আগামীর সময়

টিআইবির ‘দিব্য দৃষ্টি’ নেই: অর্থ উপদেষ্টা

টিআইবির ‘দিব্য দৃষ্টি’ নেই: অর্থ উপদেষ্টা

সংগৃহীত ছবি

অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) সবকিছু দেখতে পারে না, তাদের চোখে ‘দিব্য দৃষ্টি’ নেই বা ভালো দৃষ্টিও নেই। মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) বিকালে সচিবালয়ে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

এর আগে গতকাল টিআইবি বলেছিল, এই সরকার যতটা দৃশ্যমান দেখাচ্ছে, বাস্তবে উন্নয়ন বা সংস্কার ততটা হয়নি।

অর্থ উপদেষ্টা বলেন, টিআইবির লোকজন দেখতে চাইলেও অনেক কিছু দেখতে পারে না। শুধু আইন বা সংস্কারের ফ্রেমওয়ার্ক দেখলেই হবে না। আমরা কতগুলো প্রসেস সহজ করেছি আপনারা জানেন? আগে বাইরের ওয়েজ স্কিমের জন্য পারমিশন নিতে হত, আমরা বলছি অটোমেটিক হবে। এগুলো আপনি দেখছেন না কেন?

সাংবাদিকদের প্রশ্ন, আগে টিআইবিকে আপনি প্রশংসা করতেন, এখন কেন বাকা চোখে দেখছেন? এর জবাবে তিনি বলেন, না, আমি এখনও টিআইবির বদনাম করছি না। কিন্তু আমি বলি, যেগুলো ফান্ডামেন্টাল বিষয় সেগুলো দেখুন। না দেখার ইচ্ছা থাকলে তো অনেক কিছু করা যায় না। আমি সবসময় বেসিক জিনিসের ওপর কথা বলেছি।

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান সংস্কার কমিশনের সদস্য ছিলেন, এমন কথার জবাবে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, তাদের অবশ্যই প্রত্যাশা আছে। আমরা ভাবছিলাম, সংস্কার সম্পন্ন হবে। কিন্তু সংস্কার করতে হলে সবার সহযোগিতা দরকার। আমি ভেতরে দেখেছি, প্রসেসে এত গলদ আছে, বাইরে কেউ বুঝতে পারবে না। আমি অর্থ মন্ত্রণালয়ে অনেক কিছু ব্যবহার করেছি। অর্থ সচিব বা অন্যরা দ্রুত সমাধান দিচ্ছেন, আমি তাত্ক্ষণিক সমাধান দেই, অন্যরা পারছে না। তাদের হতাশা আছে।

তিনি বলেন, আমি সিভিল সার্ভিসে ছিলাম, ট্রেনিং নিয়েছি। জানি কিভাবে কাজ করতে হয়। সহযোগিতা না পেলে সব কঠিন। বাংলাদেশে কাজ করা সত্যিই কঠিন, প্রসেসগুলো জটিল, অনেক ইন্টারভেনশন আছে। জট ছাড়ানোর মতো।

সাংবাদিকরা প্রশ্ন করেন, এটা কি আমলাতান্ত্রিক? এর জবাবে তিনি বলেন, নিশ্চয়ই, এটি আমলাতান্ত্রিক একটি অংশ। এছাড়া যারা সিস্টেম তৈরি করেছে, আইন করেছে, তারা আইনগুলো ভালোভাবে কার্যকর করেনি। আমার সময়ে ব্যাংকে দুই-তিনজন ছিলেন (একই পরিবার থেকে), পরের মন্ত্রী এসে ছয়জন বা আরও বেশি করে দিলেন। এ ধরনের ভুলের কারণে সামনের দিকে না গিয়ে পিছনে চলে আসছে।

    শেয়ার করুন: