ডিবি
মানব পাচার মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে

এক-এগারোর সময়ের আলোচিত সাবেক সেনা কর্মকর্তা মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে রাজধানীর পল্টন থানার মানব পাচারের মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) দুপুর ২টার দিকে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানালেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম।
‘গতকাল সোমবার রাতে রাজধানীর বারিধারা থেকে সাবেক সংসদ সদস্য মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, তার বিরুদ্ধে ফেনী জেলায় ৬টি মামলা আছে। আর ঢাকা মহানগর এলাকায় মামলা আছে ৫টি। মোট মামলা ১১টি। প্রাথমিকভাবে তাকে পল্টন থানার একটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে। মানব পাচারের অভিযোগে এ মামলা করা হয়, জানালেন ডিএমপির ডিবি প্রধান শফিকুল ইসলাম।
‘মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর বিরুদ্ধে থাকা ১১টি মামলার মধ্যে ফেনী জেলার ৩টির বিচার কার্যক্রম চলমান। মামলা বিচারাধীন অবস্থায় তিনি পলাতক ছিলেন। এ কারণে তার বিরুদ্ধে আদালত গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছিলেন,’ বর্ণনা করলেন তিনি।
‘মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর বিরুদ্ধে রাজধানীর পল্টন, বনানী, কোতোয়ালি, মিরপুর ও হাতিরঝিল থানায় হত্যা, হত্যাচেষ্টা, মানব পাচারসহ বিভিন্ন গুরুতর অপরাধের অভিযোগে মামলা আছে। এ ছাড়া তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগে (সিআইডি) একাধিক অভিযোগ রয়েছে, যা বর্তমানে তদন্তাধীন বলেও ব্রিফিংয়ে বলছিলেন শফিকুল ইসলাম।
মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী ২০০৭ সালে সেনাবাহিনীর নবম ডিভিশনের জিওসির দায়িত্বে ছিলেন। তিনি এক-এগারোর পটপরিবর্তনে অন্যতম প্রধান ভূমিকায় ছিলেন। তখন তিনি গুরুতর অপরাধ দমনসংক্রান্ত জাতীয় সমন্বয় কমিটির সমন্বয়ক হন। পদোন্নতি পেয়ে লেফটেন্যান্ট জেনারেল হন। এই কমিটির অধীনই তখন দুর্নীতিবিরোধী অভিযান পরিচালিত হয়।
২০০৮ সালে মাসুদ উদ্দিন অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশের হাইকমিশনার নিযুক্ত হন। এরপর আওয়ামী লীগ সরকার তিন দফায় তার চাকরির মেয়াদ বৃদ্ধি করে। অবসর গ্রহণের পর তিনি ঢাকায় রেস্তোরাঁসহ একাধিক ব্যবসায় যুক্ত হন।
মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী জাতীয় পার্টির (জাপা) মনোনয়নে দুই দফায় (২০১৮ ও ২০২৪) ফেনী-৩ আসনের (সোনাগাজী-দাগনভূঞা) সংসদ সদস্য ছিলেন। ২০১৮ সালে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফেনী-৩ আসনে মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী প্রথমে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চেয়ে ফরম কিনে জমা দিয়েছিলেন। পরে তিনি জাতীয় পার্টিতে যোগ দেন। দলটির নীতিনির্ধারণী পর্ষদ সভাপতিমণ্ডলীর সদস্যপদ পান। জাপার মনোনয়নে নির্বাচন করেন।

