রানা প্লাজা স্মরণে সাংস্কৃতিক সমাবেশ ‘কারখানা কেন বন্দিশিবির?’

রানা প্লাজা ধসের মর্মান্তিক ঘটনা স্মরণে সাংস্কৃতিক সমাবেশ আয়োজন করেছে নাট্যদল বটতলা। ‘কারখানা কেন বন্দিশিবির’- শিরোনামে শুক্রবার ঢাকার রায়েরবাজার বধ্যভূমি প্রাঙ্গণে গান, নাটকসহ নানা সাংস্কৃতিক আয়োজনে স্মরণ করা হয় দিনটি। শ্রমিক অধিকার আদায়ের আন্দোলনে যুক্ত বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠন, শিল্পী ও সংস্কৃতিকর্মীরা অংশ নেন সমাবেশে।
আয়োজকরা জানিয়েছেন, তৃতীয়বারের মতো অনুষ্ঠিত হলো এই উদ্যোগ। এবারের আয়োজনে পথনাটক, প্রতিবাদী গান ও কবিতা পরিবেশন করে প্রাচ্যনাট, ক্ষ্যাপা বাউল, সমগীতসহ বটতলার সুহৃদ শিল্পী সংগঠনগুলো। অনুষ্ঠানে সেদিনের দুঃসহ অভিজ্ঞতার স্মৃতিচারণ করেন রানা প্লাজা ধসে উদ্ধারকাজে অংশ নেওয়া স্বেচ্ছাসেবী মোকাদ্দেছ হোসেন শরিফ অঙ্ক।
বটতলার পরিচালক (যোগাযোগ) হুমায়ূন আজম রেওয়াজ বলেছেন, ‘নাটকে সব সময় মানুষের এবং সর্বপ্রাণের অধিকারের কথা বলে বটতলা। মঞ্চে কিংবা পথে সর্বজনের সপক্ষে এই সক্রিয়তা—অর্থাৎ শিল্পচর্চার মধ্য দিয়ে রানা প্লাজা, তাজরীন গার্মেন্টস অগ্নিকাণ্ড, তুবা কিংবা যেকোনো কারখানায় বারবার ঘটে যাওয়া এসব কাঠামোগত হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি, শ্রমিকের অধিকার ও জীবনের নিরাপত্তার দাবিকে সুপ্রতিষ্ঠিত করার লড়াইয়ে নিজেদের অবস্থান জানাতে কাজ করি আমরা। একই সঙ্গে এইসব হত্যাকাণ্ডকে ভুলিয়ে দেওয়ার নানা চক্রান্তের বিরুদ্ধে সোচ্চার থাকাও আমাদের দায়িত্ব।’
প্রসঙ্গত, ২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল ধসে পড়ে সাভার বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন ১০ তলা রানা প্লাজা ভবন। ওই ভবনে থাকা কয়েকটি পোশাক কারখানার ৫ হাজারের মতো শ্রমিক চাপা পড়েছিলেন সেদিন। পরে কয়েকদিনের উদ্ধার তৎপরতায় পাওয়া যায় ১ হাজার ১৩৬ জনের লাশ। ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে জীবিত উদ্ধার করা হয় ২ হাজার ৪৩৮ জনকে। এ ঘটনায় আহত ও পঙ্গু হয়েছেন প্রায় দুই হাজার শ্রমিক।



