সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হক আরো ২ হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার

সংগৃহীত ছবি
জুলাই আন্দোলনকে কেন্দ্র করে রাজধানীর যাত্রাবাড়ী ও আদাবর থানায় পৃথক দুই হত্যা মামলায় সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হককে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। সোমবার (৩০ মার্চ) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জামসেদ আলমের আদালত শুনানি শেষে তাকে গ্রেপ্তার দেখান।
এদিন কারাবন্দি খায়রুল হককে আদালতে হাজির করা হয়। এরপর যাত্রাবাড়ী থানার শিক্ষার্থী মো. আরিফ হত্যা মামলায় এবং আদাবর থানার গার্মেন্টসকর্মী রুবেল হত্যা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর শুনানি হয়। এসময় ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ওমর ফারুক ফারুকী গ্রেপ্তার দেখানো পক্ষে শুনানি করেন৷
ওমর ফারুক ফারুকী বলেছেন, ‘সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হক এসব মামলায় এজাহারনামীও আসামি। প্রধান বিচারপতি হয়ে তিনি দলীয়করণ করে ফ্যাস্টিস শেখ হাসিনাকে সহযোগিতা করেছেন। পঞ্চম সংশোধনী সংবিধানে সব বাদ দিয়ে দিয়েছেন।’
তার অভিযোগ, তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিল করে শেখ হাসিনা ফ্যাস্টিস তৈরি করেছেন। হাসিনাকে ফ্যাস্টিস বানানোর মূল কারিগরি এই আসামি। যার কারণে মানুষ তার ভোটার অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছে।
‘ফ্যাস্টিস সরকারের বিরুদ্ধে কথা বলতে গিয়ে অনেক মানুষকে জীবন দিতে হয়েছে। এসব কারণে সরকার তাকে সব সুযোগ সুবিধা দিয়েছে। মামলার তদন্ত স্বার্থে আসামিকে এসব মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো একান্ত প্রয়োজন।’ - বলে যোগ করেন তিনি।
খায়রুল হকের পক্ষে তার আইনজীবী মোনায়েম নবী শাহিন গ্রেপ্তার না দেখানোর বিষয়ে যুক্তিকতা তুলে ধরেন। তার ভাষ্য মতে, আসামি একজন সাবেক প্রধান বিচারপতি। তিনি জুডিশিয়াল মব সন্ত্রাসীর স্বীকার। একই ঘটনায় তিনটি মামলা দিয়ে তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
তিনি অভিযোগ করেন, গত ৫ মার্চ পাঁচ মামলায় তিনি জামিন পান৷ জামিন পাওয়ার পর পরেই তাকে আরও দুই হত্যা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করা হয়েছে। আসামি জামিন পাওয়ার পরেও তাকে অন্য মামলায় কারাগারে আটকিয়ে রাখা হয়েছে।
‘আসামির ৮১ বছর বয়স। প্রায় এক বছর ধরে তিনি জেলহাজতে আটক রয়েছে। গ্রেপ্তার দেখানো বিরোধিতা করে তার জামিনের প্রার্থনা করছি।’ - বলে জানিয়েছেন নবী শাহিন।
উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আদালত তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন মঞ্জুর করেন। এরপর পুলিশ প্রহরায় তাকে আদালতের হাজতখানায় নেওয়া হয়।
এর আগে গত বছরের ২৪ জুলাই বিচারপতি খায়রুল হককে রাজধানীর ধানমন্ডির বাসা থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এরপর তাকে পাঁচটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। এসব মামলায় তিনি জামিন পেয়ে কারামুক্তির অপেক্ষায় ছিলেন।

