আগামীর সময়

হাদি হত্যার দুই আসামিকে দেশে আনতে সরকারের উদ্যোগ

হাদি হত্যার দুই আসামিকে দেশে আনতে সরকারের উদ্যোগ

সংগৃহীত ছবি

ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের দুই প্রধান আসামিকে ভারতে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের দ্রুত বাংলাদেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করতে কাজ শুরু করেছে সরকার।

ভারতের পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের স্পেশাল টাস্কফোর্স (এসটিএফ) শনিবার গভীর রাতে ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে রাহুল এবং তার সহযোগী আলমগীর হোসেনকে গ্রেপ্তার করে। উত্তর চব্বিশপরগনার বনগাঁ সীমান্ত এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

রবিবার (৮ মার্চ) সন্ধ্যায় এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায় এসটিএফ। সংস্থাটি জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা বাংলাদেশে সংঘটিত হাদি হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন।

এদিকে, বাংলাদেশ পুলিশ বলছে, দুই আসামিকে দেশে ফিরিয়ে আনতে ইতোমধ্যে যোগাযোগ শুরু হয়েছে। পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) প্রধান মো. ছিবগাত উল্লাহ একটি গণমাধ্যমকে জানান, গ্রেপ্তারের বিষয়টি তারা গণমাধ্যমে দেখেছেন। এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে ভারতীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে।

তিনি বলেছেন, ‘দুই আসামিকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে। এ জন্য ভারতের বাংলাদেশস্থ হাইকমিশনের সঙ্গেও যোগাযোগ করা হয়েছে।’

ভারতের আইন অনুযায়ী, বৈধ পাসপোর্ট ও ভিসা ছাড়া দেশে প্রবেশের অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে ফরেনার্স অ্যাক্ট ১৯৪৬-এর ১৪ ধারায় মামলা করা হয়েছে। এ ধারায় সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে। পাশাপাশি পাসপোর্ট আইন ১৯২০ অনুযায়ী অবৈধ অনুপ্রবেশের অভিযোগে আরও মামলা হতে পারে।

আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বিদ্যমান প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুযায়ী আনুষ্ঠানিক আবেদন করা হলে আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাদের দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব।

তবে একটি প্রশ্ন এখনো রয়েছে, ভারতে অবৈধ অনুপ্রবেশের মামলার বিচার শেষ হওয়ার পর তাদের ফেরত দেওয়া হবে নাকি দুই দেশের সরকারের বিশেষ সিদ্ধান্তে দ্রুত বাংলাদেশে হস্তান্তর করা হবে।

যদি স্বাভাবিক আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়, তাহলে মামলার বিচার শেষ হতে কয়েক বছর সময় লাগতে পারে। সে ক্ষেত্রে হাদি হত্যার আসামিদের দেশে ফিরিয়ে এনে বিচার শুরু হতে প্রায় পাঁচ বছর পর্যন্ত সময় লাগার আশঙ্কা রয়েছে। তবে দুই দেশের উচ্চপর্যায়ের সিদ্ধান্ত হলে এর আগেই তাদের বাংলাদেশে পাঠানো সম্ভব।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ঢাকায় গুলি করার পরপরই ফয়সাল ও আলমগীর পালিয়ে যান। তারা মেঘালয় সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করেন। এরপর বিভিন্ন এলাকায় পরিচয় গোপন করে অবস্থান করছিলেন।

শরিফ ওসমান হাদি জুলাই অভ্যুত্থানের অন্যতম সংগঠক ছিলেন। গত ১২ ডিসেম্বর রাজধানীর বিজয়নগরে তাকে গুলি করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় কয়েকদিন চিকিৎসাধীন থাকার পর ১৮ ডিসেম্বর তিনি মারা যান।

এ ঘটনায় রাজধানীর পল্টন থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। তদন্ত কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ফয়সাল করিম মাসুদ সরাসরি হাদিকে লক্ষ্য করে গুলি করেন। আর আলমগীর মোটরসাইকেল চালাচ্ছিলেন।

হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই তারা পলাতক ছিলেন। তাদের ধরিয়ে দিতে বাংলাদেশ সরকার পুরস্কারও ঘোষণা করেছিল।

    শেয়ার করুন: