আগামীর সময়

ফোনে ডেকে এনে হত্যা, বিন্তি হত্যার নেপথ্য জানাল পুলিশ

ফোনে ডেকে এনে হত্যা, বিন্তি হত্যার নেপথ্য জানাল পুলিশ

সংগৃহীত ছবি

দীর্ঘ চার বছরের প্রেমের সম্পর্কে টানাপোড়েন এবং অন্য কারো সঙ্গে সম্পর্কে জড়ানোর সন্দেহে ক্ষিপ্ত হয়েই স্কুলছাত্রী শাহরিয়ার শারমিন বিন্তিকে (১৪) নৃশংসভাবে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করেছে গ্রেফতার সিয়াম। রাজধানীর রায়েরবাজারে স্কুলছাত্রী বিন্তি হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচন করে এমনটাই জানিয়েছে পুলিশ।

বিন্তি হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে জানাতে বৃহস্পতিবার বিকালে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলন হয়। এ সময় রমনা বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মাসুদ আলম বলেছেন, ‘দ্রুততম সময়ের মধ্যে আমরা ঘাতক সিয়ামকে শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করেছি।’

তিনি জানান, রায়েরবাজারে বাসার সামনে বিন্তিকে ছুরিকাঘাতে হত্যার আগে ফোন করে ডেকে নেওয়া হয়। ঘটনার পর আশেপাশের সিসিটিভি ভিডিওতে অভিযুক্ত যুবকের সঙ্গে বিন্তিকে একসঙ্গে হাঁটতে ও স্বাভাবিকভাবে কথা বলতে দেখা গেছে। গ্রেপ্তারের পর অভিযুক্ত যুবক সিয়াম তাদের মধ্যে ‘প্রেমঘটিত বিরোধের’ কথা বলেছে। তবে পারিপার্শ্বিক ঘটনা বিশ্লেষণ করে পুলিশ বলছে, তাদের মধ্যে প্রেম না থাকলেও ভালো সম্পর্ক ছিল।

বুধবার রাত ৯টার দিকে নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী বিন্তিকে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় করা মামলার একমাত্র আসামি সিয়ামকে গ্রেফতার করা হয় বৃহস্পতিবার সকালে, কলাবাগান এলাকার একটি বাসা থেকে। এ সময় তার কাছ থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত চাকু, রক্ত মাখা গেঞ্জি ও প্যান্ট জব্দ করা হয়।

‘আমরা হত্যকাণ্ডের পর পরই আশেপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করি। ভিডিওতে ভিকটিম বিন্তির সঙ্গে সিয়ামকে একসঙ্গে হাঁটতে ও কথা বলতে দেখা গেছে। কথাবার্তার একপর্যায়ে সিয়াম ছুরি দিয়ে বিন্তিকে পেছন থেকে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করে। ছুরিকাঘাতের পর সিয়াম সেখানে কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে ছিল। সেখানে অনেক মানুষজন ছিল, কিন্তু কিছুক্ষণ পর সে নির্বিঘ্নে বাইকে করে চলে যায়’, বলছিলেন ডিসি মাসুদ আলম।



সিয়ামকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতে তিনি বলেন, ‘ওই মেয়েটার সঙ্গে সিয়াম একই স্কুলে পড়াশোনা করত। সিয়াম দাবি করেছে, তাদের মধ্যে চার বছরের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। মাঝখানে তাদের মধ্যে মনোমালিন্য হয়। সে ধারণা করে, মেয়েটা অন্য কারো সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়েছে। এ কারণে মেয়েটাকে খুন করার জন্যই সে সাথে ছুরি নিয়ে এসেছে। সে ওই এলাকায় গিয়ে মেয়েটাকে ফোন করে ডেকে নিয়ে কথা বলে। কথা বলার একপর্যায়ে সম্পর্ক রাখা না রাখা নিয়ে ঝগড়া চরম পর্যায়ে পৌঁছলে সে ছুরিকাঘাত করে।’

‘সিয়াম ভেবেছে, তাকে আর পাত্তা দিচ্ছে না বা তার সঙ্গে আর থাকবে না। সেজন্য মেয়েটাকে সে ‘রাখবে না’ ভেবেই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে’, সাংবাদিকদের বলছিলেন এই পুলিশ কর্মকর্তা।

বিন্তির মা নাদিয়া ঘটনার পরপরই অভিযোগ করেন, সিয়াম নামে এক তরুণ বিন্তিকে কুপিয়ে পালিয়ে গেছে। সিয়াম তার মেয়েকে প্রায়ই উত্যক্ত করত।

‘সিয়াম যদি মেয়েটাকে উত্যক্ত করত তাহলে ডাকলে মেয়েটার আসার কথা না। তারা একসঙ্গে হাঁটছিল, কথা বলছিল। তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক ছিল কিনা, মেয়েটা যেহেতু বেঁচে নেই তাই ক্রসচেক করতে পারছি না। তবে প্রেমের সম্পর্ক না থাকলেও তর্কের খাতিরে আমরা ধরে নিচ্ছি ভালো সম্পর্ক ছিল। তাদের মধ্যে আগে নিয়মিত যোগাযোগ ছিল, এখন অনিয়মিত যোগাযোগ ছিল’, এ বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে ব্যাখ্যা করেন ডিসি মাসুদ আলম।

অপরদিকে সিয়ামের মাদক সংশ্লিষ্টতা থাকতে পারে বলা হলেও জিজ্ঞাসাবাদে সে স্বীকার করেনি বলে জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা।

    শেয়ার করুন: