সংসদে প্রধানমন্ত্রী
ফ্যাসিস্ট আমলে ২৩৪ বিলিয়ন ডলার পাচার

সংগৃহীত ছবি
‘২০০৯ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত ‘ফ্যাসিস্ট’ আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বাংলাদেশ থেকে আনুমানিক ২৩৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিদেশে পাচার হয়েছে। এর প্রেক্ষিতে দেশে-বিদেশে এ পর্যন্ত ক্রোক ও অবরুদ্ধ করা হয়েছে প্রায় ৭০ হাজার ৪৪৬ কোটি টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ।’
আজ বুধবার জাতীয় সংসদে কুমিল্লা-৯ আসনের সংসদ সদস্য মো. আবুল কালামের লিখিত প্রশ্নের জবাব দিচ্ছিলেন সরকারপ্রধান তারেক রহমান। এ সময় সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের গঠিত শ্বেতপত্র প্রণয়ন কমিটির তথ্য তুলে ধরছিলেন প্রধানমন্ত্রী।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ষষ্ঠ দিনে পাচার হওয়া অর্থ পুনরুদ্ধারে সরকারের কঠোর পদক্ষেপের কথা জানান তারেক রহমান।
প্রধানমন্ত্রী বলছিলেন, ‘শ্বেতপত্র প্রণয়ন কমিটির তথ্যমতে, ২০০৯ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে বাংলাদেশ থেকে অবৈধ অর্থপ্রবাহের পরিমাণ আনুমানিক ২৩৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার; যা বছরে গড়ে ১৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার (প্রায় ১ দশমিক ৮ লাখ কোটি টাকা)। পাচার করা এ অর্থ একাধিক দেশে স্থানান্তরিত হওয়ার অভিযোগ থাকায় তা উদ্ধারে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে তথ্য বিনিময়, সম্পদ শনাক্তকরণ এবং পারস্পরিক আইনি সহায়তায় জোরদার করা হচ্ছে।’
‘অর্থপাচারের গন্তব্য হিসেবে প্রাথমিকভাবে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা, সুইজারল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, থাইল্যান্ড, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া এবং হংকং-চীনকে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে তিনটি দেশ— মালয়েশিয়া, হংকং এবং আমিরাতের সঙ্গে ‘পারস্পরিক আইনি সহায়তা চুক্তি’ সইয়ের বিষয়ে সম্মতি মিলেছে। অপর দেশগুলোর সঙ্গে চুক্তি সইয়ের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন। এ লক্ষ্যে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয় ও সংস্থার সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করছে’, যোগ করেন তিনি।
পাচারকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া সম্পর্কেও মন্তব্য করেন বিএনপি চেয়ারম্যান। ‘ইতোমধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের সভাপতিত্বে একটি আন্তঃ সংস্থা টাস্কফোর্স গঠিত হয়েছে। এই টাস্কফোর্সের চিহ্নিত ও অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত ১১টি মামলায় পাচার হওয়া অর্থ পুনরুদ্ধারের আইনি প্রক্রিয়া চলমান। মামলাগুলোর অনুসন্ধান ও তদন্তের জন্য দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) নেতৃত্বে এবং পুলিশের সিআইডি, এনবিআরের সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স সেল ও শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের সমন্বয়ে ১১টি যৌথ অনুসন্ধান ও তদন্ত দল গঠন করা হয়েছে।’
১৪ এপ্রিল কৃষক কার্ড বিতরণ কর্মসূচি
সিলেট-২ আসনের সংসদ সদস্য তাহসিনা রুশদী জানতে চান আগামী ১৮০ দিনের কার্যক্রমসহ নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়ন কার্যক্রম ও অগ্রগতি নিয়ে। সরকারপ্রধান বলছিলেন, ‘নির্বাচনী ইশতেহারে ঘোষিত কার্যক্রম বাস্তবায়নে সব মন্ত্রণালয় বা বিভাগ আগামী ১৮০ দিন, আগামী অর্থবছর এবং আগামী ৫ বছরের কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিয়েছে।’
ইতোমধ্যে নির্বাচনী ইশতেহারে ঘোষিত কতিপয় গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম বাস্তবায়নে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে বলে উল্লেখ করছিলেন তিনি। এ সময় আগামী ১৪ এপ্রিল পরীক্ষামূলকভাবে ‘কৃষক কার্ড’ বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধন হবে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।
‘কৃষকের সার্বিক সুরক্ষায় সরকার কৃষক কার্ড দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে। প্রাথমিক পর্যায়ে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মাধ্যমে ৮টি বিভাগের ১০টি জেলার ১১টি উপজেলার ১১টি ব্লকে পাইলটিং করা হবে। এ ছাড়া নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নে সরকার ইতোমধ্যে শস্য, ফসল, পশুপালন ও মৎস্য খাতে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ করেছে।’
তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নে প্রাথমিক পর্যায়ে ঈদুল ফিতরের আগেই ৩২৯৫ জন ইমাম, ২ হাজার ৯৭৫ জন মুয়াজ্জিন, ২ হাজার ৬০৪ জন খাদেম এবং হিন্দু মন্দিরের ১১৪ জন পুরোহিত, ৮৩ জন সেবাইত, বৌদ্ধ বিহার বা প্যাগোডার ১৫ জন অধ্যক্ষ ও ১৬ জন উপাধ্যক্ষসহ সর্বমোট ৯ হাজার ১০২ জন উপকারভোগীর ব্যাংক অ্যাকাউন্টে সম্মানি পাঠানো হয়েছে।
এছাড়া পাইলটিং কার্যক্রমের আওতায় খুলনা জেলায় ২৫ লাখ ই-হেলথ কার্ড দিতে একটি প্রকল্প অনুমোদনের পথে রয়েছে বলে জানান সংসদে।

