আগামীর সময়

বয়সের তুলনায় বয়স্ক দেখাচ্ছে জেন–জিদের : গবেষণা

বয়সের তুলনায় বয়স্ক দেখাচ্ছে জেন–জিদের : গবেষণা

সংগৃহীত ছবি

ইনস্টাগ্রাম ও টিকটকে বেশ কিছুদিন ধরেই একটি বিষয় নিয়ে জোর আলোচনা চলছে—জেন–জি প্রজন্ম নাকি তাদের বয়সের তুলনায় বেশি বয়স্ক দেখায়, আর একই বয়সে মিলেনিয়ালরা ছিলেন তুলনামূলকভাবে বেশি তরুণ-সদৃশ। ইনফ্লুয়েন্সার ও কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের এমন ভিডিও মিলিয়ন মিলিয়ন ভিউ পাচ্ছে, আর মন্তব্যের ঘরে চলছে নানা ধরনের তর্ক-বিতর্ক। কেউ জেন–জি পরিচয়ে বিষয়টিকে ব্যক্তিগতভাবে নিয়ে প্রতিবাদ জানাচ্ছেন, আবার কেউ যুক্তি ও তথ্যভিত্তিক আলোচনায় অংশ নিচ্ছেন।



এবার এই দাবির পেছনে কিছু বাস্তব ভিত্তির ইঙ্গিত মিলেছে। ভারতের মুম্বাইভিত্তিক গবেষণাপ্রতিষ্ঠান হ্যাপিনেস রিসার্চ একাডেমির এক গবেষণায় উঠে এসেছে, বয়সের সঙ্গে চেহারার এই পার্থক্যের পেছনে প্রজন্মভেদে জীবনযাপন ও অভ্যাসগত কিছু গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।

হ্যাপিনেস রিসার্চ একাডেমির এই গবেষণায় নৃবিজ্ঞান, চর্মরোগ ও অ্যাসথেটিক মেডিসিনের বিশেষজ্ঞরা যুক্ত ছিলেন। গবেষকদের মতে, ১৯৮৫ থেকে ১৯৯৫ সালের মধ্যে জন্ম নেওয়া মিলেনিয়ালদের খাদ্যাভ্যাস ও রূপচর্চায় তুলনামূলকভাবে বেশি স্বাস্থ্যকর ধারা দেখা যায়। এর ফলে তাঁদের চেহারায় তারুণ্য ও সতেজতার ছাপ স্পষ্ট। বিপরীতে, ১৯৯৬ থেকে ২০১২ সালের মধ্যে জন্ম নেওয়া জেন–জির ক্ষেত্রে অতিরিক্ত প্রসাধনী ব্যবহার এবং অস্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের প্রবণতা বেশি হওয়ায় তার নেতিবাচক প্রভাব চেহারায় ফুটে উঠছে।

তবে এর অর্থ এই নয় যে মিলেনিয়াল প্রজন্মের সবাই তরুণ দেখায় বা জেন–জির সবাই বয়স্ক দেখায়। বরং সামগ্রিকভাবে প্রজন্মভিত্তিক আচরণ ও বাহ্যিক বৈশিষ্ট্যের গড় প্রবণতাকেই এই আলোচনায় বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।

টিকটকে ভাইরাল হওয়া বিভিন্ন ট্রেন্ডের সারমর্ম অনুযায়ী, ১৯৮৫ থেকে ১৯৯৫ সালের মধ্যে জন্ম নেওয়া ব্যক্তিরাই ত্বকের যত্ন নিয়ে তুলনামূলক বেশি সচেতন। যদিও কিছু গবেষকের মতে, প্রকৃতপক্ষে ১৯৮১ থেকে ১৯৯৬ সালের মধ্যে জন্ম নেওয়া মিলেনিয়ালরাই ত্বকের যত্ন ও স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস সম্পর্কে সবচেয়ে ভালো ধারণা অর্জন করেছেন। এর ফলেই অন্য প্রজন্মের তুলনায় তাঁদের চেহারা বেশি উজ্জ্বল ও সতেজ দেখায়।

অন্যদিকে, জেন–জি প্রজন্ম খুব অল্প বয়সেই প্রসাধনী বিষয়ে জ্ঞান অর্জন করেছে। ফলে ভালো–মন্দ বিচার করার আগেই অনেকেই এসব পণ্য ব্যবহার শুরু করেছেন। পাশাপাশি, রাত জাগা, অস্বাস্থ্যকর খাবার ও অনিয়মিত জীবনযাপনের অভ্যাস এই প্রজন্মের মধ্যে বেশি হওয়ায় চেহারায় তার প্রভাব পড়ছে।

লন্ডনভিত্তিক কসমেটিক ও অ্যাসথেটিক বিশেষজ্ঞ ডা. রাশা রাখশানি-মোগাদাম বলেন, অল্প বয়সে—বিশেষ করে কৈশোরে—প্রয়োজন ছাড়া অতিরিক্ত ফিলার ও টক্সিন ব্যবহার করলে মুখের স্বাভাবিক ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে। ঠোঁট, চোয়াল বা মুখের কোনো একটি অংশে অতিরিক্ত গুরুত্ব দেওয়ার ফলে মুখের অন্যান্য অংশে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে, যা সামগ্রিক চেহারার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।

তিনি আরও বলেন, মিলেনিয়ালরা শুধু জেন–জির তুলনায় নয়, তাদের আগের প্রজন্মের চেয়েও স্বাস্থ্যকর অভ্যাসের দিকে বেশি মনোযোগী। খাবার ও ত্বকের যত্নে তাঁরা দীর্ঘদিন ধরেই স্বাস্থ্যসম্মত পদ্ধতিকে গুরুত্ব দিয়ে আসছেন।

ত্বকের যত্ন ও বয়স নিয়ে বিভিন্ন প্রজন্মের সচেতনতা বিশ্লেষণ করে করা একটি গবেষণা নিবন্ধ সম্প্রতি ‘সায়েন্স ডিরেক্ট’-এ প্রকাশিত হয়েছে। সেখানেও একই ধরনের প্রবণতার কথা উঠে এসেছে। গবেষণায় বলা হয়েছে, মিলেনিয়ালদের এসব বিষয়ে বাস্তব অভিজ্ঞতা বেশি। জেন–জি আধুনিক প্রসাধনী সম্পর্কে তুলনামূলক বেশি জানলেও কম বয়সে নানা ধরনের প্রসাধনী ও অ্যাসথেটিক ট্রিটমেন্ট নেওয়ার কারণে তাঁদের ত্বকে বিরূপ প্রভাব পড়ছে। পাশাপাশি, তুলনামূলক অস্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের কারণে জেন–জির ত্বকে বার্ধক্যের ছাপ দ্রুত দেখা দিচ্ছে।

    শেয়ার করুন: