বন্দর চুক্তির ধারে কাছেও আমরা নেই: নৌপরিবহন উপদেষ্টা

সংগৃহীত ছবি
নৌপরিবহন উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এম সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চট্টগ্রাম বন্দর ব্যবস্থাপনা চুক্তির বিষয়ে আমাদের স্বার্থ রক্ষা না হলে সরকার সেখানে চুক্তি করতে যাবে না।
তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত চুক্তির ধারে কাছেও আমরা নেই। আমাদের আর সময় নেই এটা করার। এই বন্দরকে যদি বাঁচিয়ে রাখতে হলে অগ্রগতি বাড়াতে হলে ব্যবস্থাপনা এবং অন্যান্য আনুষঙ্গিক যা কিছু আছে, আরও ইন্টারন্যাশনালাইজড হতে হবে।
মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে সচিবালয়ে নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের সার্বিক কর্মকাণ্ড নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
চট্টগ্রাম বন্দর বিদেশিদের হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে অভিযোগে আন্দোলন নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে নৌপরিবহন উপদেষ্টা বলেন, এখন পর্যন্ত চুক্তির ধারের কাছে আমরা নেই। কারণ, কঠিন বিষয়গুলো অ্যাগ্রিমেন্ট-ডিজঅ্যাগ্রিমেন্টের বিষয় আছে। আমাদের কাছে মনে হয়েছে, আমাদের আর সময় নেই এটা করার।
এই বন্দরকে যদি বাঁচিয়ে রাখতে হয়, পাশাপাশি অগ্রগতি বাড়াতে হলে ব্যবস্থাপনা এবং অন্যান্য আনুষঙ্গিক যা কিছু আছে, আরও ইন্টারন্যাশনালাইজড হতে হবে। আমাদের চট্টগ্রাম বন্দর ইন্টারন্যাশনালাইজড কানেক্টেড না। আমাদের এখান থেকে কলম্বো পোর্টে যেতে হয়, না হয় সিঙ্গাপুরে গিয়ে সেখান থেকে আবার জাহাজ বা মাদার ভেসেলে উঠে। তিনি বলেন, দুনিয়ার সব জায়গায় বিভিন্ন বন্দরের আঙ্গিক পরিচালনায় মডার্নাইজেশন (আধুনিকায়ন) এসেছে এবং বাইরের এক্সপার্ট কোম্পানিগুলো চালাচ্ছে।
যেমন পার্শ্ববর্তী দেশে পাঁচটা না সাতটা... পাকিস্তানের তার মূল বন্দর হচ্ছে করাচি, সেটাও এখন তারা চুক্তি করছে। সেই জায়গাতে এই বিষয়টি নিয়ে এত হইচই কেন করা হচ্ছে আই ডোন্ট নো (আমি জানি না)।
সাখাওয়াত হোসেন বলেন, আর তাছাড়া আমরা জানি ইলেকশন তো সামনে। তারপরেও প্রায় গত তিন মাস এই নেগোসিয়েশন চলেছে। তিন মাস নেগোসিয়েশনে আমরা যেই জায়গায় আসছি, সেই জায়গায় আমাদের স্বার্থ রক্ষা হচ্ছে না।
বারবার বলেছি যে আমাদের স্বার্থ রক্ষা না হলে আমরা এই চুক্তি করতে পারছি না। এই জায়গাতে হার্ডলাইন আলোচনা হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে আলোচনা চলছে। সরকারের কোনো ইচ্ছা নেই যে যেখানে আমাদের স্বার্থ রক্ষা হচ্ছে না, সেখানে চুক্তি করতে যাবে।
আন্দোলনকারীরা তো বলছেন যে এটা একটা লাভজনক বন্দর, তাহলে সরকার সেটা বিদেশিদের হাতে তুলে দিচ্ছে কেন এমন প্রশ্নের জবাবে নৌ উপদেষ্টা বলেন, বন্দর চালালে তো লাভজনক হবেই। আমি একটা বন্দর বানাব দেশে, আমি কি লাভজনক করব না? তো আমার লাভ যদি-যা আছে তার থেকে যদি চারগুণ করতে পারি, তাতে অসুবিধা কী?
তিনি বলেন, বন্দর বিদেশিদের হাতে দিয়ে দেওয়া হয়েছে, যারা এমন স্লোগান দেন, তাহলে আমি বলবো, তারা জেনেশুনে বিভ্রান্ত করছেন, অথবা তাদের কোনো আইডিয়া নেই। একটা বন্দর দুই রকমে চলতে পারে। একটা হচ্ছে, আপনি নিজে বানালেন বেসরকারিভাবে। বেসরকারিভাবে আপনি বিদেশিদের বানিয়ে দিলেন তারাই চালাচ্ছে। চিটাগং পোর্ট ইজ ন্যাশনাল পোর্ট। এখানে আপনারা জানেন যে বড় বড় তিনটি টার্মিনাল আছে।
উপদেষ্টা আরও বলেন, একটা তো নতুন তৈরি করছে, সেটা দেওয়া হয়েছে সৌদি আরবকে। বড় বড় তিনটি টার্মিনাল আছে। এই টার্মিনাল তিনটাই হচ্ছে চিটাগং পোর্টের সবচেয়ে মূলপথ। এখন একটা টার্মিনাল যদি আপনি মনে করেন যে, এই টার্মিনালটা আমাকে পয়সা দিচ্ছে, আমি আরও ভালো করতে চাই। সেই সঙ্গে সব পোর্টের মানে পুরো পোর্টেরই ব্যবস্থাপনা বাড়াতে চাই। সে জন্য যদি আরও স্কিলড কাউকে নিয়ে আসতে পারি।
নিজের অভিজ্ঞতার বিবরণ দিয়ে তিনি বলেন, আপনারা বিদেশে কখনো গিয়ে পোর্ট দেখেছেন কিনা আমি জানি না। আমি লাস্ট যখন চায়না যাই, চায়নাতে একটা পোর্ট দেখেছি মানে আশ্চর্য হয়ে গেলাম, পাঁচটা লোক... পাঁচটা কি ছয়টা ইয়াং পিপল পোর্ট চালাচ্ছে। এভরিথিং ইজ অটোমেটিক। ফ্ল্যাটবেড থেকে শুরু করে নামানো থেকে উঠানো থেকে সব শুরু করে আমাকে নিয়ে গেল কন্ট্রোল রুমে... পাঁচজন ইয়াং... পাঁচজন কি ছয়জন ইয়াং চাইনিজ বসে জাস্ট ভিডিও গেম যেভাবে খেলে, দে আর ডুইং ইট লাইক ভিডিও গেম।

