
সেহরিতে সঠিক খাবার নির্বাচন করলে ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণ করা অনেক সহজ হয়ে যায়। বিশেষজ্ঞ পরামর্শ অনুযায়ী নিচের খাবারগুলো সেহরির তালিকায় রাখা জরুরি:
প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার সেহরিতে প্রোটিনযুক্ত খাবার যেমন ডিম, চর্বিহীন মাংস, মাছ বা দই খেলে শরীর ধীরে ধীরে শক্তি শোষণ করে, ফলে তাড়াতাড়ি ক্ষুধা অনুভব হয় না।
ফাইবার ও পূর্ণ শস্য আঁশযুক্ত খাবার যেমন ওটস , লাল চাল,বা লাল আটার রুটি দীর্ঘ সময় ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। এগুলোতে থাকা ফাইবার হজম প্রক্রিয়াকে ধীরগতিতে চালিত করে।
স্বাস্থ্যকর ফ্যাট বাদাম, তিসি বীজ বা চিয়া সিড সেহরিতে খেলে শরীর দীর্ঘক্ষণ সতেজ থাকে।
ফলমূল ও সবজি বিশেষ করে কলা (পটাশিয়াম সমৃদ্ধ) এবং তরমুজ (পানি সমৃদ্ধ) সেহরির জন্য উপযোগী। আপেল, কমলা ও পেঁপে ভিটামিন ও মিনারেলের চাহিদা পূরণ করে শরীরকে হাইড্রেটেড রাখে।
প্রাকৃতিক আঁশ ও ইসবগুল: ইসবগুলের ভুসি পানি শোষণ করে পেট পূর্ণ রাখতে সাহায্য করে, যা প্রাকৃতিক ফাইবার হিসেবে ক্ষুধা কমায়।
কমপ্লেক্স কার্বোহাইড্রেট: ভাতের মধ্যে রয়েছে জটিল শর্করা , যা দেরিতে হজম হয় এবং পেট অনেকক্ষণ ভরা রাখতে সাহায্য করে। হাইড্রেটেড থাকা: তৃষ্ণা ও পানিশূন্যতা রোধে সেহরির সময় পর্যাপ্ত পানি পান করা উচিত। খাবার শুরুর আগে এক গ্লাস পানি পান করা এবং ইফতার ও সেহরির মধ্যবর্তী সময়ে পর্যাপ্ত পানি পান করা জরুরি।
সুন্নতি খাবার খেজুর সেহরিতে অন্তত ১-২টি খেজুর খেলে এতে থাকা প্রাকৃতিক ফ্রুক্টোজ রক্তের গ্লুকোজের মাত্রাকে ঠিক রাখতে সাহায্য করে।
দুগ্ধজাত খাবার দুধ ও দই ক্যালসিয়ামের ভালো উৎস। দই পেটে থাকা খাবার দীর্ঘ সময় ধরে হজম হতে সাহায্য করে, যা ক্ষুধা কমাতে সহায়ক।
সেহরি বা ইফতার শুরু করতে পারেন পুষ্টিকর স্যুপ দিয়ে। এটি শরীরকে আর্দ্র রাখতে এবং শক্তি ধরে রাখতে সাহায্য করে।
সূত্র : এখন টিভি ।

