নীলসাগর এক্সপ্রেস ট্রেনে কী ঘটেছিল, যা বলছেন চালক

সংগৃহীত ছবি
বগুড়ার সান্তাহারে ‘নীলসাগর এক্সপ্রেস’ লাইনচ্যুত হওয়ার প্রায় ২২ ঘণ্টা পর পুনরায় ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) দুপুর ১২টার দিকে রেল চলাচল শুরু হয়। এই ঘটনায় সান্তাহার রেলওয়ে জংশনের স্টেশন মাস্টারকে বরখাস্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে নীলসাগর এক্সপ্রেসের দুই চালককেও অস্থায়ী বহিস্কারের কথা বলা হয়েছে। তবে নীলসাগর এক্সপ্রেসের চালক আগামীর সময়কে জানালেন, এই দুর্ঘটনায় তাদের বিন্দুমাত্র দোষ ছিল না। তারা নিয়ম মেনেই ট্রেন চালিয়েছেন। সেখানে দায়িত্বরতদের অবহেলার কারণে এমনটা হয়েছে।
ঈদে ঘরমুখো যাত্রীদের নিয়ে বুধবার সকাল পৌনে ৭টায় ঢাকা থেকে নীলফামারীর চিলাহাটির উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করে নীলসাগর এক্সপ্রেস। বেলা ২টার দিকে সান্তাহার স্টেশনে থেমে আক্কেলপুরের উদ্দেশ্যে রওনা দিলে আদমদিঘি উপজেলার বাগমারি এলাকায় এটি লাইনচ্যুত হয়। এতে ট্রেনটির নয়টি বগি লাইন থেকে ছিটকে পড়ে।
নীলসাগর এক্সপ্রেসের সহকারী চালক সবুজ আগামীর সময়কে বলছেন, সান্তাহার থেকে আক্কেল্পপুর সেকশনে কমগতিতে ট্রেন চালাতে হবে এমন কোনো নির্দেশনা আমাদের দেওয়া হয়নি। কম গতিতে চালাতে হলে সান্তাহার স্টেশন মাস্টার আমাদের ও ট্রেনের পরিচালককে ওপিটি (অপারেশনাল টিকিট) ইস্যু করে দিতেন। আমাদের থেকে অপর টিকিটে সাক্ষরও নিতেন। কিন্তু তিনি এমন কোনো ওপিটি দেননি। ফলে আমরা নিয়মিত গতিতে ট্রেন চালিয়েছি।
চালক সিগন্যাল অমান্য করেছেন- এমন অভিযোগও ছিল। কিন্তু কোনো সিগন্যাল অমান্যও করেনি তারা- এমনটাই দাবি এই ট্রেন চালকের, বলা হচ্ছে আমরা সিগন্যাল অমান্য করেছি। প্রথমত আমাদের কমগতিতে ট্রেন চালানোর কোনো নির্দেশনা ছিল না, দ্বিতীয়ত আমরা সিগন্যাল অমান্য করিনি। আমাদের ট্রেনের ১৫০ গজ সামনে হুট করেই একটা লাল ঝাণ্ডা তুলে ধরা হয়েছিল। এতো অল্প দূরত্ব থেকে ট্রেনের গতি কমানো পুরোপুরি সম্ভব না, এছাড়াও ট্রেনের ভেতরে বাইরে, ছাদে ছিল প্রচুর মানুষ। তারপরেও আমি ও এলএম সাহেব ট্রেনের গতি কমিয়ে দিয়েছেন।
যদি কোনো ট্রেনের গতি কমাতে বলা হয় বা থামানোর চেষ্টা করা হয় তাহলে সেটাও নির্দিষ্ট দূরত্বে দুই দফায় ফ্ল্যাগ ধরা হয়। তাহলেই ট্রেনের গতি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব বলে জানালেন সবুজ। তার ভাষ্য, ট্রেন থামাতে চাইলে ফ্ল্যাগ ধরার নির্দিষ্ট নিয়ম রয়েছে। যেখানে কাজ চলছে, সেই স্পট থেকে৪৫০ গজ দূরে একটি ফ্ল্যাগ ধরতে হবে। এর আরো ২০০ গজ সামনে আরেকটি ফ্ল্যাগ ধরতে হবে। তারা এই নিয়ম মানেনি।
চালকরা কি পালিয়েছিলেন?
নীলসাগর এক্সপ্রেস ট্রেন চালাচ্ছিলেন লোকো মাস্টার রফিকুল ইসলাম ও অ্যাসিস্ট্যান্ট লোকো মাস্টার সবুজ। দুর্ঘটনার পর তাদের কাছে রেল পুলিশ চলে আসে। রেল পুলিশের নির্দেশমতোই তারা সেখান থেকে সরে আসেন। সবুজ বলছিলেন, দুর্ঘটনার পর পর সেখানে রেল পুলিশ চলে আসে। আমাদের তারা বলে সেখান থেকে সরে যেতে। আমরা রেলের পোশাক পরিবর্তন করে সেখান থেকে সরে যাই। তবে পালিয়ে যাওয়ার যে খবর প্রকাশ হয়েছে তা মিথ্যা। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আমাদের যোগাযোগ ছিল।
আমরা সিগন্যাল অমান্য করেছি, আমরা পালিয়েছি-এমন সব খবর সাংবাদিকরা নিয়েছেন সেখানে কাজ করতে আসা শ্রমিকদের কাছ থেকে। কর্তৃপক্ষ এমন কোনো কথা বলেনি। যোগ করেন এই চালক।



