আগামীর সময়

নতুন আলোচনায় ছায়া মন্ত্রিসভা, কী আছে তাতে?

নতুন আলোচনায় ছায়া মন্ত্রিসভা, কী আছে তাতে?

সংগৃহীত ছবি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে ‘ছায়া মন্ত্রিসভা’ ইস্যুতে। সরকার গঠন ও মন্ত্রিসভা শপথকে ঘিরে যখন জোর আলোচনা চলছে, ঠিক তখনই বিরোধী রাজনীতিতে সামনে এসেছে বিকল্প কাঠামো গঠনের ঘোষণা।


বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) নিরঙ্কুশ বিজয়ের মাধ্যমে ২০ বছর পর সরকার গঠনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। আগামী মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) নতুন সংসদ সদস্য ও মন্ত্রিসভার সদস্যরা শপথ নেবেন। কে হচ্ছেন মন্ত্রী তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে চলছে নানা হিসাব-নিকাশ। এই প্রেক্ষাপটে আলোচনায় আসে ‘ছায়া মন্ত্রিসভা’। এই আলোচনা যখন তুঙ্গে তখন আলোচনার জন্ম দিয়েছে জামায়াত নেতা ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী শিশির মনিরের ‘ছায়া মন্ত্রিসভা’ গঠনের ঘোষণা।


ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সুনামগঞ্জ-২ (দিরাই-শাল্লা) আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পরাজিত হয়েছেন আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির। এরপর তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছায়া মন্ত্রিসভা গঠনের ঘোষণা দিয়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছেন।


শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক স্ট্যাটাসে শিশির মনির লিখেছেন, ‘আমরা ছায়া মন্ত্রিপরিষদ গঠন করব ইনশাআল্লাহ।’ তার এই ঘোষণা রাজনৈতিক মহল ও সাধারণ মানুষের মধ্যে নতুন কৌতূহল সৃষ্টি করেছে। আর এই কৌতূহল আরো বেড়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখমাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার একই ঘোষণার পর।’


আজ রবিবার সকালে আসিম মাহমুদ ফেসবুকে লিখেছেন, ‘আমরা ছায়া মন্ত্রিসভা গঠনের প্রস্তুতি নিচ্ছি। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত এবং সার্বিক কার্যক্রমে ওয়াচডগ হিসেবে কাজ করবে ছায়া মন্ত্রিসভা।’ ছায়া মন্ত্রিসভা কী? বিশ্ব রাজনীতিতে ‘ছায়া মন্ত্রিসভা’ মূলত ওয়েস্টমিনস্টার ধারার সংসদীয় ব্যবস্থার একটি পরিচিত ধারণা। রাজনৈতিক পারিপার্শ্বিকতা অনুযায়ী বিভিন্ন দেশে বিরোধী দলগুলো নিজেদের ‘ছায়া মন্ত্রিসভা’ ঘোষণা করে থাকে। এটি মূলত সরকারের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ, সমালোচনা এবং বিকল্প নীতি প্রস্তাব দেওয়ার জন্য গড়ে তোলা একটি কাঠামো।’


ছায়া মন্ত্রিসভা


সাধারণত সরকারের প্রতিটি মন্ত্রণালয়ের জন্য বিরোধীদল একজন ‘ছায়া মন্ত্রী’ মনোনয়ন করে। এই ছায়া মন্ত্রীদের কাজ হল সরকারের নীতি ও বাজেট বিশ্লেষণ, সমালোচনা করা এবং প্রয়োজনে বিকল্প নীতি বা পরিকল্পনা উপস্থাপন করা। যুক্তরাজ্যে সরকার বিরোধী দলের ছায়া মন্ত্রিসভা নিয়মিত সরকারের নীতি পর্যবেক্ষণ করে, সংসদে প্রয়োজনীয় প্রশ্ন তোলার মাধ্যমে সরকারের জবাবদিহি নিশ্চিত করে।


অস্ট্রেলিয়াতেও একইভাবে বিরোধী দলের ছায়া মন্ত্রিসভা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, ছায়া মন্ত্রিসভা শুধুমাত্র সরকারের সমালোচনা করার জন্য নয়; এটি বিরোধী দলের জন্য রাজনৈতিক প্রশিক্ষণ এবং নির্বাচনের প্রস্তুতির একটি গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার। এতে দলের নেতা–কর্মীরা প্রশাসনিক কাঠামো, বাজেট এবং নীতি প্রণয়ন প্রক্রিয়া সম্পর্কে বাস্তব জ্ঞান অর্জন করেন। ছায়া মন্ত্রিসভার মাধ্যমে বিরোধী দল জনগণের কাছে নিজেদের কার্যকর ও প্রস্তুত দলের ইমেজ দেখাতে পারে।


বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট


বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে আনুষ্ঠানিকভাবে ছায়া মন্ত্রিসভা গঠনের ঘটনা আগে ঘটেনি। প্রচলিত কাঠামোতে ছায়া মন্ত্রিসভা গঠনের কোনও সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা নেই। তবে সংসদীয় গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে বিশেষজ্ঞরা বিভিন্ন সময় ছায়া মন্ত্রিসভা গঠনের ওপর জোর দিয়ে আসছেন।


বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় জবাবদিহি নিশ্চিত করার একটি শক্তিশালী উপায়। বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে ভবিষ্যতে এই কাঠামো আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে, বিশেষ করে যখন ক্ষমতায় থাকা দলগুলোর নীতি পর্যবেক্ষণ জটিল হয়ে ওঠে। এবার জামায়াত নেতা শিশির মনির ও এনসিপি নেতা আসিফ মাহমুদের ঘোষণার পর দেশে ছায়া মন্ত্রিসভা গঠনের এই আলোচনার পালে নতুন হাওয়া লাগল।

    শেয়ার করুন: