উচ্চ মুনাফার ফাঁদে ৪০০ কোটি টাকা আত্মসাৎ

ছবি: আগামীর সময়
নাজরান ফিশারিজ অ্যান্ড এগ্রো প্রজেক্টের নামে ভুয়া কৃষি প্রকল্পে বিনিয়োগের প্রলোভন দেখিয়ে প্রায় ৪০০ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছে একটি চক্র। চক্রের মো. ওবায়েদুল্লাহ (৩৩) নামে এ প্রতারকে গ্রেপ্তার করেছে অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।
আজ মঙ্গলবার বিকেলে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সংস্থাটির বিশেষ পুলিশ সুপার জসীম উদ্দিন খান।
সিআইডি জানায়, সোমবার মধ্যেরাতে রাজধানীর বাসাবো এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মেট্রো উত্তর ইউনিটের একটি অভিযানিক দল। ওবায়েদুল্লাহর বিরুদ্ধে ভাটারা, উত্তরা পশ্চিম ও সাভারে তিনটি মামলা রয়েছে। এসব মালায় তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত।
সংস্থাটি জানায়, চক্রটি ভুয়া প্রকল্প চালু করে উচ্চ মুনাফার লোভ দেখিয়ে ভুক্তভোগীদের ফাঁদে ফেলে। ১ লাখ টাকা বিনিয়োগ করলে মাসে ৩ হাজার টাকা লাভসহ আসল ফেরত দেওয়া হবে এবং ৩৩ মাসে মূলধন দ্বিগুণ হবে। পরবর্তীতে গ্রাহকদের আস্থা অর্জন করতে বড় অঙ্ক হাতিয়ে নিতে চক্রটি সুকৌশলে প্রথমদিকে কিছু টাকা ফেরত দিয়ে ভুক্তভোগীদের আস্থা অর্জন করে চক্রটি। পরবর্তীতে হাতিয়ে নেয় মোটা অঙ্কের টাকা।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায় যে, এই চক্রের প্রলোভনে আকৃষ্ট হয়ে মামলার বাদী এবং তার তিন বান্ধবী ২০২৩ সালের মে মাসে রাজধানীর কুড়িল চৌরাস্তা সংলগ্ন নাজরান ফিশারীজ অ্যান্ড এগ্রো প্রজেক্টের অফিসে গিয়ে বিনিয়োগ করেন। সেদিন বাদী নিজে ৭ লাখ টাকা এবং অন্য দুই বান্ধবী প্রত্যেকেই ৫ লাখ টাকা করে বিনিয়োগ করেন। বিনিয়োগের প্রমাণ হিসেবে চক্রের সদস্যরা তাদের মানি রিসিট ও মাসিক ক্যাশ ব্যাক বই সরবরাহ করে।
প্রথম দিকে আস্থা অর্জনের জন্য চক্রের সদস্যরা মোট ৪২ হাজার টাকা ফেরত দেয়। এতে ভুক্তভোগীদের আস্থা বৃদ্ধি পায় এবং পরবর্তীতে ২০২৩ সালের জুলাই মাসে ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে আরও ৫০ লাখ টাকা বিনিয়োগ করেন। পরবর্তীতে প্রতারক চক্রের সদস্যরা বিনিয়োগকারীদের বাধ্যতামূলকভাবে প্রজেক্টের প্লট ক্রয়ের কথা বলে বাদীর ও অন্য দুই বান্ধবীর কাছ থেকে মোট ১ কোটি ৬৩ লাখ ৯৮ হাজার টাকা বিনিয়োগের নামে প্রতিষ্ঠানে জমা করতে বাধ্য করে। জমাকৃত অর্থের লভ্যাংশ হিসেবে ১৮ লাখ ৭২ হাজার টাকা ফেরত দিলেও পরবর্তীতে লেনদেন স্থগিত এবং অফিস বন্ধ করে আত্মগোপনে চলে যায়।
সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার জসীম উদ্দিন খানের ভাষ্য, প্রতারক চক্রটি একই কৌশলে অসংখ্য ব্যক্তির কাছ থেকে অর্থ আত্মসাৎ করেছে। নাজরান ফিশারীজ অ্যান্ড এগ্রো প্রজেক্টের নামে পরিচালিত ৪টি ব্যাংক হিসাব, মানি রিসিট পর্যালোচনা এবং অফিসের সার্ভারে থাকা তথ্যানুযায়ী বিভিন্ন ভুক্তভোগী কাছ থেকে প্রায় ৪০০ কোটি টাকা বিনিয়োগের তথ্য পাওয়া গেছে। এ ছাড়া ওবায়েদুল্লাহর ব্যক্তিগত ১৪টি ব্যাংক হিসাবে পাওয়া গেছে প্রায় আড়াই কোটি টাকার লেনদেনের তথ্য।
অন্যদিকে গত বছরের মে মাসে চক্রটির বিরুদ্ধে প্রায় ১৫ হাজার জন ভুক্তভোগীর কাছ থেকে ৮০০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে প্রেস কনফারেন্স ও মানববন্ধন করেন ভুক্তভোগীরা। প্রতারণা চক্রের অন্যান্য সদস্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত আছে বলে জানান তিনি।



